Advertisement

Sayak Chakraborty: টাকা নিয়েই অলি পাব ইস্যু তৈরি করেছিলেন? মুখ খুললেন 'গোমাংস' বিতর্কিত সায়ক

এই শিরোনামের নীচেই কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। ছত্রিশ জনের তালিকায় বাংলার বেশ কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের নাম রয়েছে, যারা চলতি বছরের শুরু থেকেই খবরের শিরোনাম দখল করেছিলেন। সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সায়ক চক্রবর্তীর নাম। বছরের শুরুতেই যিনি অভিযোগ করেছিলেন পার্কস্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে গোমাংস পরিবেশন নিয়ে।

সায়ক চক্রবর্তীসায়ক চক্রবর্তী
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 26 Sep 2026,
  • अपडेटेड 11:06 AM IST
  • সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সায়ক চক্রবর্তীর নাম।

গত দুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশনের একটি তালিকা (যা bangla.aajtak.in যাচাই করেনি)। যেখানে ভোট মরশুমে প্রচারের জন্য কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তার উল্লেখ রয়েছে। জমা করা নথির শিরোনামে লেখা রয়েছে, ‘মিডিয়া অ্যাডভার্টাইজ়মেন্ট অন জেনারেল পার্টি প্রোপাগান্ডা অথরাইজড বাই পার্টি সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টাস’। মিডিয়া বলতে সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল, বাল্ক এসএমএস, কেবল নেটওয়ার্ক ইত্যাদি— কমিশনের ওয়েবসাইটে ওঠা নথিতে তারও উল্লেখ রয়েছে। এই শিরোনামের নীচেই কাকে কত টাকা দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

ছত্রিশ জনের তালিকায় বাংলার বেশ কিছু ইনফ্লুয়েন্সারের নাম রয়েছে, যারা চলতি বছরের শুরু থেকেই খবরের শিরোনাম দখল করেছিলেন। সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে সায়ক চক্রবর্তীর নাম। বছরের শুরুতেই যিনি অভিযোগ করেছিলেন পার্কস্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে গোমাংস পরিবেশন নিয়ে। সায়কের অভিযোগের জেরে রেস্তোরাঁর ওই কর্মীকে জেলেও যেতে হয়েছিল। এরপর জল অনেক দূর গড়ায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি অনেকটাই হালকা হতে শুরু করে। সম্প্রতি বিগ বস-এর ঘরেও দেখা গিয়েছিল এই জনপ্রিয় ইউটিউবারকে। সদ্যই বিগ বস-এর ঘর থেকে এলিমিনেট হয়েছেন তিনি আর বাইরে বেরোতেই আবার নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন সায়ক।

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই তথ্য অনুযায়ী সায়ককে দেওয়া হয়েছিল আড়াই লক্ষ টাকা। আর অর্থ হল সায়ক যে গোমাংস নিয়ে যে কাণ্ডটি বাঁধিয়ে ছিলেন, তা বিজেপির ভোট প্রচারের অংশ ছিল বলেই নেটপাড়ায় জোর গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠছে সব জায়গা থেকে। ইসিআইয়ের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সায়কের নামে আড়াই লাখ টাকা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র কটাক্ষ। পুরনো ‘গো-মাংস’ বিতর্ক টেনে নেটিজেন থেকে একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রীদের প্রশ্ন, প্রচারের এই টাকার জন্যই কি অলি পাবের বিফ-কাণ্ড বিতর্ক! আর এই বিতর্কের মাঝেই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সায়ক। 

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

সায়ক তাঁর ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে একটি দীর্ঘ লেখা শেয়ার করেছেন। তিনি লেখেন, 'অলি পাব প্রতিক্রিয়া আমার ইনস্ট্যান্ট, সেটা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে আমি নিজে সব ডিলিট করেছিলাম। আমি সেটা নিয়ে আর কথাও বলিনি, অলি পাব ভুল স্বীকার করে স্টেটমেন্টও দিয়েছিল । এটার সাথে অন্য কিছুরই কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা ঘটনা, রাজনীতি না। আমার মতে সেটা নিয়ে এখনও যারা উস্কাচ্ছে, তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে নিশ্চয়ই, সেটা সরকার দেখবে। সায়ক আরও বলেন যে অলি পাব ঘটনার পর তাঁকে বেশ কিছু দল কন্টেন্ট বানানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনায় বিজেপি এবং সমমনভাবাপন্ন মানুষ তাঁকে সমর্থন করেছিলেন, তাই তাদের হয়ে কিছু কনটেন্ট তিনি বানিয়েছিলেন। 

সায়ক জানিয়েছেন তিনি বিজেপির হয়ে ঠিক কী কী কনটেন্ট বানিয়েছিলেন? ইউটিউবারের কথায়, SIR নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল এক্সপ্ল্যানেশন এবং যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকার কারণ এবং BJP campaign-এর কাজ শেষ হয় নতুন C-কে congratulation-জানিয়ে তিনি কিছু পোস্ট ও কনটেন্ট বানান। সায়ক তাঁর সাফাইতে এও বলেন, অলি পাবের ঘটনা জানুয়ারিতে। আমার বিজেপির হয়ে এই সব কনটেন্ট মার্চ-মে, সেটাও কমিশনের ওয়েবসাইটে পাবেন। সায়ক এরই সঙ্গে বলেন, এর সঙ্গে যারা অলি পাব জুড়ছেন, ভুল করছেন। অলি পাবের সঙ্গে আমার টাকা পয়সার কোনও সম্পর্ক নেই, এটা যারা জেনেও ইচ্ছে করে উসকাচ্ছেন, অন্যায় করছেন। 

ঘটনাটি গত ৩০ জানুয়ারির। সে দিন পার্ক স্ট্রিটের একটি রেস্তরাঁয় দুই বন্ধুর সঙ্গে গিয়েছিলেন সায়ক। তাঁরা অভিযোগ তুলেছিলেন, মাটন স্টেক অর্ডার করলেও তাঁদের বিফ স্টেক পরিবেশন করা হয়। দু’টি প্লেটের একটিতে মাটন থাকলেও আর একটিতে গরুর মাংসের স্টেক কেন, এমন প্রশ্ন তুলে হইচই শুরু করে দেন সায়ক। পুরো বিষয়টির জন্য রেস্তরাঁর বেয়ারা নসিমুদ্দিনকে দায়ি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু করে দেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। লাইভ ভিডিওতে সায়ককে বলতে শোনা যায়, তিনি একজন ব্রাহ্মণসন্তান। তাঁকে কী ভাবে এই খাবার পরিবেশন করা হল? পরবর্তী ক্ষেত্রে সায়কের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বেয়ারাকে গ্রেফতার করে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ। বিতর্কের জল থানা পর্যন্ত গড়ানোর পর কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সদস্যেরা ওই বেয়ারার পক্ষ নিয়ে আসরে নামেন। তাঁদের তরফে সায়কের বিরুদ্ধে পার্ক স্ট্রিট থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়। নাসিমুদ্দিন জামিনে মুক্ত হন। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement