
বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকা ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে আরও একবার উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। রবিবার ১২ বছরের নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ-প্রশাসন এই বিষয়ে তৎপরতা দেখালেও সাধারণ মানুষ থেকে টলিউড তারকারা নিজেদের ক্ষোভ জাহির করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এবার টলিউডের লেডি সুপারস্টার শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ও বারুইপুর কাণ্ডে নিজের রাগ-বিরক্তি প্রকাশ করলেন সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।
শুভশ্রীর দুই সন্তানের মধ্যে একটি কন্যা সন্তান। তাঁর মেয়ে ইয়ালিনিও বড় হচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবে এই ঘটনায় নায়িকার উদ্বেগ বেড়েছে বই কমেনি। শুভশ্রী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পেজে লেখেন, শিশু থেকে বৃদ্ধা- কোনও বয়সই আজ আর নিরাপদ নয়। এই বিকৃত মানসিকতার মানুষগুলো থামছে না, আর থামবেও না, যতদিন না তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। শাস্তির অভাবই তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে বারবার এমন নৃশংস অপরাধ করার সাহস জোগাচ্ছে। শুভশ্রী আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ-সবই হচ্ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও পরিচিত কিংবা অচেনা কোনও নারী এমন নৃশংসতার শিকার হচ্ছেন। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। বারুইপুরের ঘটনাও আমাদের আবার মনে করিয়ে দিল, আমরা এখনও কতটা অসহায়। প্রশ্ন একটাই, এর শেষ কোথায়? আর কত নিরীহ নারীকে এই বর্বরতার শিকার হতে হবে? আর কত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে? এই প্রশ্নগুলো এখন শুধু ক্ষোভ নয়, গভীর যন্ত্রণা হয়ে মনে জমে আছে। এমন একটি সমাজের অপেক্ষায় আছি, যেখানে অপরাধীরা ভয় পাবে, আর নারীরা ভয়মুক্ত হবে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর কাণ্ডের সময়ও শুভশ্রীকে গর্জে উঠতে দেখা গিয়েছিল। পথে নেমে প্রতিবাদ থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজের ক্ষোভ জাহির করেছিলেন লেডি সুপারস্টার। ব্যক্তিগত জীবনে শুভশ্রী নিজে এক আড়াই বছরের কন্যাসন্তানের (ইয়ালিনি) মা। আর সেই কারণেই বারুইপুরের এই ঘটনা একজন মা হিসেবে তাঁর মনকে পুরোপুরি চুরমার করে দিয়েছে। টলিউডের দাপুটে নায়িকা শুভশ্রী যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধেই নিজের মতো করে প্রতিবাদ করেন। আর বারুইপুর কাণ্ড আরও একবার দাগ কাটলো সকলের মনে।
কয়েকদিন আগেই ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে দেবের সাপোর্টে হাজির হয়েছিলেন শুভশ্রী। কাজের ক্ষেত্রে আপতত দেশু৭ নিয়ে ব্যস্ত নায়িকা। এসেছিলেন দেবের দাদাগিরি সিজন ১১-এর মঞ্চেও। বারুইপুর কাণ্ডের পর টলিপাড়ার কিছু শিল্পীকে সমাজ মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে। এবার সেই তালিকায় শুভশ্রীর নাম জুড়ে গেল।