
বলিউড হোক কিংবা দক্ষিণের ব্লক ব্লাস্টার ছবি অথবা কোনও প্যান ইন্ডিয়া সিনেমা, বরাবরই এই ছবিগুলির কারণে ভুগতে হয়েছে বাংলা ছবিকে। আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে। হিন্দি অথবা দক্ষিণী সিনেমার কারণে হল পায়নি বাংলার ভাল ভাল ছবি। একাধিকবার এই নিয়ে প্রতিবাদ হলেও, সমাধান কিছুই বেরোয়নি। এবারও সেই একই ঘটনা ঘটল পরিচালক শমীক রায়চৌধুরী পরিচালিত 'মায়া সত্য ভ্রম' ছবির সঙ্গে। যশ-কিয়ারার প্যান ইন্ডিয়া ছবি টক্সিক-এর জন্য এখনও হল পাইনি মায়া সত্য ভ্রম ছবি।
মঙ্গলবার রাতে লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দিলেন পরিচালক শমীক সহ প্রিয়াঙ্কা-সোহমরা। পরিচালক-প্রযোজক শমীক প্রথমেই জানান যে এটা নিজেরা প্রযোজনা করে এই ছবি তৈরি করেছেন এবং একবছর আগে থেকেই ঠিক ছিল যে তাঁরা ২৮ অগাস্ট 'মায়া সত্য ভ্রম' ছবিটি রিলিজ করবে। তাঁরা কিছু সময় আগেই জানতে পারেন যে ওই সময়ই মুক্তি পাচ্ছে টক্সিক ছবিটি। যেটি বড় আকারের, বড় বাজেটের ছবি। আর সেই কারণে শমীকের এই মায়া সত্য ভ্রম কোনও হল, স্ক্রিন টাইম পায়নি। পরিচালক শমীক বলেন যে দুটো সরকারি হল নন্দন এবং রাধা-সহ মাত্র তিনটি হল পেয়েছে এই ছবি।
শমীক জানিয়েছেন যে দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগটুকু দেওয়া হচ্ছে না এই ছবিকে। এই সপ্তাহে একটাই বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে, অথচ নিজের রাজ্যেই বাংলা ছবিকে একঘরে করে দেওয়া হয়েছে। শমীক বলেন, টক্সিককে ৯০ শতাংশ বা ১০০ শতাংশ স্ক্রিন ছেড়ে দিতে হবে, এই শর্তেই নাকি যশের ছবিকে মুক্তি দিচ্ছে নির্দিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা। শমীকের পাশাপাশি সোহমও বলেন, ‘একটা বাংলা ছবি বাংলায় জায়গা পাবে না। এমন নয়, আমরা কম শো পাচ্ছি, আমরা শো-ই পাচ্ছি না। আমি ভাবতে পারছি না, আমাদের একটা লাইভ করতে হচ্ছে। এটা চলতে পারে না। আমি এই মুহূর্তে খুব রেগে আছি। সব নিয়ম মেনে এই ছবিটা তৈরি হয়েছে। আমরা ফ্রি-তেও হল চাইছি না।
সোহম এও বলেন, আমরা যদি ৩টে শো-ও পাই, তাহলে আমরা ওইদিনই ছবি মুক্তি পাবে। কোনও তামিল ছবি চেন্নাইতে এভাবে সাফার করে না। স্ট্রাগল থাকবে কিন্তু আমি বাংলায় বাংলা ছবি দেখাতে পারব না এটা হতে পারে না। আমি টক্সিকের বিরুদ্ধে নই। কারণ আমিও তো এই ধরণের ছবির অংশ থেকেছি। কিন্তু এটা তো বুলিং। সোহম বলেন, ‘নির্দিষ্ট অথোরিটি জানো এটা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়, এটাই চাই। সিস্টেম, গর্ভমেন্ট সবার কাছে অনুরোধ এটা চলতে পারে না। অনুরোধ করছি, দয়া করে এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিন। আগেও অনেক সিনিয়র পরিচালককে দেখেছি এই ধরণের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। যখন অন্য ভাষার ছবির জন্য তাঁদের ছবি মুশকিলে পড়েছে, কিন্তু তখনও তারা ৫০-৬০টা শো পেয়েছে। সে জায়গায় আমরা মাত্র ৩টে শো পেয়েছি…’।
এর আগেও বেশ কিছু বড় বাজেটের হিন্দি ও প্যান ইন্ডিয়া ছবির কারণে বাংলা ছবি প্রাইম টাইম শো পায়নি। এই নিয়ে একাধিক প্রতিবাদ হলেও অবস্থার বদল হয়নি। গত বছর অগস্ট মাসে মমতা সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট বলা হয় ৩৬৫ দিনই সিনেমা হলে অন্তত একটা বাংলা ছবির শো চালাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সেই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে হল মালিকেরা। ২৮ অগাস্ট সোহম-প্রিয়াঙ্কার এই ছবি মুক্তি পাওয়ার পর টক্সিকের চাপে আদৌও নিজের রাজ্যে জায়গা করতে পারে কিনা?