
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণ জনপ্রিয় 'লাফটারসেন' ওরফে নিরঞ্জন মণ্ডল। নানান চরিত্রে নিজেকে উপস্থাপনা করে তাঁর ফলোয়ার্সের সংখ্যা ইতিমধ্যেই বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে সকলে তাঁকে 'বিগ বস' বাংলার বাড়িতে দেখছেন, যেখানে নিরঞ্জন একেবারে নিজের মতো করে গেম খেলার চেষ্টা করছেন। যদিও শনিবার দাদার দরবারে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিরঞ্জনের রীতিমতো তর্ক বেঁধে গিয়েছিল। যার নেপথ্যে কারণ ছিল জিতু কমলের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। যা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। যদিও নিরঞ্জন মেনে নিয়েছিলেন যে টাস্কের মধ্যে থাকাকালীন জিতু হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে সেই কাজটি করেননি। কিন্তু নিরঞ্জনকে মিথ্যেবাদী বলায়, সেই বিষয়টি নিতে পারেননি জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বিগ বস-এর ঘরে তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে আসল কথা জানালেন নিরঞ্জন।
নিরঞ্জন তাঁর ছোটবেলার কিছু ভযঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা সামনে এনেছেন। যা শোনার পর সকলেই থম মেরে গিয়েছিল। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্কা এবং ঝিলমের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় আসল সত্যিটা সামনে আনেন তিনি। নিরঞ্জন পরিষ্কার জানান, খেলার সময় ভুল করে গায়ে হাত লাগতেই পারে। এটা তিনি খুব ভালো করেই বোঝেন। কিন্তু জিতু যখন তাঁকে সরাসরি ‘মিথ্যেবাদী’ বলেন, তখন তিনি আর নিজেকে সামলাতে পারেননি। নিরঞ্জন জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তাঁকে বারবার যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে।
নিরঞ্জন বলেন, ছোটবেলায় একাধিক পুরুষ আমাকে যৌন হেনস্থা করেছে। আমার কথা বলা বা চলায় ছোট থেকেই একটু মেয়েলি ব্যাপার ছিল। আজও হয়তো সেটা কিছুটা রয়ে গিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হল, আমি যখন ওই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করতাম, তখন সবাই উল্টে আমাকেই মিথ্যেবাদী বলত! কারণ আমি মেয়েদের মতো আচরণ করতাম। নিরঞ্জন আরও জানান যে তাই ওইদিন জিতুর মুখ থেকে মিথ্যেবাদী শোনার পর তিনি আর চুপ করে থাকতে পারেননি। ছোটবেলার সেই পুরনো এবং ভয়ংকর কষ্ট এক মুহূর্তে তাঁর মনে ফিরে এসেছিল। নিরঞ্জনের এই কথা শোনার পর অনুষ্কা ও ঝিলম একদম চুপ হয়ে যান।
এই রিয়্যালিটি শোয়ে এমন টাস্ক দেওয়া হয় যেখানে শারীরিক কসরত করতে হয়। একে অপরের সংস্পর্শে আসাও খুব স্বাভাবিক। দিন কয়েক আগে টাস্ক চলাকালীন জিতুর উপর বেজায় চটেন নিরঞ্জন। দাবি করেন, জিতু তাঁর গোপনাঙ্গ স্পর্শ করেছেন। নিরঞ্জন প্রতিবাদ করতেই জিতু দাবি করেন, অভিযোগ মিথ্যে। তাতেই রাগ বাড়ে ইনফ্লুয়েন্সরের। এক পর্যায়ে দেখা যায় তিনি জলের বোতল ও একটি ফুলের টব ছুঁড়ে ফেলেন। আসলে জিতুর মিথ্যেবাদী তাঁকে বলাতেই নিরঞ্জনের ছোটবেলার স্মৃতি ফিরে আসে আর তাই তিনি এরকম প্রতিক্রিয়া দেন।