Advertisement

Bangla Band Songs: 'জেনারেশন গ্যাপে' কি তলিয়ে যাচ্ছে বাংলা ব্যান্ড? সিধু, রূপম, সুরজিৎ, দেবরাজরা বলছেন...

Bangla Band Songs: আজও বাঙালির মনে রাজত্ব করছে ব্যান্ডের গান। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে, কেমন আছে বাংলা ব্যান্ড? নতুন ব্যান্ড তৈরি করতে কতটা এগিয়ে আসছে নতুন প্রজন্ম? পুরনো ব্যান্ডগুলো কতটা নতুন গান তৈরি করছে? বাংলা ব্যান্ডের হাল হকিকতের খোঁজ নিল বাংলা ডট আজতক ডট ইন। 

রূপম, সিধু, সুরজিৎ, দেবরাজ   রূপম, সিধু, সুরজিৎ, দেবরাজ
সৌমিতা চৌধুরী
  • কলকাতা ,
  • 21 Jun 2026,
  • अपडेटेड 8:49 AM IST

বাংলা ব্যান্ড। নব্বইয়ের দশকে বাঙালির বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম বাংলা ব্যান্ডের গান। মিলিওনেয়ারদের নস্ট্যালজিয়ার তালিকা মেলাতে বসলে, উপরের দিকেই যেটা আসে, তা হল বাংলা ব্যান্ড। বাড়ির টেপ রেকর্ডারে ক্যাসেট চালানো থেকে শুরু করে, পুজো প্যান্ডেল কিংবা কলেজের সোশ্যাল। রমরমিয়ে চলতে লাগল ক্যাকটাস, ভূমি, পরশপাথর, চন্দ্রবিন্দু, ফসিল্‌স, লক্ষ্মীছাড়া, ক্রসউইন্ডস, কিংবা পরবর্তী সময় ফকিরা, আন্ডারগ্রাউন্ড অথোরিটির গান। আবার, সত্তরের দশকে শুরু হলেও মহীনের ঘোড়াগুলিকে মিলিওনেয়ারা চিনেছে নব্বইয়ের দশকেই। সেসব গান আজও জনপ্রিয়। এভারগ্রিন। বাংলা গানের তথাকথিত ধারা বারবার ভেঙেছে বাংলা ব্যান্ড। অতি সম্প্রতি, সকলের নজর কাড়ছে হুলিগানিজম। 

সময় পাল্টেছে। পাল্টেছে শ্রোতাদের চয়েজ। ক্যাসেটে, ডিভিডি-র পর জায়গা নিয়েছে ইউটিউব বা স্পটিফাই, অ্যামাজন প্রাইম মিউজিকের মতো মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলি। হারিয়ে গেছে বহু ব্যান্ড। আবার, ভেঙেচুরে- নতুনভাবে গড়ে উঠেছে এর মধ্যে বেশ কিছু। তবু, আজও বাঙালির মনে রাজত্ব করছে ব্যান্ডের গান। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে, কেমন আছে বাংলা ব্যান্ড? নতুন ব্যান্ড তৈরি করতে কতটা এগিয়ে আসছে নতুন প্রজন্ম? পুরনো ব্যান্ডগুলো কতটা নতুন গান তৈরি করছে? বাংলা ব্যান্ডের হাল হকিকতের খোঁজ নিল বাংলা ডট আজতক ডট ইন। 

'ফসিল্‌স ঝড়ে'র রেশ এখনও কাটেনি শহরবাসীর। বর্তমান সময় বাংলা ব্যান্ডের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে? ফসিল্‌সের রূপম ইসলাম জানালেন, "অন‍্য ব‍্যান্ডের হাল হকিকত নিয়ে বলব না। অনধিকার চর্চা। ফসিল্‌স নিয়ে আমার বলবার দরকার নেই। সবাই জানেন। অন্য ব্যান্ডের নতুন গানের জনপ্রিয়তা বা অন্য শিল্পীর নতুন গানের জনপ্রিয়তা কম কেন? এই প্রশ্নের উত্তরও আমার কাছে নেই। তবে আমাদের নতুন গানের জনপ্রিয়তা তো সারা ভারতেই স্বীকৃত হয়েছে। সবকটা প্লেলিস্ট, সবকটা লিস্টকে রুল করেছে আমাদের নতুন অ্যালবাম এবং নতুন গান। স্পটিফাইতে কলকাতার যে লিস্ট সেখানেও এক নম্বর পজিশনে গিয়েছেছ। ইন্ডিয়াতেও আমাদের অ্যালবাম বলিউড অ্যালবামকে, 'ধুরন্ধর'-র মতো বলিউড অ্যালবামকে রিপ্লেস করে নম্বর ওয়ানে গিয়েছে। এসব খবর প্রকাশিত হয়েছে আগে। এছাড়া রিসেন্ট যে শো আমরা করলাম, তার প্রথম পাঁচটা গানের মধ্যে চারটি গানই ছিল নতুন অ্যালবামের। মানে এতই জনপ্রিয়তা যে, সেসব গান দিয়েই আমাদের অনুষ্ঠান শুরু করতে হচ্ছে, যখন আমরা পূর্ণাঙ্গ শো করছি। কাজেই অন্যদের জনপ্রিয়তা কম বা বেশি, সেই প্রসঙ্গে মতামত করাটা আমার সমীচীন নয়।" 

