
একটা হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস। ব্যস, তাই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে টলিপাড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইকে বসে মৌমিতা পণ্ডিত, দোলের দিন অভিনেত্রীর গালে হলুদ আবির ছোঁয়ালেন রাহুল। আর সেই ভিডিও রাহুলের মৃত্যুর প্রায় পাঁচমাস পর মৌমিতা তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিতেই তাঁর ও রাহুলের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তা নিয়েই গত কয়েকদিন ধরেই কাটাছেড়া চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারকাদের একের পর এক পোস্টে কাঠগড়ায় মৌমিতা। রীতিমতো মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অভিনেত্রী। এই ধরনের বিষয় যে হয়ে যাবে তা ভাবতেও পারেননি। bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে খোলামেলা কথা বললেন মৌমিতা।
মৌমিতা তাঁর ও রাহুলের সম্পর্কের বয়স প্রসঙ্গে সেভাবে কিছু জানাতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, এখন এটা কোনও ম্যাটার করছে না। কতদিন, কতমাস, ৫ দিন না ৫ বছর এটার এখন সত্যিই কোনও অস্তিত্ব নেই। তবে রাহুলের মৃত্যুর খবর যেদিন পান, সেদিনও অভিনেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন। মৌমিতা বলেন, রাহুলের মৃত্যুর কিছুঘণ্টা আগেও কথা বলেছি। তারপর হঠাৎ করেই ফেসবুকে খবরটা নজরে আসে। প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরে এক পরিচিতর কাছ থেকে এটা জানতে পারি। সেই সময় আমি তাঁকে গড়গড় করে বলে গেছি সব। অভিনেত্রী আরও বলেন, তারপর আমি রাহুলের বাড়ি যাই। আমি ইচ্ছে করেই প্রকাশ্যে আসিনি। কিন্তু ওই অন্যদের মতো সস্তার পাবলিসিটি করিনি তো তাই আমি খারাপ। ওই চালাকিটা করলে আমি মহান হয়ে যেতাম। আমি ভয়ে বেরোই নি, লোকে যদি কিছু বলে আমি কেন আছি। যে এই বিষয়টাকে বাঁচাতে চেয়েছে আজ তাঁকেই সবাই বাজারি করে দিয়েছে। আমি সেই সময় নিজের মধ্যেই ছিলাম না, নিজেকে না মেরে দিয়েছিলাম। আমার সেই মুহূর্তে যেটা করা দরকার সেটাই করেছিলাম। কিন্তু এতকিছু করেও কি লাভ হল কিছু? সেই তো আমার ওপরই দায় এসে চাপল সমস্ত কিছুর।
এতদিন পরে কেন সম্পর্ককে প্রকাশ্যে আনলেন? এই নিয়ে মৌমিতা বলেন, আমি আমার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে গান দিয়ে একটি মাত্র ভিডিও দিয়েছিলাম। এটা কোনও নোংরা ভিডিও কিন্তু নয়। আমি তো রাহুলের মৃত্যর পরে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিয়েছি আমাদের সম্পর্ক নিয়ে। কই তখন তো কেউ দেখেনি, কেউ জানতেও চায়নি, কেউ পাত্তাও দেয়নি। আমার থেকে কেউ যখন জানতে চেয়েছে সেই পোস্টগুলি নিয়ে, আমি তাঁদের হ্যাঁ বলেছি, সেরকমই যখন ওই স্টেটাস দেখার পর সংবাদমাধ্যম জানতে চেয়েছে আমি তাদেরকেও সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছি।
মৌমিতা জানান যে তিনি সম্পর্ক নিয়ে কোনও মিথ্যা কথা বলা পছন্দ করেন না। অভিনেত্রীর কথায়, আমার হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে রাহুল ও আমার ভিডিও দিয়ে আমি অপরাধ করে ফেলেছি, আমি তো দিতে পারি না। এটা ৩ মার্চের ফুটেজ, যেটা সেদিনই আমি সংগ্রহ করি। আমার সেরকম ইচ্ছে থাকলে ওই ফুটেজ আমি ২৯ মার্চ বা ৩০ মার্চও দিতে পারতাম। কিন্তু দিই নি। আমি এতদিন পর আমার হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিয়েছি, যেটা কেউই দেখে না। আসলে আমার এবং আমার জীবন নিয়ে কেউ এত চিন্তাভাবনা করে না, কারোর কিছু যায় আসে না কী ঘটছে আমার সঙ্গে। কিন্তু রাহুল যেহেতু জড়িয়ে, তাই সকলের নজরে পড়েছে। অথচ এর আগে আমার ফেসবুক জুড়ে রাহুল ও আমার সম্পর্কের একাধিক ইঙ্গিত রয়েছে, কিন্তু সেগুলো তখন লাইমলাইটে আসেনি। কেউ জিজ্ঞাসাও করেনি।
তবে এতদিন চুপ থাকার পর এবার নীরবতা ভেঙেছেন মৌমিতা। ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট লিখে নিজের বক্তব্যকে সামনে এনেছেন তিনি। নিন্দুকদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লেখেন তিনি। বিগত কয়েকদিন ধরেই পরিচিত তারকা বন্ধু ও অপরিচিতদের থেকে শুধুই তাঁর নিন্দা, কটু কথা শুনতে পেয়েছেন। মৌমিতা অপরিচিত নয়, পরিচিতদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁরা তো কিছু পোস্ট করার আগে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন। ক্ষুব্ধ মৌমিতা লেখেন, সত্য জানার আগেই পোস্টটা লিখে ফেলতে হবে আমাকে যাতে সস্তা বাজারী মিথ্যেবাদী ধন্দাবাজ ফুটেজখোর নোংরা মহিলা, জালি, অসভ্য, আরও কত কী বিশেষণ দেওয়া যায়। তার জন্য সিনিয়রদেরও অবদান রইল। ধন্যবাদ। প্রেমের মিথ্যা প্রচারের দাবি উঠেছে মৌমিতার বিরুদ্ধে। এপ্রসঙ্গেও সরব অভিনেত্রী। তবে ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়রদের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের পক্ষে সাফাই তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে দিয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন মৌমিতা।