
'বিগ বস' বাংলা সিজন ৩ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দর্শমহলে। হিন্দি সহ বেশ কিছু ভাষায় বিগ বস শুরু হলেও, সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছে বাংলা বিগ বস। প্রথম দিন থেকেই এই ঘরে প্রতিযোগীদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন বিষয় দর্শক টানতে সফল হয়েছে। তবে যেদিন থেকে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিতে রাজবীর দে-এর প্রবেশ হয়েছে, সেদিন থেকে ঘরের হাওয়াই বদলে গিয়েছে। রাজবীরকে পছন্দ করেন না, এমন দর্শকের সংখ্যা খুবই কম। এরপরই ওয়াইল্ড কার্ড এন্টিতে বিগ বস-এ আসেন জিতু কমল। প্রথম প্রথম জিতু-রাজবীরের ভাইচারা সকলের পছন্দ হলেও, দাদার দরবারে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য ঘিরে দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন, বিগ বস-এ রাজবীর ও জিতুর মধ্যে পার্থক্য করা হচ্ছে। একজনকে যে বিষয় নিয়ে বকা দিচ্ছেন দাদা, ঠিক একই রকম বিষয় জিতু করলে তা খুনসুটির নাম দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় বিগ বস-এর এই দুই স্ট্রং সদস্যকে নিয়ে।
সম্প্রতি লাক্সারি বাজেট টাস্ককে ঘিরে জিতু কমলের একটি মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল তৈরি হয়েছে নেটপাড়ায়। দর্শকদের একাংশের দাবি, রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রেখে চাবি খোঁজানোর পরিকল্পনা নিয়ে জিতুর মন্তব্য যথেষ্ট আপত্তিকর। বিশেষ করে 'যতক্ষণ না অসুস্থ হয়ে যায়' মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন এই একই মন্তব্য রাজবীর করলে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হত। কিন্তু জিতুর ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশের দাবি, রাজবীর এরকম করলে সেটা খুন আর জিতু করলে সেটা খুনসুটি। এরকম দ্বিচারিতা কেন হচ্ছে বিগ বস-এর ঘরে? রাজবীরকে নিয়ে জিতুর এই মন্তব্যের অভিযোগ সামনে আসার পর আগের একাধিক বিতর্ক ফের আলোচনায় এসেছে।
এর আগে রাজবীরের সঙ্গে জিতুর একাধিকবার বিবাদ হয়েছে। নারীদের উদ্দেশ্যে করে তুই একটা মেয়েছেলে এবং পুরুষ হয়ে দেখার মতো মন্তব্য ঘিরেও অতীতে ধর্শকদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছিলেন। গুড়িয়া নিয়ে খেলার প্রসঙ্গেও জিতুর কথাবার্তা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা হয়েছিল। এবার লাক্সারি বাজেট টাস্কে রাজবীরকে দীর্ঘ সময় জলে রাখার মন্তব্য সেই পুরনো অশান্তিগুলোকে ফের উসকে দিয়েছে। দর্শকদের একাংশের বক্তব্য, রাজবীরের কোনও আচরণকে যদি ভয়ঙ্কর সীমা ছাড়ানো বলে দেখা হয়, তাহলে একই ধরনের অভিযোগ অন্য প্রতিযোগীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। শুধু প্রতিযোগীর পরিচয় বা দর্শকের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়ম বদলে যেতে পারে না। বিশেষ করে কোনও প্রতিযোগী অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কথা বলে হলে সেটিকে একেবারেই হালকা ভাবে নেওয়া ঠিক নয়, বলে মনে করছেন দর্শকের একাংশ।
নেটিজেনের একাংশ বলছেন, রাজবীরকে ঘিরে আগেও নানা মন্তব্য এবং আচরণ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। সেই তুলনায় জিতুর ক্ষেত্রে একই ধরনের অভিযোগ উছঠলে সেটিকে খুনসুটি বা মজার ছলে বলে কথা হিসাবে দেখানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন। এরই মাঝে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদার দরবার নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন, রাজবীরের আচরণ নিয়ে যেমন দাদা কড়াভাবে ভর্ৎসনা করেন, তেমনি জিতুর আচরণ ও কীর্তি নিয়েও সমালোচনা করা উচিত সৌরভের। দর্শকের একাংশ চাইছেন জিতুর এই মন্তব্য যেন দাদার দরবারে তোলা হোক এবং অভিনেতাকেও তাঁর এই মন্তব্যের জন্য নিন্দা করা হোক। আদৌও সেটা হয় কিনা তার জন্য শনিবার দাদার দরবারে চোখ রাখতে হবে দর্শকদের।