Advertisement

Sayantika Banerjee: 'আমি কোনও তৃণমূলে নেই,' বলছেন সায়ন্তিকা, তা হলে এখন কোন শিবিরে নায়িকা?

ভোটে হারার পর এখন নিজের দিকে মন দিয়েছেন নায়িকা। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে ওজন কমিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁকে প্রায়ই নাচের ভিডিও আপলোড করতে দেখা যায়।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Oct 2026,
  • अपडेटेड 12:34 PM IST
  • বাঁকুড়া টু বরানগরের সফর একেবারেই সহজ ছিল না প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।

সিনেমার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক কেরিয়ারে তাঁকে দৌড়ঝাঁপ করতে বেশি দেখা গিয়েছিল। বাঁকুড়া টু বরানগরের সফর একেবারেই সহজ ছিল না প্রাক্তন বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও সায়ন্তিকা মরিয়া হয়ে ভোটের প্রচার করেছিলেন। নাওয়া-খাওয়া ভুলে অভিনেত্রী তখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। নায়িকা সুলভ চেহারা থেকে বাড়িয়েছিলেন ওজনও। কিন্তু ভোটের ফলাফল রাতারাতি সায়ন্তিকাকে বদলে দেয়। এখন রাজনীতির ময়দান ছেড়ে ফিরেছেন লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনে। কমিয়েছেন ওজনও। একদিকে যখন তৃণমূল ছেড়ে এক এক করে সব তারকারা দলবদলু হচ্ছে, ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সায়ন্তিকা কী ভাবছেন? সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন সায়ন্তিকা। 

পডকাস্টের হোস্ট সায়ন্তিকাকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, বিজেপিতে যোগ দেবে না তো? যার উত্তরে সায়ন্তিকা বলেন, এই ভাল আছি, সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়? এরপরই প্রাক্তন বিধায়ককে জিজ্ঞাসা করা হয় যে তিনি কোন তৃণমূল? অভিনেত্রী স্পষ্ট জবাব দেন যে তিনি কোনও তৃণমূলে নেই। সায়ন্তিকা বলেন, রাজনীতি আলাদা বিষয়। ওটা আমরা ঠিক করতে পারব না। ওই লেভেলের নোংরামি করতে পারব না। যেটা রাজনীতিবিদরা পারেন। গণ্ডারের চামড়া বানিয়ে নিতে হবে। আমরা স্পর্শকাতর আমাদের ব্যথা হয়। দুঃখ পাই। ওই লেভেলের গণ্ডারের চামড়া মোটা করে নিতে না পারলে ভালো রাজনীতিক হতে পারবে না।

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

তবে সায়ন্তিকা এই পডকাস্টেই স্পষ্ট করে দেন যে তিনি কোনও তৃণমূলেই নেই, প্রাক্তন তৃণমূল তাঁকে বলা চলে। একটা সময় অভিনয় ছেড়ে চুটিয়ে রাজনীতিটাই করেছেন অভিনেত্রী। ২০২১ সালে র বিধানসভা ভোটের টিকিট পান। বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছিলেন। বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার কাছে হেরে যান। তবে ভোটে হারলেও বাঁকুড়ার মাটি কামড়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানকার মানুষের সঙ্গে তিনি জনসংযোগ করতে শুরু করেন। বাঁকুড়াকেই নিজের বাড়ি-ঘর বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীকে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক করা হয় তাঁকে। সায়ন্তিকার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, বাঁকুড়া লোকসভা থেকে টিকিট পাবেন বলে মোটের উপর নিশ্চিত ছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু শেষমেশ প্রার্থী করা হয়নি তাঁকে। বাঁকুড়া থেকে অরূপ চক্রবর্তী এবং বিষ্ণুপুরে সুজাতাকে প্রার্থী হিসাবে বেছে নিয়েছে তৃণমূল। তারপর দলীয় পদত্যাগ করেছিলেন।

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

সেই সময় কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, লোকসভা ভোটে টিকিট না পাওয়ার ফলেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সায়ন্তিকা। সে সময় অবশ্য অভিনেত্রী কিংবা দলের তরফে কিছুই জানানো হয়নি। এরপর বরানগরের উপনির্বাচনে 'পুনর্বাসন' দেওয়া হয় সায়ন্তিকাকে। ভোটে জিতে বিধায়কও হন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও টিকিট পান অভিনেত্রী। তবে এবার আর ভোটে জিততে পারেননি তিনি। ভরাডুবি হয় তৃণমূলেরও। তারপরই রাজনীতির ময়দান থেকে অবসর নেন সায়ন্তিকা। 

ভোটে হারার পর এখন নিজের দিকে মন দিয়েছেন নায়িকা। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে ওজন কমিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁকে প্রায়ই নাচের ভিডিও আপলোড করতে দেখা যায়। এখন আপাতত রাজনীতির ঘর ছেড়ে নিজের চেনা ছন্দেই ফিরছেন প্রাক্তন বিধায়ক।   

Read more!
Advertisement
Advertisement