
আকস্মিক প্রয়াণ পরিচালক অনীক দত্তের। বহুতল আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। টলিপাড়া শোকস্তব্ধ। একইসঙ্গে এই খবর হকচকিয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলকেও, বিশেষত বামপন্থীদের। ২০১২ সালে 'ভূতের ভবিষ্যৎ' ছবি পরিচালনা করে রাতারাতি প্রচারের আলোয় এসেছিলেন। তবে বরাবরই তৎকালীন তৃণমূল সরকারের বিরোধিতায় সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। CPIM-এর সমর্থনে নানা মিছিল-মিটিংয়ে দেখা যেত তাঁকে। বাম মনস্ক এই পরিচালকের আকস্মিক প্রয়াণ নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর মাঝেই নজর পড়েছে ফেসবুকে করা তাঁর শেষ পোস্টে। যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে করা একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি।
'চলছে চলবে রঞ্জিত' নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয় কল্যাণী নেতাজি সুভাষ সেনেটোরিয়াম অ্যান্ড টিবি হাসপাতালের বর্তমান দৈন্যদশার একটি ভিডিও। বাম জমানার সেই হাসপাতালের চিত্র তৃণমূলের আমলে কী হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করা হয় ভিডিওতে। উল্লেখ করা হয় 'ভাইপোর দুর্নীতির' কথা। সেই পোস্টটিই শেয়ার করেন অনীক দত্ত।
এর পাশাপাশি ছাব্বিশের নির্বাচন কালে এবং ফলাফল পরবর্তী সময়েও অনীক দত্তকে বামেদের সমর্থন করে পোস্ট করতে দেখা গিয়েছিল। রেজাল্টের পর তিনি লিখেছিলেন, 'এবার বুঝলেন তো EVM হ্যাক করেই ২০১১-তে CPIM-কে হারানো হয়েছিল।' ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় পরবর্তী বক্তব্য শেয়ার করতেও দেখা গিয়েছিল। আবার তিনিই ফলপ্রকাশের দিন দুপুরে পোস্ট করেছিলেন, 'ফলাফল যা-ই হোক, হৃদয় বামদিকেই থাকবে।'
দীপ্সিতা ধর থেকে শুরু করে আফরিন শিল্পী, অনীকের ফেসবুক পেজেও এই বাম প্রার্থীদের হয়ে জোরাল প্রচার দেখা গিয়েছে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই-এর মতো পোস্ট শেয়ার করেছেন তিনি। এমনকী, তাঁরই 'অপরাজিত' ছবির অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের মন্তব্যের বিরোধিতা করেও পোস্ট করেছিলেন পরিচালক। সিনে পরিচালক হলেও সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক পেজ স্ক্রল করলে অধিকাংশ পোস্টই বামপন্থার সমর্থনেই ছিল।
উল্লেখ্য, তাঁর 'ভবিষ্যতের ভূত' এবং 'অপরাজিত' সিনেমাগুলি সরকারি হল পায়নি। এই নিয়ে পথে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তৃণমূল সরকারে তুলোধনা করতে দেখা গিয়েছে অনীক দত্তকে।
গড়িয়াহাট থানা সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন অনীক দত্ত। অ্যাংজাইটির ওষুধও খেতেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে থাকতেন না গত বছর থেকেই। তবে বুধবার সকালে স্ত্রী সন্ধি দত্তর হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরই অঘটন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণের খবর শুনে বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন সৃজন ভট্টাচার্যের মতো বাম নেতা।