
টলিপাড়ায় এখন নতুন চর্চার বিষয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিতের প্রেমের গল্প। সম্প্রতি মৌমিতা নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে তাঁর ও রাহুলের একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ শেয়ার করেছিলেন। যেখানে অভিনেত্রীর গালে আবির দিচ্ছেন প্রয়াত অভিনেতা রাহুল। আর এই স্ট্যাটাস সামনে আসতেই সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় অভিনেত্রীকে। আর সেখানেই মৌমিতা অরপটে স্বীকার করে নেন তাঁর ও রাহুলের সম্পর্কের কথা। আর এটা প্রকাশ্যে আসার পরই টলিউডের একাধিক তারকা অভিনেত্রী মৌমিতাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে রাহুল-মৌমিতার সম্পর্ক নিয়ে কাটাছেড়া। আর তারই মাঝে বোমা ফাটালেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
গত মার্চের ২৯ তারিখ তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় রাহুলের। সেই মৃত্যুর কিনারা এখনও হয়নি। আর অভিনেতার মৃত্যুর ৫ মাস পর হঠাৎ করে তাঁর সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে চলে আসায়, অনেকেই তা মেনে নিতে পারছেন না। রাহুলের মৃত্যুর সময় সব সময়ই দেখা গিয়েছিল সুদীপ্তা চক্রবর্তীকে। খুব কাছের একজনকে হারিয়েছেন তিনি, এ কথা বারবার বলেছেন। এবার মৌমিতা পণ্ডিতকে একহাত নিলেন সুদীপ্তা। যেখানে অভিনেত্রীকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী।
সুদীপ্তা তাঁর পোস্টের মাধ্যমে মৌমিতাকে নিশানা করে জানিয়েছেন যে বাবিনের (রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়) মৃত্যুর সাড়ে চার মাস পর হঠাৎই অভিনেত্রী তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। অভিনেত্রীর কথায়, প্রেম খুবই ব্যক্তিগত ব্যাপার, তা ব্যক্তিগত রাখাই বাঞ্ছনীয় ছিল, বিশেষ করে একজন যখন এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলার জায়গাতে আর নেই। এরপরই সুদীপ্তা রাহুলের ছেলে সহজের প্রসঙ্গ টেনে এনে জানান যে অভিনেতার প্রায়-বয়ঃসন্ধিক্ষণে পৌঁছানো সন্তান রয়েছে, যে তার বাবারে আর কোনওদিন পাবে না। কিন্তু এই অপমান তাকে মুখ বুঁজে সহ্য করে যেতে হবে। সুদীপ্তা বলেন, তার মা, দাদা, কাছের বন্ধু আত্মীয়রাও বেঁচে রয়েছেন তাঁদের আদরের বাবিনকে হারানোর শোক বয়ে নিয়ে এবং তার একদা বিবাহিত স্ত্রী ও আছেন যিনি তোমার থেকে বয়সে সম্ভবত ছোট কিন্তু অভিনয় ক্ষমতা ও পেশাগত সাফল্যে কয়েক কোটি মাইল এগিয়ে। বোঝাই যাচ্ছে ভাই বাবিনের সম্পর্কে এহেন চর্চায় সুদীপ্তা মর্মাহত।
বাবিন যদি সত্যিই তোমাকে ভালবেসে থাকে, তাহলে তো তার আশপাশের এই মানুষগুলোর কথা তোমার ভাবা উচিৎ ছিল মৌমিতা, বাবিনের সম্মানের কথা ভাবা উচিৎ ছিল। সম্মান ছাড়া 'ভালোবাসা' তো হয় না ভাই, 'ভালোবাসার ভান' হয়। যে 'প্রেম' তোমার 'ছিল' বলে দাবি করছো, তা যদি সত্যি থেকে থাকে, তাহলে তার ভিডিও পোস্ট করে এত বড় অপমানটা না করলেই পারতে। খুব আঘাত পেলাম। খুব রাগ হলো, কিছুটা ঘৃণাও। ভালোবাসা বড় পবিত্র জিনিস, তাকে আগলে রাখতে হয়, এইভাবে বাজারে বিক্রী করে দিতে নেই। বলেছেন সুদীপ্তা।
সুদীপ্তার কথায়, ভালবাসা যদি সত্যিই গভীর হয়, তাহলে সেটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রমাণ করার চেষ্টার বদলে রাহুলের মৃত্যুর তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে পাশে দাঁড়ানোই বেশি জরুরি ছিল। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—মৌমিতা চাইলে থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে পারতেন, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনার দাবিতে সরব হতে পারতেন, কিংবা তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারতেন। শুধু তাই নয়, রাহুলের মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিতে যারা লড়াই করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেছেন সুদীপ্তা। তাঁর বক্তব্য, সত্যিকারের ভালবাসা থাকলে সেই ভালবাসার শক্তি দেখা যেত লড়াইয়ে, প্রয়াত মানুষের সম্মান রক্ষায় এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে। এরপর মৌমিতাকে উপদেশ দিয়ে সুদীপ্তা লেখেন, জেগে ওঠো মৌমিতা। একটু বড় হও। জীবনে ছোট জিনিসকে দেখতে শেখো, যেটা তোমায় আনন্দ দেবে। ভাল বই পড়ো, ভাল সিনেমা-নাটক দেখো, আরও বেশি করে সৃজনশীল কাজ করো, আরও বেশি করে আত্মবিশ্বাসী হও। নিশ্চয়ই কাজ পাবে।