
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই ডামাডোল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইমপা, ফেডারেশন এই দুই সংগঠনের অবস্থার কথা বর্তমানে অজানা কারোর নয়। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের অবস্থা যে আরও খারাপ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একাধিক সংগঠন একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছে। যাদের মধ্যে অন্যতম সহকারী পরিচালকদের গিল্ড। সম্প্রতি টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরর্সরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখান। একাধিক দাবির মধ্যে তাঁদের অন্যতম দাবি হল বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হোক সুষ্ঠু কাজের জায়গা। বেশ কিছু সহকারী পরিচালকদের হাতে কাজ নেই, তাঁরা বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। আর এই নিয়ে bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বললেন এই গিল্ডের সদস্য সন্দীপ দত্ত।
সন্দীপ দত্ত প্রথমেই বলেন যে তাঁদের সমবন্টন কাজের এবং পুনরায় নির্বাচন করার দাবি রয়েছে। তাঁরা এই বিষয়ে টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন এবং এরই সঙ্গে রিজেন্ট পার্ক থানাতেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। সন্দীপ দত্তের কথা অনুযায়ী, তাঁরা জয়েন্ট পিটিশন জমা দিয়েছেন সহকারী পরিচালক গিল্ডের সভাপতি তপন কুমার গঙ্গোপাধ্যায় এবং যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত ওরফে পাপ্পুর বিরুদ্ধে। এই দুই ব্যক্তি সহকারী পরিচালক গিল্ডের কাজের আবহ নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ সন্দীপ দত্তের। গিল্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, এই গিল্ডের মাথায় রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত। তিনি নিজের পরিচিত সদস্যদের ছাড়া কাউকে কাজ দেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর্সরা। ডিরেক্টর গিল্ডের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম এবং স্বজন-পোষণ চলছে। ফেডারেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছর ৩১শে ডিসেম্বর। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডে নির্বাচন হয়েছে। পুরোটাই স্বরূপ বিশ্বাসের কারণে হয়েছে বলে অভিযোগ।
সন্দীপ দত্তের আরও অভিযোগ, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ ডিয়েম্বর, ২০২৫ সালে। তিনি যদি এখন ফেডারেশনে নাই থাকেন তাহলে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি কী করে আমাদের নির্বাচনে উপস্থিত থাকেন আর কী করেই বা এই গিল্ডের সদস্যপদে রয়েছেন। প্রসঙ্গত, এই সহকারী পরিচালক গিল্ডের কার্ড পেতে গেলে ব্যক্তিকে তিনটে ছবিতে কাজ করতে হবে এবং সেই ৩টে ছবির পরিচালকের অনুমোদন দরকার। গিল্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, স্বরূপবাবু তাঁর কাজের প্রমাণ দেখাক। কোন তিনটে ছবিতে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি কাজ করেছেন, সেটাও প্রমাণ হিসাবে দেখাক।
সন্দীপ বলেন, ২০১১ সাল থেকে সহকারী পরিচালকদেক কাজের সংখ্যা ক্রমশঃ কমতে শুরু করে দেয়। বর্তমানে ৫০-এর বেশি AD-র হাতে কাজ নেই। অথচ এই গিল্ডের যুগ্ম সম্পাদক পাপ্পু দা মাসে একাধিক কাজ করছেন। এটা স্বজন-পোষণ নয়তো কী? বাকিরা পায় না। এমনও সহকারী পরিচালক রয়েছেন, যাঁর হাতে একবছর ধরে কোনও কাজ না থাকার কারণে, তাঁকে মুদির দোকানে কাজ করতে হচ্ছে। আর এক অভিজ্ঞ এডি কাজের অভাবে নাগের বাজারে অটো চালান, আবার এমনও একজন আছেন, যিনি মাছ বাজারে মাছ কোটেন, আবার একজন এডি কাজ পাচ্ছে না বলে বাড়ি বাড়ি রোল বিক্রি করে। কাজের অভাবে এডিরা এখন বাধ্য হয়ে এই ধরনের কাজ করছেন। প্রসঙ্গত, বিশ্বাস ব্রাদার্সদের আমল থেকে বহু সহকারী পরিচালকের হাতেই কাজ নেই। শতবার কাজ চেয়েও কোনও সুরাহা করতে পারেননি অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসেরা।
সহকারী পরিচালকেরা ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটি টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে রিজেন্ট পার্ক থানায় তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রত্যেকে একটা স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে চাইছেন।