
কয়েকদিন হল মুক্তি পেয়েছে মিমি চক্রবর্তী অভিনীত ওয়েব সিরিজ কুইনস। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে। রিভিউও দারুণ। একদিকে যখন কুইনস-এর সাফল্যের আনন্দ রয়েছে, তেমনি একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে এই সিরিজের শ্যুটিংয়ের কথা তুলে ধরেছেন পরিচালক নির্ঝর মিত্র। আর যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য তৎকালীন ফেডারেশনের হস্তক্ষেপ। প্রায় থমকে গিয়েছিল মিমির সিরিজ কুইনস-এর শ্যুটিং। ঠিক কোন ঘটনার কথা তুলে ধরলেন পরিচালক নির্ঝর?
পরিচালক তাঁর ফেসবুক পেজে মিমির এই সিরিজের শ্যুটংয়ের টুকরো টুকরো ঘটনাকে তুলে ধরেছেন। তিনি লেখেন, আরও কঠিন যুদ্ধ। কিন্তু সকাল থেকেই গোটা টিমের কো-অর্ডিনেশন ছিল দুর্দান্ত। ইশারায় ইশারায় কাজ হয়ে যাচ্ছিল। লাঞ্চ পর্যন্ত মনে হচ্ছিল আমরা ঠিক ছন্দটা পেয়ে গিয়েছি। পরিকল্পনা ছিল আগের দিনের বাকি থাকা দৃশ্যগুলোও তুলে নেওয়ার। সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্তও সেটাকে খুব একটা কঠিন দিন বলে মনে হচ্ছিল না। এরপরই পরিচালক আসল ঘটনাকে সামনে নিয়ে এলেন।
পরিচালক লিখলেন, হঠাৎ প্রোডাকশন বেস থেকে খবর এল— “নাইট পারমিশন পাওয়া যায়নি।” সাধারণত রাত ১০টার পর শ্যুটিং করতে হলে ফেডারেশন থেকে নাইট পারমিশন নিতে হয়। আপনি শ্যুটিংয়ের ৭ দিন আগেও যদি মেইল করে আবেদন করেন, তবুও অনেক সময় সেই অনুমতি শ্যুটিংয়ের দিন রাত ৮টা নাগাজ পৌঁছায়। প্রোডাকশন ম্যানেজার একটু ভীত গলায় বললেন, তুমি একবার দাদাকে ফোন করে রিকোয়েস্ট করো। পরিচালক লেখেন, আমি শ্যুটিং থামিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসকে ফোন করলাম। অনুরোধ করলাম। উনি জানালেন, নাইট পারমিশন দেওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ, আমার যে ১৪ ঘণ্টার শুটিং পরিকল্পনা ছিল, যা সাধারণত রাত ১২টা নাগাদ শেষ হওয়ার কথা, সেটা সেদিন রাত ১০টার মধ্যেই গুটিয়ে ফেলতে হবে। কারণ উনি বললেন আমার নামে সব জায়গায় কমপ্লেন এসেছে যে আমি গত কাল দু’ঘন্টা এক্স্ট্রা শ্যুটিং করেছি। যদিও সে দুই ঘন্টার মৌখিক অনুমতি দাদার সেক্রেটারি আমাকে দিয়েছিলেন, তবুও।
এরপর কুইনস পরিচালক আরও লেখেন, খুব রাগ হলো, রাগে কাঁপতে কাঁপতে আমি আর কী-ই বা বলতে পারি। শুধু চিৎকার করে বললাম, “প্যাক আপ।” কারণটা জেনে সবাই অবাক হয়েছিল। আমরা সবাই মনে মনে “হৌসলা বুলন্দ রহে” বলতে বলতে বাড়ি ফিরে আসলাম আর পরের দিনের প্রস্তুতি নিলাম। পরিচালকের বিশ্বাস ছিল, পরের শ্যুটিংয়ে এমন হবে না। প্রসঙ্গত, তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের এমন অনেক কাণ্ডই রয়েছে টলিউড জুড়ে। মেকআপ শিল্পীর অভিযোগে এখন আপাতত গ্রেফতার এই তৃণমূল নেতা।