Advertisement

Kanchan Mullick: 'BJP-র অফার এসেছিল কাঞ্চনের কাছে,' তারপর? bangla.aajtak.in-কে বললেন শ্রীময়ী

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট পাননি কাঞ্চন মল্লিক। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে দিদির ইচ্ছা তিনি মাথা পেতে নেবেন। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত। আর এরই মাঝে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিজেপিকে।

কাঞ্চন-শ্রীময়ীকাঞ্চন-শ্রীময়ী
মৌমিতা ভট্টাচার্য
  • কলকাতা,
  • 06 May 2026,
  • अपडेटेड 4:09 PM IST
  • ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট পাননি কাঞ্চন মল্লিক।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরপাড়া থেকে টিকিট পাননি কাঞ্চন মল্লিক। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে দিদির ইচ্ছা তিনি মাথা পেতে নেবেন। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত। আর এরই মাঝে উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক কাঞ্চন শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিজেপিকে। তারপর থেকেই বাজারে রটে গিয়েছে দল বদল করছেন নাকি কাঞ্চন। বিদায়ী বিধায়কের জন্মদিনের দিনই এই নিয়ে bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে কথা বললেন স্ত্রী শ্রীময়ী। 

তৃণমূল হারতেই দল বদলাচ্ছেন কাঞ্চন, চারদিকেই এখন এই কথাই শোনা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে শ্রীময়ী বলেন, 'ছাব্বিশের নির্বাচনেও কাঞ্চন মল্লিকের কাছে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রস্তাব এসেছিল, কিন্তু কাঞ্চন একটা জায়গা থেকে খুব অনড় ছিল যে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছিলাম, তাই ব্যাকস্টেপ করব না। কাঞ্চন কোনওদিনও টিকিট পাওয়ার জন্য কোনও মেহনত বা চেষ্টা কিছুই করেনি। একুশের নির্বাচনের আগে আমরা সিকিমে ছিলাম, তখন মাননীয়া ওকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন, তখন ও দাঁড়ায়, এটা আমার দেখা। কাঞ্চন যা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তাতে ওর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক পেশা জীবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একমাত্র পাশে পেয়েছে। কাঞ্চনের মতে, আমি ওই ব্যক্তিটার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকব, হার-জিত হতেই পারে। কাঞ্চন আর রাজনীতিতেই আসতে চায় না।' 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

এতদিন পর কেন গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে কথা বললেন অভিনেতা? শ্রীময়ী বলেন, 'কাঞ্চন এতদিন পর মুখ খুলেছে তার কারণ কাঞ্চন তো একজন শিল্পী হিসাবে সেখানে গিয়েছিল। উত্তরপাড়ায় যে তিনজন বিধায়ক হিসাবে গিয়েছিল প্রবীর দা, অনুপ দা আর কাঞ্চন, সেখানে কাঞ্চনের জেতার মার্জিন আরও বেশি ছিল। কাঞ্চনকে নিয়ে অনেক কাদা ছোঁড়াছুড়ি, কাটাকাটি, নিখোঁজ পোস্টার, তারপরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, এইসব কাঞ্চনের খুব খারাপ লেগেছিল। এরকমও হয়েছে নোংরা নোংরা কমেন্ট-ট্রোলের জন্য কাঞ্চনের জাতীয় স্তরের কাজও চলে গেছে। এইসব কারণের জন্যই ২০২৪ সাল থেকেই কাঞ্চন বলছিল রাজনীতিটা আমার জন্য ভুল, আমার চয়নে গণ্ডগোল হয়ে গেছে, আমার পাশে কাউকে দেখলাম যে আমায় সাপোর্ট করল। এত অপমান, এত লাঞ্ছনা নেওয়ার পর আর রাজনীতিতে থাকতে চাইছে না কাঞ্চন।' শ্রীময়ী এও বলেন, '২০২১ সালে আমি ছিলাম কাঞ্চনের নির্বাচনী প্রচারে, সেখানে আমি গোষ্ঠী কোন্দল দেখেছি। কাঞ্চন যবে থেকে টিকিট পেয়েছিল সেখানকার নির্বাচনী এজেন্ট থেকে শুরু করে আরো সবাই, সব নাম না নেওয়াই ভাল। তাঁদের কাঞ্চনকে বলতে শুনেছি তাঁদেরই নাকি টিকিট পাওয়ার কথা ছিল, এইসব কথা সাময়িকভাবে কাঞ্চন দিদিকে জানিয়েছিল। আসলে রাজনীতিটা আর রাজনীতি নেই, তৃণমূলের মধ্যেকার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে পরিণত হয়েছে, রাজনীতির শিকার হতে হয়েছে কাঞ্চনকে। প্রভাবশালী নেতাদের মতো কাঞ্চনের ওই ক্ষমতা নেই যে ওটার প্রতিবাদ করবে, তাই কাঞ্চন বলেছিল যে আমি আর রাজনীতিতে থাকব না, রাজনীতি থেকে দূরে থাকব। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যেহেতু ওই দলের কাণ্ডারি, এইজন্য কাঞ্চন কোনওদিন মুখ খোলেনি, কারণ স্বাভাবিক সেটা নিজের গায়ে থুতু ছেটানো হয়।' 

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

শ্রীময়ীর কথায়, 'যা অপমানিত কাঞ্চন হয়েছে, রাজনীতির শিকার হয়েছিল, ওঁর প্রথম পেশা অভিনয়ের ওর প্রভাব পড়েছে। হাত থেকে থিয়েটারের কাজ চলে গেছে। কাঞ্চন ওঁর অভিনয়ের প্রতি ভীষণ নিষ্ঠাবান। শ্যুটিংয়ে দেরি করে যাওয়া একেবারেই পছন্দ করে না। তাই কাজ চলে যাওয়া কাঞ্চনের কাছে অপমানজনক ছিল। ওই জন্য কাঞ্চন আর কোনও দলেই যাবে না। ছাব্বিশের নির্বাচনে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রথম কাঞ্চনেরই ছিল।' কাঞ্চন-পত্নী আরও বলেন, 'কাঞ্চনের সাপোর্টে দিদি সব সময় থেকেছে। এটা তো কেউই ভাবেনি যে এভাবে হেরে যাবে। ২০২১-এ এত ঘটনা ঘটল আমাদের, তখনও উনি আমাদের সাপোর্টে ছিলেন, দিদি সব সময়ই আমাদের সাপোর্ট করতেন, তার জন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ। শ্রীময়ীর কথায়, কাঞ্চন কোনওদিনই চার-পাঁচটা বডিগার্ড নিয়ে চলতে অভ্যস্ত ছিলেন না, কাঞ্চনের কথায় এই বিধায়ক চেয়ারের দাম পাঁচ বছর, এটা চলে গেলেও অভিনেতা কাঞ্চনকে সবাই মনে রাখবে, এইসব সিকিউরিটি-বডিগার্ড সাময়িক, সব চলে যাবে, এই বদ অভ্যাস করে কী হবে। সেই কথাই যে মিলি যাবে, কে জানত। কাঞ্চনেরই প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচনে না দাঁড়ানোর, তবে সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই এই সিদ্ধান্ত। কাঞ্চন এখন আর রাজনীতিতে নেই।' এখন অভিনয় আর সংসার এটাই বিদায়ী বিধায়কের একমাত্র ফোকাস।     

Read more!
Advertisement
Advertisement