
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার ঘোষণা অনেক আগেই করেছিলেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী। ভোট শুরু হওয়ার আগেই বারাসাতের বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর বয়স হয়েছে, কর্মক্ষমতাও কমেছে। তাই আর তিনি ভোটে দাঁড়াতে চান না। তিনি সিনেমার জগতের মানুষ, সেদিকেই মনোযোগ দিতে চান তিনি। বারাসাত কেন্দ্রের টানা তিনবারের বিধায়ক এই মুহূর্তে অভিনয় পেশা নিয়েই ব্যস্ত। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এসে চিরঞ্জিৎ ফের জানালেন তিনি কেন রাজনীতিতে গিয়েছিলেন? শুধু তাই নয়, বিজেপি সরকারের প্রশংসাও করলেন প্রাক্তন বিধায়ক।
এক অনুষ্ঠানে এসে চিরঞ্জিৎ বলেন যে তিনি তো রাজনীতির লোক নন, তাই দল বদলের কোনও প্রশ্নই উঠছে না। চিরঞ্জিৎ বলেন, আমার কাছে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু আমি এককথায় না করে দিয়েছি। আমি তো রাজনীতির লোক নই। রাজনীতি ছাড়ব যখন মনে করেছি ছাড়ব। আমাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়ে গিয়েছিলেন, ওখান থেকে আমি বেরিয়ে এসেছি। এখন সন্ন্যাস নিয়েছি। এরপরই চিরঞ্জিৎ রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি বলেন, নতুন সরকার এসেছে, এখনও পর্যন্ত যা দেখছি অনেকগুলো ভাল ভাল কাজ করেছে। যদি এই ট্রেন্ড আপনারা চালিয়ে যেতে পারেন শুভেন্দুবাবু, তার সঙ্গে অগ্নিমিত্রা, পাপিয়া সবাই মিলে, তাহলে হয়তো আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে, তার সঙ্গে এ রাজ্যেরও অনেক উন্নতি হবে।
চিরঞ্জিৎ এরপর এও বলেন, সিপিএমও বলেছে, আমরাও বলেছি কেন্দ্র কিছু দেয় না, কিন্তু এখন তো আর সেটা বলা যাবে না, এখন তো কেন্দ্র ও রাজ্য একই, ডাবল ইঞ্জিন সরকার হয়ে গেছে, এখন আর তাই বঞ্চনা বঞ্চনা বলা যাবে না। অনেক পিছিয়ে গেছে বাংলা। প্রসঙ্গত, অভিনয়ের পাশাপাশি চিরঞ্জিৎ এখন নতুন ইউটিউব চ্যানেলও খুলেছেন। যেখানে তাঁর কবিতা, গান, আঁকা সবটাই দেখা যাবে। অভিনেতা জানিয়েছেন যে তিনি সময় কম পেলেও একটু একটু করে ভিডিও পোস্ট করছেন।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের সময় বারাসত থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রথমবার জয়ী হন চিরঞ্জিত। এরপর ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও আসে জয়। কিন্তু ছাব্বিশে আর প্রার্থী হতে চাননি। সেই সময় চিরঞ্জিত সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর রাজনীতিতে এসে জনপ্রিয় হওয়ার ইচ্ছা নেই। তাঁর কাছে প্রথম অগ্রাধিকার সিনেমা। ২০১১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চিরঞ্জিতের রাজনৈতিক যাত্রাপথে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—তিনি নিজে ভোটে দাঁড়াতে চাননি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হয়েছেন। ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১—তিনবারই একই ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ, চিরঞ্জিতের রাজনীতিতে আসা বা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে সবসময়েই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু শেষবার আর সেটা হয়নি। তাই এই বছরেই রাজনীতিকে বিদায় জানিয়েছেন চিরঞ্জিৎ।