Advertisement

নতুন বাংলা ব্যান্ড গড়ে ওঠা বা এফএম চ্যানেলে ব্যান্ডের গান চালানো প্রসঙ্গে রূপম বলেন, "নতুন বাংলা ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে কিনা এই খবর আমাদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এফএম চ্যানেল এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। যখন একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল, তার আগে আমরা জানতে পারিনি কি নতুন ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে না হচ্ছে। যতবারই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, ততবারই দেখেছি প্রচুর নতুন ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে। এই খবর তো আমাদের পাওয়ার কথা নয়। প্রতিযোগিতা হলেই আমাদের সবার চোখের সামনে চলে আসবে। তবে গোপনে গোপনে যে অনেক অনেক শিল্পী কাজ করছেন, সে খবর আমার কাছে আছে এবং তাঁরা প্রত্যেকেই ভাল কাজ করছেন।" তিনি যোগ করেন, "এফএমের শ্রোতা সংখ্যাই অত্যন্ত কমে গেছে। আমি ২০০৬-০৭ -এ একটা এফএম শো হোস্ট করেছিলাম। গত বছর আবার সেটার সেকেন্ড এডিশন বা সেকেন্ড সিজন করেছি। কাজেই আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে যে, এফএম আজকাল শোনেন খুব কম মানুষ। এফএম চ্যানেলে গান বেজে গান জনপ্রিয় হবে, এই ভাবনাটাও ঠিক না। খুব একটা প্রাসঙ্গিক আর এফএম নয় এই মুহূর্তে।" 

 

ক্যাকটাসের সিধুর কথায়, "এখন বাংলা ব্যান্ডের, আগের মতো সেই পাগলামোটা হয়তো কিঞ্চিৎ কমেছে। তবে, বাংলা ব্যান্ড এখনও বহাল তবিয়তেই আছে বলব। আমাদের যাদের পুরনো ব্যান্ড রয়েছে, আমরা কিন্তু এখনও খুব স্টেডিলি এক্সিস্ট করছি, শো করছি, নতুন গান বানাচ্ছি। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আমাদের ফলোয়ার্সদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করছি। এটুকু বলতে পারি, এখন অবস্থা স্টেডি, স্টেবল। পুজোর বুকিং হয়ে গেছে। এই পুজোতে আমরা ইউএসএ যাচ্ছি, সাতটা শহরে আমাদের সাতটা শো, অলরেডি কনফার্মড আছে। তার আগে আমরা রেকর্ড করছি। আমাদের কিছু পুরনো গানকে নতুন ভাবে রি-অ্যারেঞ্জ করে রেকর্ড করছি।"  

 

নতুন ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে? সিধুর জবাব, "বাংলা ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে বা কাজ করছে প্রচুর। চার বছর আগে, ক্যাকটাসের ৩০তম জন্মদিনে আমরা ঠিক করলাম যে একটা ব্যান্ড ফেস্টিভ্যাল করি, যেখানে ৩০টা ইয়ং ব্যান্ডকে ডাকব। খবরটা ছড়াতেই, সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম। প্রায় ৬০ খানা এন্ট্রি জমা পড়ল। বাংলা ব্যান্ড তৈরি হচ্ছে। খুব হাইলাইটেড হচ্ছে না কারণ সাপোর্ট পাচ্ছে না। এই সাপোর্ট কেন পাচ্ছে না, সেটা ভাবতে গেলে তাহলে আবার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রশ্ন আসে। পালাবদলের আগে, আগে যে সিস্টেমে চলছিল সেখানে। মানে ২০২৫-২৬ অবধি...।" 

