Advertisement

Aparajita Adhya: 'শুভেন্দু অধিকারী ডাকলেও যাব', অরূপের 'ভাইফোঁটা'য় গিয়ে ট্রোলড, পাল্টা দিলেন অপরাজিতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করা যে একটি সামাজিক শিষ্টাচার, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর কোনও মন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটাই ভদ্রতা বা সৌজন্যবোধ।” মতাদর্শ আলাদা হলেও ন্যূনতম সৌজন্য রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

অপরাজিতা আঢ্যঅপরাজিতা আঢ্য
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 08 Jun 2026,
  • अपडेटेड 4:22 PM IST
  • অপরাজিতা তাঁর ভিডিও বার্তায় জানান যে অনেকেই বোঝেন না যে সৌজন্য বিষয়টি আসলে কী।

প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতারের পর এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মেসি কাণ্ডের জেরে আইনি জটিলতায় ফেঁসে যাওয়ায় টলিউডে তাঁদের পুরনো ভাইফোঁটার ভিডিও-ছবি আবার ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি শ্রীলেখা মিত্রকেও এই নিয়ে ছবি-ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যায়। যেখানে অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দিতে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্যকে। এরপরই অভিনেত্রীকে ক্রমাগত ট্রোল-কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এই ট্রোলিংয়ের জবাব দিয়েছেন অপরাজিতা। ভিডিও বার্তায় অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সৌজন্য ও রাজনৈতিক সমর্থন এক জিনিস নয়। 

অপরাজিতা তাঁর ভিডিও বার্তায় জানান যে অনেকেই বোঝেন না যে সৌজন্য বিষয়টি আসলে কী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে অনেক গুণী ব্যক্তিরা আসতেন, তাঁদের মধ্যে অভিনেত্রীও ছিলেন। তিনি সৌজন্য বোধের খাতিরেই ওখানে যেতেন বলে জানান। অপরাজিতা বলেন, আমি সৌজন্যের জন্য যেতাম বলে সেই দলের মতাদর্শকেও সমর্থন করি সেটা একেবারেই নয়। এটা অত্যন্ত অন্যায় এবং যাঁরা এটা করছে, সৌজন্য ও সমর্থনকে গুলিয়ে ফেলছেন। ভাইফোঁটা প্রসঙ্গে অপরাজিতা বলেন, যদি কেউ কাউকে ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানে নিজে ফোন করে আমন্ত্রণ করেন, তাঁর অনুষ্ঠানে যাওয়া আমাদের নাগরিক হিসাবে কর্তব্য। 

কাজ পাওয়ার জন্য তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হন, এই অভিযোগের জবাবে তীব্র নিন্দা করেছেন অপরাজিতা। ট্রোলারদের উদ্দেশ্যে তিনি সরাসরি বলেন, “সবাই কাজের লোভে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে সাংসদ শতাব্দী রায় সব ছবির নায়িকা হতেন। কারণ, দীর্ঘ অনেকগুলো বছর ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।” সায়নী ঘোষেরও কাজের অভাব হত না বলে জানান তিনি। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে তিনি জানান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘দাদা’-তে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার আগে টানা ছ’মাস কোনও কাজ ছিল না তাঁর। মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে তাঁকে এভাবে বসে থাকতে হত না বলেই দাবি অভিনেত্রীর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অশালীন মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমন্ত্রণ রক্ষা করা যে একটি সামাজিক শিষ্টাচার, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর কোনও মন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটাই ভদ্রতা বা সৌজন্যবোধ।” মতাদর্শ আলাদা হলেও ন্যূনতম সৌজন্য রক্ষা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিনি স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে বলেন “যে মানুষটিকে নিয়ে কথা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে আমি সামনাসামনি কথাই বলিনি, তাঁর সম্পর্কে হোক বা বিপক্ষে আমি কোনওদিনই কোনও কথা বলিনি, কোথায় দেখা গেল যে আমি পাল্টিবাজ?”

Advertisement

ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চলা অন্যায় সিস্টেম ও ব্যান কালচার বিরুদ্ধেও নিজের প্রতিবাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে অপরাজিতা। অতীতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দেবের ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে কাজ করতে এককথায় রাজি হয়েছিলেন। রাজি হন ব্যান হয়ে যাওয়ার পর সুদেষ্ণা রায়ের সঙ্গে কাজ করতেও। সব প্রতিবাদ যে চেঁচামেচি করে হয় না, তা বোঝাতে তিনি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বুম্বাদা শিক্ষিত, বিচক্ষণ। তিনি জানতেন, ওই সময়ে ‘ব্যান’ সংস্কৃতি বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি ছিল না। তাই তিনি পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।” 

ট্রোলারদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এই সব সহ্য করতে করতে ক্লান্ত। আর পারছি না। এই নোংরামির বিরুদ্ধে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। 

Read more!
Advertisement
Advertisement