
বেশ কয়েকদিন ধরেই শিরোনামে রয়েছেন কীর্তন শিল্পী অদিতি মুন্সি। তৃণমূল নেতা তথা গায়িকার স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। দুর্নীতি ও সম্পত্তির হিসাব নয়ছয় ও তোলাবাজির অভিযোগে অদিতি মুন্সির স্বামীকে গ্রেফতার করা হয় পুরুলিয়া থেকে। তারপর থেকেই অদিতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। হঠাৎ করেই কীর্তন শিল্পী হিসাবে উত্থান হয় গায়িকার, তারপর তৃণমূল নেতাকে বিয়ে এবং বিধায়ক পদ পাওয়া, সবটাই ঘটেছে খুবই তাড়াতাড়ি। কীভাবে গায়িকা আজকের অদিতি মুন্সি হয়ে উঠলেন, জেনে নিন।
সাধারণ বাড়ির মেয়ে অদিতি
অদিতির জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাগুইআটি অঞ্চলে। মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে অদিতি ছোট থেকেই গানের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা। অদিতি ব্যবসায়ী বাড়ির মেয়ে, বাবার ছিল কাপড়ের ব্য়বসা। বাড়িতে গানের পরিবেশ ছিল৷ বাবা খুব ভালবাসতেন গান শুনতে। একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে অদিতি জানিয়েছেন যে কাপড়ের যে কার্টুন থাকে সেগুলো বিক্রি করে তাঁর বাবা রেকর্ড কিনতেন। মূলত দেবব্রত বিশ্বাসের রবীন্দ্রসঙ্গীতের রেকর্ড কিনতেন তাঁর বাবা। সেখান থেকে গান শোনার প্রতি ঝোঁক বাড়িতে থাকে অদিতির।
শেখেন বিভিন্ন আঙ্গিকের গান
তবে শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়, বাকি আঙ্গিকের গানও চলত বাড়িতে৷ যেমন ক্ল্যাসিক্যাল, আধুনিক, সব ধরণের গান শুনে বড় হয়েছেন অদিতি৷ তাঁর বাবা-মা, দু’জনেই খুব ভালবাসতেন গান এবং বাড়িতে ভক্তিমূলক গান শুনতেন সকলে। ছোট থেকে ক্ল্যাসিক্যাল গান শিখেছেন অদিতি। এরপর মাধ্যমিকে গান ছিল তাঁর অ্যাডিশনাল সাবজেক্ট। পরবর্তীতে গান নিয়ে পড়াশুনা করেন তিনি৷ অদিতির মতে একজন গানের শিল্পীর গান নিয়ে উচ্চশিক্ষা তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করে নিজের শৈল্পিক সত্তা তৈরি করতে। পরে অদিতি সরস্বতী দাসের কাছে কীর্তন শিখতেন, কীর্তন মানে গুণকথা, কীর্তি বন্দনা। ২০১৫ সালে সারেগামাপা-তে অংশ নেন গায়িকা। বিজয়ী না হয়েও তাঁর কীর্তন ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
অদিতি থেকে রাইকিশোরী
রিয়্যালিটি শো-এর মঞ্চে কীর্তন আঙ্গিককে তুলে ধরেন তিনি। টেলিভিশনের পর্দায় অদিতির নাম হয়ে যায় রাইকিশোরী। কৃষ্ণভক্ত অদিতি মঞ্চে এসে গান শুরু করতেন দেবতাকে স্মরণ করে। বাগুইআটি-রাজারহাট অঞ্চলে চুটিয়ে অনুষ্ঠান করতেন অদিতি। সেখান থেকেই কীর্তন শিল্পীর প্রেমে পড়েন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। ২০২৮ সালে দেবরাজের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন অদিতি। মঞ্চে অন্যান্য গানের পাশাপাশি সমান জনপ্রিয়তা পায় রাইকিশোরীর হরি বোল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তুমুল জনপ্রিয়তা তাঁকে এনে দেয় বড় কাজের সুযোগ।
২০২১ সালে বিধায়ক পদ
শিবপ্রসাদ-নন্দিতার গোত্র ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন অদিতি। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন মন জয় করেছিল অনুরাগীদের। ২০২১ সালে তৃণমূলে যোগদান করেন অদিতি এবং ওই বছরেই রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক পদ পান। বিয়ের ৭ বছর পর সন্তানের জন্ম দেন অদিতি। এই মুহূর্তে তাঁকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি প্রাক্তন বিধায়ক ও কীর্তন শিল্পী।