
প্রথম দফা নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে জোর কদমে। ২৯ এপ্রিল কিছু জেলা সহ কলকাতাতেও রয়েছে ভোট। আর স্বাভাবিকভাবে আদা জল খেলে জনসংযোগ বাড়াতে শুরু করে দিয়েছেন সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। আর এরই মাঝে টলিপাড়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রসেনজিতের সঙ্গে দেখা গেল বালিগঞ্জ কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী আফরিন শিল্পীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় নেয়নি। বুম্বাদার সঙ্গে দেখা করে কী কথা হল আফরিনের, সবটা শুনল bangla.aajtak.in।
বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার প্রসেনজিৎ। তাঁর বাড়ি উৎসব বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে। যেটা আফরিনের কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ছে। আফরিন এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমার বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই যেহেতু ওঁনার বাড়ি পড়ে, আমি ওখান দিয়ে যাচ্ছিলাম, তাই আমি ওঁনার সঙ্গেও দেখা করি। উনি আমাকে শুভেচ্ছা বার্তা জানান, আশীর্বাদ করেন।' সিপিআইএমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রার্থী এও বলেন, 'আমি যেহেতু ছোটবেলা থেকে ওঁনাকে দেখেছি, খুবই ভাল লাগল কথা বলে। ওঁনার সঙ্গে পরিচয় হল, কথা হল, খুবই ভাল লাগল।' আফরিন জানান যে তিনি ছোট থেকেই বহু সিনেমা দেখেছেন প্রসেনজিতের। বড় হওয়ার পরও তিনি বুম্বাদার একাধিক ছবি দেখেছেন। এছাড়াও আফরিন প্রসেনজিতের 'চোখের বালি' ও 'অটোগ্রাফ' ছবিটি বিশেষভাবে ভাল লাগে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আফরিন শিল্পী বাম ছাত্র রাজনীতি (SFI) থেকে উঠে আসা এক লড়াকু মুখ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী এই তরুণী অত্যন্ত অল্প বয়সেই দলের বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী। বালিগঞ্জের মতো হাই-প্রোফাইল আসনে যেখানে তৃণমূলের হেভিওয়েট ও বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় লড়ছেন, সেখানে মাত্র ২৯ বছর বয়সে আফরিন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস দেখিয়েছেন। আফরিন শিল্পীকে নিয়ে তাই চর্চা কম হচ্ছে না। রোদ-জল গায়ে লাগিয়েই দরজায় দরজায় ঘুরছেন আফরিন। আফরিন তাঁর সাবলীল বক্তব্য এবং জনসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের নজর কাড়ছেন। সিপিআইএম-এর তরুণ তুর্কি ইতিমধ্যেই সকলের নজর কাড়তে সফল হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রচারের ধরন এবং ‘লাল ঝান্ডা’র প্রতি নিষ্ঠা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
অপরদিকে, প্রসেনজিতের বাড়িতে বিজেপি প্রতিনিধিদের আগমন নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি। প্রসেনজিৎ-এর পদ্ম-পুরস্কার প্রাপ্তির পর তাঁর সঙ্গে সৌজন্য় সাক্ষাৎ করতে পৌঁছেছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই হইচই পড়ে যায়। যদিও প্রসেনজিতের স্পষ্ট দাবি ছিল যে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন না। আসলে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেই থেকেছেন প্রসেনজিৎ।