
প্রত্যেক বছরই কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলা থেকে কোনও না কোনও চমক অপেক্ষা করে থাকে। ব্যতিক্রম নয় এই বছরও। ছাব্বিশের কান চলচ্চিত্র উৎসবে দেখা গেল পার্নো মিত্রকেও। কার্যনির্বাহী প্রযোজকের ভূমিকায় এবার অভিনেত্রীর নতুন সফর শুরু। পরিচালক শ্রীময়ী চক্রবর্তীর হাত ধরে পর্দায় উঠে আসছে দুই অদম্য নারীর জীবনসংগ্রামের এক অন্যরকম গল্প। তাঁর নতুন তথ্যচিত্র ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’-এর মাধ্যমে প্রযোজনার দুনিয়ায় পা রেখেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পার্নো পৌঁছে গিয়েছেন কান-এ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করলেন তিনি।
কালো কোট-প্যান্ট ও গোলাপি রঙের টপ পরে তাঁকে দেখা গেল সি-বিচের সামনে। সোমবার অবশ্য পার্নো পরেছিলেন পিচ রঙের লং গাউন ও সঙ্গে প্রিন্টেড ওড়না। চোখে সানগ্লাস ও হাতে ওয়াইন গ্লাস। পার্নোর কেরিয়ারে কান-এ প্রবেশ অবশ্যই নতুন দিক যে খুলে দেবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কান চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর ছবি দেখানো হবে, এটা অবশ্যই পার্নোর কাছে বিশাল পাওনা। ট্যাবারনাকল স্ট্রিট ফিল্মস এবং আদ্যা ফিল্মসের ব্যানারে শ্রীময়ী চক্রবর্তী ও ওম সিংহ প্রযোজিত ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’। পার্নো কার্যনির্বাহী প্রযোজক। সঙ্গে রয়েছেন রুশা বসু।
এই ছবির সঙ্গে যুক্ত রাধিকা পিরামল এবং নীরজ চুড়ি। শ্রীময়ী ক্যানসার যোদ্ধা। লন্ডনে তাঁর দু’টি রেস্তরাঁও রয়েছে। তিনি দুই সাহসী নারীকে নিয়ে ‘স্পিরিট অফ দ্য ওয়াইল্ড লাইফ’ বানিয়েছেন। এই ডকু ছবিটি দুই সাঁওতাল রমণী অঙ্কিতা ও বিনুর জীবনের কাহিনি। তাঁদের জীবিকা মহুয়া তৈরি ও বিক্রি করা। তাঁদের একজন চান পুরুষ হিসাবে বাঁচতে। দু’জনের স্বপ্ন এবং জীবন সংগ্রামই ফুটে উঠেছে তথ্যচিত্রে। এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত পার্নো।
এই মুহূর্তে ফ্রান্সের কান-এর প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছেন অভিনেত্রী। শুধু পার্নোই নন। এর আগে কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওলি দামকে দেখা গিয়েছিল ২০১১ সালে। শ্রীলঙ্কার পরিচালক বিমুক্তি জয়সুন্দর পরিচালিত ছত্রাক ছবির জন্য আন্তর্জাতিক এই উৎসবে গিয়েছিলেন টলিউড অভিনেত্রী। লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরে কানের রেড কার্পেটে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে পাওলি দাম অভিনীত ‘ছাদ’ ছবি দেখানো হয়েছিল। যদিও অভিনেত্রী সেবার অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দিতে পারেননি। পার্নোর পাশাপাশি কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেটে দেখা গিয়েছে জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার নীরঞ্জন মণ্ডল তথা লাফটারসেন-কে।