
সদ্য বিজেপির সাংসদ হয়েছেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির টলি কুইন কোয়েল মল্লিক। আর সেই নিয়ে চর্চা-বিতর্ক বহু হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ভবানীপুরের মল্লিক বাড়িতে পুরনো ঐতিহ্য মেনেই দুর্গাপুজো হচ্ছে। ১০২ বছরে পা দিয়েছে মল্লিক পাড়ির পুজো। নবমীর সন্ধ্যায় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের আমন্ত্রণে সেখানে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন তিনি মল্লিক বাড়ির পুজো টিভির পর্দাতেই দেখেছেন। এই বছর রঞ্জিত মল্লিকের আমন্ত্রণে সেই পুজোতে হাজির হলেন। এই বাড়ির মেয়ে কোয়েল এখন বিজেপির সদস্য। তাঁর বাড়ির পুজোয় মুখ্যমন্ত্রী, কী বলছেন নায়িকা?
কোয়েল এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, কী করে একসঙ্গে মিলে যৌথ পরিবারে থাকতে হয়, সেই জিনিসটা হয়তো আমাদের মধ্যে আছে। সেই কারণে আমরা এই বাড়িতে এত বছর ধরে পুজো করে আসতে পেরেছি, ১০২ বছর হয়ে গিয়েছে। রঞ্জিত-কন্যা আরও জানান যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসেছেন, তাঁর খুবই ভাল লাগছে। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষের সময়ই বাবা রঞ্জিত মল্লিক মুখ্যমন্ত্রীকে এই পুজোয় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এতদিন এই পুজো টিভিতেই দেখেছেন বলে জানান কোয়েল।
কোয়েল এরপর জানান যে তাঁর খুব প্রিয় নারকেল নাড়ু, যেটা ছোটবেলায় নায়িকা চুরি করে প্রচুর খেয়েছেন, সেই নাড়ু খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মল্লিক বাড়ির পুজোতে। মল্লিক বাড়িতে গিয়ে মঙ্গলবার রঞ্জিত মল্লিক এবং কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে পুজো দেন শুভেন্দু। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী জানান, মহানায়কের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে রঞ্জিত মল্লিকের কথা হয়েছিল। কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোর অন্যতম পরিচিত নাম মল্লিক বাড়ি। ১০২ বছরের এই পুজোয় পারিবারিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্য আজও বজায় রয়েছে।
শত ব্যস্ততার মাঝেও কোয়েল পুজোর চারদিন বাড়ির পুজোতে সামিল হন। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ষষ্ঠী-সপ্তমী, অষ্টমীর অঞ্জলি থেকে ভোগ খাওয়া, নবমীর পুজো আর দশমীতে সিঁদুর খেলার পর বর নিসপাল সিং ও বাবা রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে উমা বিদায়ে যোগ দেন টলি কুইন। তবে গত বছর থেকে এই পুজোর প্রধান আকর্ষণ কোয়েলের মেয়ে কাব্যা। এই পুজোতেও তাঁকে মা কোয়েলের সঙ্গে দেখা যায়, সঙ্গে ছিল ছেলে কবীরও।