
টলিউডের অচলাবস্থার কথা অজানা কারোর নয়। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের দাদাগিরির দাপটে অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল টলিপাড়ায়। কখনও অভিনেতা-পরিচালক ব্যান, শ্যুটিং বন্ধ, টেকনিশিয়ানদের কাজে না যাওয়া এইসব নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কম অশান্তি হয়নি। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর শক্ত হাতে টলিউডের হাল ধরেছে। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে ফের সচল করতে দফায় দফায় হয়েছে বৈঠক। কিছুমাস আগেই সিনেপাড়ার সেই অচলাবস্থা কাটাতে টলিউডের নর্দমা সাফ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। এবার মহাগুরুর তত্ত্বাবধানে টলিউডে আজ প্রথম নির্বাচন।
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর টলিউডে প্রথম নির্বাচন। পাশাপাশি বিতর্কের আবহ কাটিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পালা। অতঃপর টলিউডের এবারের ভোট ঘিরে যে বাড়তি কৌতূহল, উত্তেজনা থাকবে স্টুডিওপাড়ায়, তা বলাই বাহুল্য। ৩১ অক্টোবর, শনিবার থেকে টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় শুরু হল ২৩টি গিল্ডের দু’দিন ব্যাপী নির্বাচন। বিভিন্ন গিল্ডের নতুন সভাপতি বেছে নিতেই এই ভোটযুদ্ধ। কড়া নিরাপত্তাতেই এদিন নির্বাচন হয়েছে।
ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য এদিন সকাল থেকেই টেকনিশিয়ান স্টুডিওর বাইরে চেয়ারে বসে তত্ত্বাবধানে করতে দেখা যায় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তীকে। কিন্তু কেন তিনি বাইরে বসে রয়েছেন? সংবাদমাধ্যমকে মিঠুন জানান যে ভোটার ছাড়া কেউ ভিতরে ঢুকবে না বলেছিলেন তিনি। তাই নিজেই বাইরে বসে কড়া নজরদারি করছেন। মিঠুন আরও বলেন, এতদিন টলিউডে একনায়কতন্ত্র চলছিল। কেউ কাজ করতে চাইছিল না। তবে এবার ভোটের পর টলিপাড়ায় ছবি বদলে যাবে। পাশাপাশি পরিচালকদের উৎসাহ দিতে তিনি এও জানান যে রাজ্য সরকার ৩০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে, পরিচালকেরা ছবি বানান। মিঠুন চক্রবর্তী এও বলেন যে তাঁরা চেয়েছিলেন যা কিছু হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হবে।
মিঠুন এও বলেন যে তিনি গত ৩০ বছর ধরে মুম্বইতে মজদুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন, তিনি সেইভাবেই এই ইন্ডাস্ট্রিকে পরিচালনা করতে চান। মহাগুরু আরও বলেন যে আজকে গিল্ডের ভোট হচ্ছে, পরে ইম্পার নির্বাচন হয়ে গেলে একে-অপরকে মুখোমুখি বসিয়ে, কার কী অভিযোগ তিনি জানতে চান। সব সমস্যার সমাধান করে ইম্পা ও গিল্ড তাদের কাজ শীঘ্রই শুরু করুক, সেটাই চান বিজেপি নেতা।
পালাবদলের পর টলিপাড়ার প্রথম ভোট নিয়ে মুখ খুলেছেন রুদ্রনীল ঘোষও। তারকা বিধায়কের মন্তব্য, “আগে এসএমএসে ভোট হত। তবে এবার ভোট হচ্ছে লেবার কমিশনের নিয়ম মেনে। ভোটকেন্দ্র মুড়ে দেওয়া হয় সিসি ক্যামেরায়, ছিল প্রচুর পুলিশি নিরাপত্তাও। এবার নির্বাচনী রেজাল্টে কে, কোন দায়িত্বে আসবেন, সেটাই দেখার।