
পুরনো সিরিয়াল যেমন বন্ধ হয় তেমনি নতুন সিরিয়ালও শুরু হয়। কিছু কিছু সিরিয়াল নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ বেশি দেখা যায়। সেরকমই একটি সিরিয়াল হল সতীপীঠ কালীঘাট। ইতিমধ্যেই সিরিয়ালের প্রথম ঝলক চ্যানেলে দেখানো হয়ে গিয়েছে। তবে কবে নাগাদ দেখানো হবে এই সিরিয়াল, সেই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। আর তারই মাঝে সিরিয়ালের চিত্রনাট্য লিখিয়ে পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ উঠল প্রযোজক সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে। যিনি জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রানি রাসমনি’ প্রযোজনা করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযোগ এনেছেন প্রখ্যাক বাঙালি লেখিকা দেবারতী মুখোপাধ্যায়। এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রযোজকও।
লেখিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক ‘সতীপীঠ কালীঘাট’-এর প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সুব্রত রায়। এই মেগার কাহিনীকার হিসেবে কাজ করার জন্য দেবারতির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গল্প লেখার কাজ শেষ হয়ে গেলে পারিশ্রমিকের বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর দেবারতির নজরে আসে ধারাবাহিকের প্রোমো। তখন ফের সুব্রত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। দিনের পর দিন, এভাবে প্রতারিত হওয়ার পর এবার সত্যিটা সকলের সামনে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়।
দেবারতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় সতীপীঠ কালীঘাট-এর একাধিক স্ক্রিনশট শেয়ার করে সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লেখিকা। নিজের দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বহুদিন চুপ ছিলাম। ভেবেছিলাম লিখিত প্রতিশ্রুতি, পেশাদার সম্পর্ক, দেওয়া কথা এবং ন্যূনতম সততার তো একটা মূল্য আছে। কিন্তু আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। জি বাংলায় ‘কালীঘাট’ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সিরিয়ালের জন্য ৯ মে ২০২৬ তারিখে ওই সিরিয়ালের প্রযোজক সুব্রত রায় তাঁর রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাহিনীকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানান। আমি নিজে থেকে কোনওদিন কোনও প্রযোজনা বা প্রকাশনা সংস্থায় যোগাযোগ করিনি। এক্ষেত্রেও আমায় যেচে ডাকা হয়েছিল।’ নিজের পোস্টে লেখিকা এও বলেন, প্রথমে যখন আমাকে বলা হয় এটা একটি টেলিভিশন সিরিয়ালের কাজ, আমি নিজেই ‘না’ করে দিয়েছিলাম। কারণ আমার পরিচয় ঔপন্যাসিক, আমি জানি যে ধরণের টেলিসিরিয়াল বাংলা চ্যানেলে চলে তার সঙ্গে আমার স্বাভাবিক সাহিত্যগত কাজের জায়গার সামঞ্জস্য নেই। কিন্তু আমাকে বারবার বলা হয় এই প্রোজেক্ট অন্যরকম। বলা হয়, এটা সাধারণ ডেইলি সোপ নয়। এর কেন্দ্রে থাকবে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে কালীঘাট মন্দির, রাজা প্রতাপাদিত্য, বাংলার অতীত, লোকবিশ্বাস, মাইথোলজি, হিস্ট্রি, সোশাল কনফ্লিক্ট এবং একটা বড় ক্রিয়েটিভ ইউনিভার্স। আমায় স্ক্রিপ্ট নয়, মূল কাহিনী বুনে দিতে হবে, সেখান থেকে স্ক্রিপ্টরাইটাররা দৈনন্দিন স্ক্রিপ্ট বানাবেন। এই কথাগুলোয় আমি বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সুব্রত রায় বয়স্ক মানুষ, রানি রাসমনি নামক জনপ্রিয় সিরিয়ালের প্রযোজক, আমি তাঁর কথায় বিশ্বাস করে কাজ শুরু করি।
দেবারতীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে ৭ মে সম্ভাব্য সিরিয়ালের কনসেপ্টের বিবরণ দেওয়া হয়। ৯ মে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কাহিনীকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবারতিকে। যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল সিরিয়ালের জন্য গল্প লিখবেন। সেখানে চিত্রনাট্যাকার, পরিচালক, ক্রিয়েটিভসহ সকলে উপস্থিত থাকবেন। ডেইলি সোপে কাহিনীকার হিসেবে দেবারতির নামোল্লেখ থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরপর ১৫ মে চ্যানেলের সঙ্গে মিটিংয়ে আগামী একবছরের লেখা জমা দেন। এরপরই আসল গল্প শুরু হয়। দেবারতির দাবি, ভোল বদলে যায় প্রযোজনা সংস্থার। সুব্রত রায় সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেন লেখিকার সঙ্গে। বলা হয়, ‘চ্যানেল দেখছে।’ আর তারপর শুরু হয় তারিখের পর তারিখ। এরই মাঝে লেখিকা দেখেন যে জি বাংলায় এই সিরিয়ালের প্রথম ঝলক। তিনি আবারও যোগাযোগ করেন এবং ১০ জুন বলা হলেও ফের দিন বদলে দেওয়া হয়। লেখিকা ও তাঁর সহকারী বহুবার প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। প্রতিবারই আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্মানিক আসে না। শুধু তাই নয় দেবারতি এও বলেন যে অগত্যা চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে পোস্ট ডেটেড চেক দেওয়া হয়। সেটি জমা দিলে দেখা যায় সেখানে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এই প্রেক্ষিতে আরও মারাত্মক অভিযোগ, চেক দেওয়ার পর নাকি দেবারতিকে সেটি জমা দিতে বারণ করা হয়েছিল।
তবে দেবারতির এই অভিযোগের পাল্টা দিয়েছেন সুব্রত রায়। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি বলেছেন যে দেবারতি মুখোপাধ্যায় পারিশ্রমিক বাবদ যে অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন তার পুরোটাই মিটিয়ে দিয়েছেন প্রযোজক সুব্রত রায়। প্রযোজক লেখেন, আমি সকলকে জানাতে চাই, দেবারতী দেবী 'কালীক্ষেত্র কালীঘাট'-এর কাহিনি লেখার জন্য (যা আদতে ব্যবহারই করা হয়নি) যে অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন (১ লক্ষ টাকা), সেই টাকা আমি আজ তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিলাম। সুব্রত রায় আরও বলেন, যে ঘটনাটি ঘটল তার সঙ্গে জি বাংলা কোনওভাবেই যুক্ত নয়।