
বেশ কয়েক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রূপাঞ্জনা মিত্র। কিন্তু ভোল বদলাতে খুব বেশিদিন সময় লাগেনি। ভারতীয় জনতা পার্টি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন অনেকদিনই হল। দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বনাম বিজেপির জোরদার টক্কর। আর এই অবস্থায় দলের হয়ে প্রচার সারছেন রূপাঞ্জনা। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রাক্তন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বহু কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। তবে এবারে ধর্ষণের হুমকি পাচ্ছেন অভিনেত্রী। দ্বিতীয় দফা ভোটের আগেই গেরুয়া শিবিরকে একহাত নিলেন টলিপাড়ায় সিনিয়র অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা।
রবিবার রাতের দিকে রূপাঞ্জনা তাঁর ফেসবুক পেজে লাইভ করে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অভিনেত্রী জানিয়েছেন, অন্য শিল্পীদের মতো তিনিও সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্যের শিকার। আর সেই ভিডিওতেই অভিনেত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ তিনি নাকি ধর্ষণের হুমকিও পাচ্ছেন। রূপাঞ্জনা লাইভ ভিডিওতে বলেন, আপনারা যে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করছেন মহিলাদের, আপনারাই রাত দখল করেছিলেন তাই না? আপনাদের মধ্যে কারা রাত দখল করেছিল যারা এই ধরনের ধর্ষণের হুমকি দেয় মহিলাদেরকে? অভিনেত্রী এরপর জোর গলায় বলেন, বেশ করেছি। আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস যোগ করেছি, আপনাদের কী? রূপাঞ্জনা এরপর জানান যে শুধু তাই নয়, তাঁর মাকেও উল্টো পাল্টা ভাষায় গালাগালি করা হচ্ছে। পরিবারের ওপর আঘাত হানায় তা সহ্য করবেন না রূপাঞ্জনা। বিজেপি সমর্থকদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করতে তো সাহস প্রয়োজন হয় না, মুখোমুখি হলে বোঝা যাবে কার দৌড় কতখানি।
রূপাঞ্জনার বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ায় কটূভাষায় আক্রমণ করা হয়। রূপাঞ্জনা দাবি, দীর্ঘ ২৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জমি শক্ত করেছেন। একজন সফল নারী হিসেবে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। সব কিছুর ঊর্ধ্বে তিনি একজন মহিলা। আর একজন মহিলার প্রতি এমন নিম্নরুচির মন্তব্য কীভাবে সম্ভব বিজেপির বিরুদ্ধে সেই প্রশ্নই তুলেছেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিনেত্রী বলেন, সাচ্চা বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। অভয়ার জন্য নাকি রাতদখল করেছিলেন। আরে, আপনারা তো চোখ দিয়েই রেপ করে দেন। তারপর নির্লজ্জের মতো ধর্ষণ নিয়ে কথা বলেন। নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন অথচ একজন মহিলাকে সোশাল মিডিয়ায় ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছেন। যে ভাষা ব্যবহার করেন, অশালীন গালিগালাজ করেন তাতেই বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতায় এলে কী পরিণতি হবে।
প্রসঙ্গত, অতীতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও রূপাঞ্জনা অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হুমকি পাচ্ছেন। সেই সময়ও তিনি বলেছিলেন তাঁর কাছে সব স্ক্রিনশট আছে। সেই সময় রূপাঞ্জনার সঙ্গে শ্রীলেখা মিত্রের ঠান্ডা লড়াইও ধরা পড়েছিল। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের ট্রোলড হওয়া নতুন কিছু নয়। এর আগেও একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।