
পর্দায় বেশ কিছুবার দাদু হয়ে গেলেও বাস্তবে নাতি-নাতনির মুখ এখনও দেখেননি অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। যদিও মিঠুন বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে মা হওয়ার চাপ একেবারেই নেই পুত্রবধূ মাদালসা শর্মার ওপর। আরও একটি পরিচয় হল তিনি এতজন অভিনেত্রী, যিনি 'অনুপমা'তে কাব্য চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছেন। মিঠুন-পুত্র মহাঅক্ষয় চক্রবর্তী, যিনি মিমো নামে পরিচিত, তাঁর সঙ্গে ২০১৮ সালের ১০ জুলাই বিয়ে করেন মাদালসা। বিয়ের আগে পর্যন্ত মিমো ও মাদালসা তাঁদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগতই রেখেছিলেন। তাঁরা যে খুবই সুখী দম্পতি তা দেখলেই বোঝা যায়। তবে বিয়ের ৮ বছর পরও মাদালসা ও মিমো দুই থেকে তিন হয়নি। এখনও দাদু হওয়ার সুখ ভোগ হয়নি মিঠুনের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের মা হওয়া নিয়ে কথা বললেন মিঠুনের পুত্রবধূ।
সাক্ষাৎকারে মাদালসাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে পরিবারের তরফে তাঁর ওপর মা হওয়াক চাপ আছে কিনা। অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে তাঁর ওপর এখনও পর্যন্ত মা হওয়ার কোনও চাপ আসেনি। এটা তো তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। মাদালসা বলেন, তাঁর ওপর কোনও চাপই নেই। তিনি আরও বলেন, আমাকে সব সময় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমার মনে হয় যে আপনি যখন এ নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন, তখনই মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। মিঠুন-পুত্রবধু এও জানিয়েছেন যে এ ধরনের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন।
মাদালসা এও জানান যে তাঁর ও মিমোর প্রথম পরিচয় হয়েছিল এক ইভেন্টে। এরপর দেখা-সাক্ষাৎ বাড়ে এবং প্রেম হয়। এরপরই তাঁরা বিয়ে করে নেন। মাদালসা এও জানিয়েছেন যে তাঁর শ্বশুর মিঠুন চক্রবর্তীও খুব উদার মনের মানুষ। তিনি জানান যে মিঠুন চক্রবর্তী কখনও পোশাক নিয়ে কোনও ফতেয়া জারি করেননি কিংবা এই বয়সে বিয়ে করে সন্তান নেওয়া উচিত, সেই চাপও কোনওদিন দেননি। তাঁর মতে, প্রত্যেকেরই নিজের ইচ্ছামতো জীবনযাপন করার অধিকার আছে। এই সাক্ষাৎকারে মাদালসা এও জানিয়েছেন যে তাঁর সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিতে কী ধরনের আচরণ করা হয়।
সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন যে এক জনপ্রিয় পরিচালক তাঁকে দেখা করতে ডাকেন এবং তাঁর সামনেই মিঠুনের পুত্রবধূকে বিকিনি পরার প্রস্তাব দেন। সেই সময় মাদালসার বয়স ১৯ বছর। ওই পরিচালক জানান যে তিনি এমনই কাউকে খুঁজছিলেন যে বিকিনিতে স্বাচ্ছন্দ্য। মাদালসা এও বলেন, আমি ভেবেছিলাম এটা তেমন কোনো বড় ব্যাপার নয়, তাই রাজি হয়েছিলাম, কিন্তু আমি আগে গল্পটা বুঝতে চাই। গল্পে কি এর কোনো যৌক্তিকতা আছে, নাকি এটা অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ? যদিও আমার বয়স ছিল উনিশ, আমি বুদ্ধিমান ছিলাম। মাদালসা বলেন, পরিচালক দেখতে চেয়েছিলেন তিনি বিকিনি পরতে পারেন কি না। তিনি তাকে বলেছিলেন যে, তিনি তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি দেখতে চান এবং ক্যামেরার সামনে এটি পরে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন কি না, তা যাচাই করতে চান।
মাদালসা বলেন, আমি পরিচালককে বলেছিলাম—দুঃখিত, আমি পেশাগতভাবে একজন অভিনেত্রী এবং গল্পের প্রয়োজনে যদি বিকিনি, শাড়ি বা লেহেঙ্গা, যা-ই হোক না কেন, পরার প্রয়োজন হয়, আমি ক্যামেরার সামনে তা পরব এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব, কারণ এটা আমার কাজেরই একটি অংশ। আমি পরিচালককে বলেছি যে আপনার সামনে বিকিনি পরা আমার কাজের অংশ নয়, তাই আপনি যদি আমার প্রতিভার ওপর ভরসা করে আমাকে নিতে চান, তবে নিন, নইলে আমি জানি দরজাটা কোথায়। পরে অবশ্য মাদালসা জানতে পারেন তিনি অ চরিত্রের জন্য বাদ পরেছেন। কর্মজীবনে, মাদালসা 'অনুপমা' ধারাবাহিকে কাব্যা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করেন, যে চরিত্রটি তাঁকে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অনেক নিন্দাও শুনতে হয়েছে।