 

সিধু আরও যোগ করেন, "সরকারের ঘনিষ্ঠ কতগুলো ফিল্ম প্রোডিউসিং হাউস ছিল। তারা চাইতো শুধুমাত্র তাদের ফিল্মের গানগুলোই জনপ্রিয় হোক। সেক্ষেত্রে কোনও নন-ফিল্ম আর্টিস্ট বা গান উঠে আসুক তারা খুব একটা চাইতো না। সেজন্যেই মিডিয়ার জায়গাটা তারা বেশ কায়দা করে কেটে দিয়েছিল। বা এরকমও শুনেছি যে স্লট কিনে নেওয়া হতো। এফএম চ্যানেলে যতক্ষণ বাংলা গান বাজানো হবে, সেই স্লটটা বা তার একটা বড় অংশ তারা কিনে নিত। এফএম-এ শুধু ব্যান্ড নয়, বাংলা নন-ফিল্ম গানটাই খুবই কম বাজছে। সেই ক্যাটেগরিতে মনোময়ও আছেন, রাঘব, লোপামুদ্রা সবাই আছেন। আমরা প্রধানত নন-ফিল্ম ক্যাটেগরিতে কাজ করি। আমাদের কারও নতুন গান বাজানো হয় না, হচ্ছে না। এমন না যে একদমই বাজাচ্ছে না। ২০০২ সালে অ্যালবাম রিলিজ হয়েছে বা ৯৯-এ রিলিজ হয়েছে আমাদের ফার্স্ট অ্যালবাম, সেই অ্যালবামের গান বাজাচ্ছে। আমাদের কারও নতুন গান কিছু বাজানো হচ্ছে না। এটা স্ট্র্যাটেজিক্যাল। মানে, লোপামুদ্রা কিংবা রাঘব কিংবা মনোময় কিংবা ক্যাকটাস কিংবা চন্দ্রবিন্দু কেউ গত ১০ বছরে ভাল গান বানায়নি, বাজানোর যোগ্য গান কেউ প্রোডিউস করেনি, এটা তো হতে পারে না! ২০১০ সালের পরে রিলিজ হওয়া বাংলা আধুনিক গান, মানে বাংলা নন-ফিল্ম গান এফএম চ্যানেলগুলোতে বাজানো হয় না। সেই স্ট্র্যাটেজির পেছনে কে আছে, কারা আছে, কেন আছে সেটা আমি অতটা জানি না।" 

Advertisement

 

২০২৬ -এ বাংলা ব্যান্ডের গান কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে? সুরজিৎ ও বন্ধুরার (আগে, ভূমি) সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় বললেন, "বাংলা ব্যান্ড আছে। কিন্তু একটু আন্ডারগ্রাউন্ড হয়ে গেছে। অনেকদিন হল নতুন কোনও বাংলা ব্যান্ডের গান মাস লেভেলে পপুলার হয়নি। কিন্তু ওরা আছে ছোটখাট অনুষ্ঠান করে, কলেজ ফেস্টে। ১০- ১২ বছর আগের সময় যে ওয়েভ এসছিল, ভূমি, চন্দ্রবিন্দু, ফসিল্‌স, ক্যাকটাস-র। সেই ওয়েভটা তো এখন ডেফিনেটলি নেই। এটা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই। কিন্তু আবার যে হবে না এরকমও আমার মনে হয় না। আবার ওই ওয়েভ চলে আসতে পারে, শুধু যে কোনও একটা ব্যান্ডের দু-তিনটে গান মাস লেভেলে পপুলার হলেই আবার শুরু হবে একটা ড্রাইভ।

 

কেন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না? প্রশ্নের উত্তরে সুরজিৎ বলেন, "অনেক কিছু তো বদলে গেছে। অ্যালগোরিদম এখন একটা বিরাট ফ্যাক্টর সব কিছুর। লোকে যেগুলো দেখছে, সেগুলোই বারবার দেখানো হচ্ছে। নতুন নতুন গান এফএম স্টেশনে বাজে না। নতুন যারা বাংলা ব্যান্ড করছে, তারা এই গানগুলো শোনাবে কী করে লোককে? একমাত্র উপায় হচ্ছে ইউটিউব। এবার ইউটিউবে যতক্ষণ না একটা ঠিকঠাক মত ফলোইং হচ্ছে, ততক্ষণ অবধি ওখানে ট্রাফিক ঢোকে না। সবই তো ওই অ্যালগোরিদম, ট্রাফিক এসবের চক্করে পড়ে গেছে। ভূমি, চন্দ্রবিন্দু এসব যখন এত পপুলার হয়েছিল, তখন এফএম একটা ফ্যাক্টর ছিল। ওখানে লোকে গান শুনতো। এফএম-এ সিনেমার বাইরে নতুন বাংলা গানের টপ টেন হত। নম্বর ওয়ান কে, নম্বর টু কে, এরকম অ্যালবামের হত, গানের হত। এই সমস্তগুলো জাস্ট হাতের তুড়ির মত কেন উড়ে গেল হঠাৎ করে, জানি না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, রেডিও চ্যানেলে এক ঘণ্টাও কি রাখা যায় না, সিনেমার বাইরে নতুন বাংলা গানের জন্য?" 

