
৪ মে রাজ্যে পালা বদল হতেই হঠাৎ করে গোটা চিত্রটাই যেন পাল্টে গেল। তৃণমূল সরকার বাংলা থেকে বিদায় নিতেই টলিউড তারকাদেরও গলার সুর কেমন বদলানো বদলানো লাগছে। প্রাক্তন সরকারের যে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা রাজনৈতির অনুষ্ঠানে মঞ্চে যেন থাকত চাঁদের হাট। টেলিভিশন থেকে শুরু করে টলিউডের একাধিক তারকাদের দেখা যেত তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে। তবে বাংলায় গেরুয়া ঝড় উঠতেই গোটা চিত্রটাই এক নিমেষে বদলে যায়। ৯ মে পঁচিশে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তী আর এইদিনই ছিল রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। শনিবার রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কালীঘাটে নিজের বাড়ির সামনেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন মমতা। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি টলিপাড়ার কোনও তারকাকেই। অপরদিকে ব্রিগেডে এদিন সভা ভরিয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
কালীঘাটের বাড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আয়োজিত এই রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছোটপর্দার একমাত্র সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় ছাড়া আর সেভাবে কোনও তারকাকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে দেখা যায়নি। অথচ, যাঁদের নাকি আসার কথা ছিল, তাঁরাই একসময় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সরকারি যে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসে মঞ্চ আলো করে বসতেন। পঁচিশে বৈশাখের দিন ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে। যেখানে আমন্ত্রণ পেয়ে মঞ্চ আলো করে বসে থাকতে দেখা যায় প্রসেনজিৎ, জিৎ, মমতা শঙ্কর, যিশু সেনগুপ্ত, পায়েল সরকার, ঋষি কৌশিক সহ আরও অনেকেই।
আর সেই জায়গায় মমতার বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষ্যে ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা মমতা ঘনিষ্ঠ কোনও তারকাদেরই এদিন দেখতে পাওয়া গেল না। এ দিন বিকেল চারটে নাগাদ তৃণমূল নেত্রীর কালীঘাটের বাড়ির সামনে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অভিনয় দুনিয়া থেকে দেখা গেল শুধু সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু দেখা যায়নি সৌমিতৃষা, রূপাঞ্জনা মিত্র, দিগন্ত বাগচি, তিয়াসা লেপচা, সোহেল দত্ত, প্রিয়া পাল, নচিকেতা, ভিভান ঘোষ সহ আরও অনেককে। দেখা যায়নি পরমব্রত, জুন মালিয়া, পার্নো মিত্রদেরও। শুধুমাত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, অর্পিতা ঘোষ, কুনাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আবৃতি এবং রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আয়োজিত রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান।
সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ তারকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের বেশিরভাগই জানিয়েছেন নয় তাঁরা অসুস্থ, নয়তো শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত আবার কেউ কেউ বলেছেন যে তাঁরা আমন্ত্রণ পাননি। যদিও ইতিমধ্য়েই এঁদের মধ্যে কেউ কেউ আবার সুর বদল করে নিয়েছেন। আর সেটা নিয়েই এখন টলিপাড়ার জল্পনা কিন্তু তুঙ্গে।