
৪০-এর পর অনেক তারকারই মা হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই তালিকাটা বেশ লম্বা চওড়া। কিন্তু অভিনেত্রী সম্ভাবনা শেঠ ও তাঁর অবিনাশ দ্বিবেদী বারংবার তাঁদের জীবনে নতুন অতিথিকে আনার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। তবে এবার তাঁদের জীবনে সেই সুখবর অবশেষে এল। মা হতে চলেছেন সম্ভাবনা। সারোগেসির মাধ্যমে তাঁদের জীবনে আসতে চলেছে খুদে অতিথি। নিজেরাই তাঁদের ভক্ত-অনুরাগীদের সঙ্গে এই সুখবর ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি সম্ভাবনা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত ভ্লগিং করে থাকেন। স্বামী অবিনাশও ইনফ্লুয়েন্সার। দুজনেই পশুপ্রেমী বলেই পরিচিত। তাঁদের ভ্লগ দেখতে সকলেই ভালোবাসেন। বেশ কিছু বছর ধরেই সম্ভাবনা মা হওয়ার জন্য সংঘর্ষ করে চলেছেন। ৭ থেকে ৮ বার IVF পদ্ধতিতে মা হওয়ার চেষ্টা করলেও, তা ব্যর্থ হয় সম্ভাবনার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে দম্পতি লিখেছেন, “We are pregnant. Love, hope and surrogacy… আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।” মুহূর্তের মধ্যেই শুভেচ্ছায় ভরে যায় কমেন্ট বক্স।
২০১৬ সালে সম্ভাবনা ও অবিনাশের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছুতেই তাঁরা মা-বাবা হতে পারছিলেন না। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, মোট সাত বার আইভিএফ (IVF) করিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই অসংখ্য হরমোনাল ইনজেকশন, কঠিন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আর মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবু আশা ছাড়েননি। একবার সন্তানধারণ করতেও পেরেছিলেন সম্ভাবনা। সেই সময় প্রেগন্যান্সি ফটোশ্যুটও করান তিনি। পরিবার ও অনুরাগীদের সঙ্গে খুশির খবর ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন দু’জনে। কিন্তু তার আগেই ঘটে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা- গর্ভপাত। সম্ভাবনার অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই তাঁর ভ্রূণের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং হার্টবিট বন্ধ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভ্রূণ বের করতে হয় তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।
বিয়ের আগে নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন সম্ভাবনা। জানান, এই প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক- টানা ৮ থেকে ১০ দিন ইনজেকশন নিতে হয়েছিল তাঁকে। ওজন বেড়ে গিয়েছিল, মানসিক চাপও চড়েছিল। খরচ হয়েছিল প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা। তবুও মা হওয়ার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে সারোগেসির মাধ্যমে ৪৫ বছরে মা হতে চলেছেন সম্ভাবনা।