 

বাংলা ব্যান্ড নিয়ে কথা বলতে গেলে, অবশ্যই উঠে আসে হুলিগানিজম-র কথা। সবচেয়ে নব্য। তবে বেশ সফল। হুলিগানিজম-র দেবরাজ ভট্টাচার্য জানালেন, " আগে যে ব্যান্ডগুলো ছিল, যেমন ফসিল্‌স, ক্যাকটাস, চন্দ্রবিন্দু, ভূমি- এদের গান লোকে প্রচুর শোনে। মুশকিলটা হচ্ছে, মাঝখানে অনেকটা বড় সময় নতুন ব্যান্ড উঠে আসছিল না। বা সেভাবে খুব একটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছিল না। আমাদের ব্যান্ডের কারণেই হোক বা পুরনো যারা ছিলেন আমাদের অগ্রজ, তারা ভাল কাজ করছেন বলে,‌ বাংলা ব্যান্ডের আবার একটা নতুন করে জনপ্রিয়তা দেখা গেছে।"

কেন নতুন ব্যান্ড আসছে না? এই কথা প্রসঙ্গে দেবরাজ বলেন, "প্রথমত, সিনেমার গান অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে গেছে। সবাই খুবই ইন্ডিভিজুয়াল হয়ে গেছে। আগে যেমন একটা ব্যান্ড, তার অ্যাকোস্টিক মিউজিকের একটা জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু এই ব্যান্ড এবং অ্যাকোস্টিক মিউজিকের জন্য অনেকগুলো লোক লাগে এবং অনেকগুলো লোকের একসঙ্গে থাকার প্রয়োজন হয়। এরপরে যে মিউজিকটা প্রোডিউস হয়, সেটা বেশ খরচ সাপেক্ষ। এখন যেহেতু একটা লোকে কম্পিউটার নিয়ে একটা ভিএসটি-তে মিউজিক বাজিয়ে দিতে পারছে, ফলে ব্যান্ড মানে ইউনিটি ব্যাপারটাই অনেকটা ভেঙে গেছে আমাদের সমাজ থেকে। সেখানে আমরা প্রায় সমাজের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়েই গান করছি। এখন গানের সাইজ তো হয়ে গেছে তিন মিনিট থেকে সাড়ে তিন মিনিট ম্যাক্সিমাম। তার উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে আমাদের ব্যান্ড ছয় -সাত মিনিটের নিচে কোনও গান করে না। প্রায় প্রত্যেকটিই সফল। মানে ব্যাপারটা যে মিথ, সেটা বোঝাই যাচ্ছে আমাদের গানগুলো সফল হওয়ার জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে।" 

Advertisement

তিনি যোগ করেন, "আমি খুব একটা এফএম কোনওকালেই শুনতাম না। ফলে সেই জায়গা থেকে আমি জানি না এখন বাংলা ব্যান্ডের গান চলে কিনা। তবে এটা তো মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি। যে গান লোকে বেশি শুনবে, সেই গানই বেশি করে চালানো হবে। যতক্ষণ না একটা গান  হঠাৎ করে হিট করে যাচ্ছে। আমি শুনেছি যে, সাউথ ইন্ডিয়া বা অন্যান্য জায়গাতে নাকি সেখানকার এফএমে সেই ভাষার গান চালাতে হয়। আমাদের এই চত্বরে কোনও দিন এসব হয়নি। যদি হয়, তাহলে মনে হয় ভালই হবে। যদি নিয়ম করে একটা স্লট অন্তত বার করা যায়, যেখানে শুধুমাত্র বাংলা গানই বাজবে সমস্ত এফএম-এর ক্ষেত্রে।" 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement