
গুরুতর অসুস্থ হয়ে দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি শিল্পী যোগেন চৌধুরী। জানা গিয়েছে, পরিবারের সম্মতিতে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে। বিগত ১৪ মাস ধরে রক্তের বিরল ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত শিল্পী। পাশাপাশি মূত্রনালির গুরুতর সংক্রমণ এবং শরীরে সেপসিসের উপসর্গ নিয়ে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিল্পীর বয়স ৮৭ বছর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শিল্পীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিল্পানুরাগী ও সাংস্কৃতিক মহলে।
গত এক বছরের বেশি সময় ধরে যোগেন চৌধুরী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। দুর্গাপুজোর সময় তাঁর মূত্রনালীর সংক্রমণ দেখা দেয়। তখন থেকেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি। জানা গিয়েছে, চিকিৎসক তুফানকান্তি দোলাইয়ের তত্ত্বাবধানে ন’টি কেমোথেরাপি হয়েছে তাঁর। তবে বয়সের কারণে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এই লড়াই সহজ হয়নি। চিকিৎসা চললেও, শিল্পীর শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। তার মধ্যে মূত্রনালীর এই সমস্যা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন শিল্পী।
১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরের দাহারপাড়া গ্রামে যোগেনবাবুর জন্ম। দেশভাগের সময় কলকাতায় চলে আসা, এখানেই শিল্পশিক্ষা, পরে প্যারিসে উচ্চশিক্ষা এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আর্ট গ্যালারিতে কিউরেটরের দায়িত্ব পালন। তাঁর বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন জমিদার এবং শিল্পানুরাগী। যোগেনের মা ছিলেন আলপনা আঁকায় দক্ষ। পারিবারিক এই শিল্পচর্চাই ছোটবেলা থেকে যোগেনের মধ্যে ছবি আঁকার আগ্রহ তৈরি করতে সাহায্য করে।
দেশভাগের ঠিক আগে বাবার সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন যোগেন। ১৯৪৮ সালে পরিবারের অন্য সদস্যরাও কলকাতায় চলে আসেন। প্রথম দিকে কাকার কোয়ার্টারে থাকার সময় দেওয়ালে ছবি এঁকেছিলেন তিনি। ১৯৫১ সালে পরিবারটি ঢাকুরিয়ার শহিদনগর কলোনিতে চলে আসে। ১৯৫৫ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফটে ভর্তি হন। ১৯৬০ সালে সেখান থেকে পাশ করার পর হাওড়া জেলা স্কুলে শিল্পের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬২ সালে কলকাতার হ্যান্ডলুম বোর্ডে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীকালে মাদ্রাজেও টেক্সটাইল ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৫ সালে ফরাসি সরকারের বৃত্তি নিয়ে প্যারিসে শিল্পশিক্ষার জন্য যান যোগেন।