
মহালয়ার ভোর মানেই একটা সময় ছিল যখন রেডিওতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে 'মহিষাসুরমর্দিনী'। আর তারই সঙ্গে ছোটপর্দায় মা দুর্গার সেই অনুষ্ঠান। আশির দশকে দূরদর্শনেই একমাত্র 'মহিষাসুরমর্দিনী' দেখানো হত। এরপর একাধিক চ্যানেলে মা দুর্গারূপে দেখা গিয়েছে টলিউড ও টেলিভিশনের সব জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের। আসুন দেখে নেওয়া যাক মহিষাসুরমর্দিনী রূপে কোন কোন নায়িকারা দর্শকদের মনে আজও জায়গা করে রয়েছেন।
মালবিকা মিত্র
১৯৮৫ সালে দূরদর্শন কর্তৃপক্ষ ঠিক করেন, মহালয়ার ভোরে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হবে। ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত দূরদর্শনের অনুষ্ঠানের নাম ছিল ‘ইয়া দেবী সর্বভূতেষু’। তাতে দেবী দুর্গা হতেন মালবিকা মিত্র। এর পরে ‘দনুজদলনী দুর্গা’, ‘অসুরদলনী দেবী দুর্গা’, 'দেবী দুর্গা’, নানা সময়ে নানা নাম রাখা হয়েছে অনুষ্ঠানের।
সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্য়ায়
মহিষাসুরমর্দিনী বলতে যাঁর মুখ সবার প্রথম আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি হলেন সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৪ সালে কলকাতা দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানে প্রথম দেবী দুর্গার ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। তখন তিনি শ্রীশিক্ষায়তন কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ১৯৯৬ সাল থেকে ফের সংযুক্তার কাছে ফিরে আসে দূরদর্শন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাত থেকে আট বার তিনি দুর্গা সেজেছিলেন। তাঁর অভিনীত অনুষ্ঠান পরে একাধিক বার পুনঃসম্প্রচারও হয়েছে।
ইন্দ্রাণী হালদার
দূরদর্শনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে একাধিকবার দুর্গার ভূমিকায় ইন্দ্রাণী হালদারকে দেখা গিয়েছিল। দূরদর্শনের দুর্গারূপে ইন্দ্রাণী হালদার অন্যতম মুখ। তাঁর দুর্গারূপ বিশেষ ভাবে পছন্দ হয়েছিল দর্শকের। ২০১৬ সালেও তাঁর দুর্গারূপ আলোচনায় এসেছিল।
হেমা মালিনী
বলিউডের ড্রিম গার্ল হেমা মালিনীও একবার মহালয়ার দুর্গা হয়েছিলেন। ১৯৯৫ সালে কলকাতা দূরদর্শনের বিশেষ মহালয়া অনুষ্ঠানে দেবী দুর্গার ভূমিকায় তাঁকে দেখা যায়। তার আগের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গা হয়েছিলেন। হেমা মালিনীর পরের বছর থেকেই আবার সংযুক্তা দূরদর্শনের মহালয়ার অনুষ্ঠানে ফিরে আসেন। ফলে হেমা মালিনীর দুর্গারূপ ছিল এক বছরের বিশেষ আকর্ষণ। বিশেষ সাড়া ফেলেছিল সেই বছরের দূরদর্শনের মহালয়ার অনুষ্ঠান।
অপরাজিতা আঢ্য
তিনিও কলকাতা দূরদর্শনের মহালয়া অনুষ্ঠানের দুর্গাদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৫ সালে তিনি দূরদর্শনে দুর্গা সেজেছিলেন। অপরাজিতার চেহারা ও সৌন্দর্যের সঙ্গে দুর্গার স্পষ্ট ছাপ রয়েছে বলেও মনে করতেন দর্শক। পরে অন্য চ্যানেলেও দুর্গার বেশে দেখা গিয়েছে অপরাজিতাকে।
সৌমিলি বিশ্বাস
২০০৭ সালে ইটিভি বাংলার মহালয়ার অনুষ্ঠানে তিনি দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে কলকাতা দূরদর্শনের মহালয়ার অনুষ্ঠানেও মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় তাঁকে দেখা যায়।
দেবশ্রী রায়
তিনিও দুর্গা হিসাবে ছাপ রেখেছেন। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে দু'টি বেসরকারি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে দুর্গা সেজেছেন দেবশ্রী। তাঁর নৃত্যদক্ষতা এবং অভিব্যক্তি মহালয়ার এই অনুষ্ঠানগুলিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। দেবশ্রীর দুর্গারূপও প্রশংসিত হয়েছিল।
মালবিকা সেন
দুর্গা রূপে নৃত্যশিল্পী মালবিকা সেনকেও পছন্দ করেছেন দর্শক। ২০১৪ সালে দূরদর্শনে প্রচারিত মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি মা দুর্গার বিভিন্ন রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর নৃত্যভঙ্গি ও মুখাবয়বের অভিব্যক্তিও পছন্দ হয়েছিল দর্শকের। দুর্গার পাশাপাশি পার্বতী বা অন্নপূর্ণার রূপেও মঞ্চে দেখা গিয়েছে মালবিকাকে।
ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত
বেসরকারি চ্যানেলের মহালয়া-অনুষ্ঠান ‘দেবী দশমহাবিদ্যা’য় তাঁকে দুর্গারূপে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে দেবীর বিভিন্ন রূপের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল। সতী, পার্বতী এবং দুর্গা— এই তিন রূপে অভিনয় করেছিলেন ঋতুপর্ণা।
স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়
বেসরকারি চ্যানেলের মহালয়া-অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। একাধিক বার দেবীর বেশে দেখা গিয়েছিল অভিনেত্রীকে। সাড়া ফেলেছিল তাঁর ‘দুর্গা’।
কোয়েল মল্লিক
বহুবার বেসরকারি চ্যানেলের হয়ে তিনি দুর্গা সেজেছেন। যদিও এই বছর তাঁকে দুর্গারূপে দেখা যায়নি।
শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়
কোয়েলের মতো শুভশ্রীও একাধিক চ্যানেলে দুর্গা হয়েছেন। এই বছরও তাঁকে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেখা গিয়েছে।
নুসরত জাহান
তাঁকে মহালয়ার দুর্গা হিসেবে দেখা গিয়েছিল ২০২৩ সালে। সেই সাজে শাঁখা পলা ও সিঁদুর পরা নিয়ে সমাজমাধ্যমে তাঁকে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে তাঁর নৃত্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে বিতর্কের বাইরে এই উপস্থিতি তাঁর মহালয়ার দুর্গা-রূপে অভিনয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়
তিনিও একাধিক বার মহালয়ার দুর্গা হয়েছেন। এক অনুষ্ঠানে দেবী পার্বতী, তাঁর বিভিন্ন অবতার এবং মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় ছিলেন তিনি। ‘৫১ সতীপীঠ’ অনুষ্ঠানেও পার্বতীর ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। শ্রাবন্তীর দুর্গা বেশ পছন্দ হয় তাঁর অনুরাগীদের।
মিমি চক্রবর্তী
মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে দেবী মহামায়া ও মহিষাসুরমর্দিনীর ভূমিকায় দেখা যায়। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনায় ছিল অকালবোধনের কাহিনি। মিমির সঙ্গে সেই আয়োজনে রাম ও সীতার ভূমিকায় ছিলেন জীতু কমল ও মধুমিতা সরকার এবং রাবণের চরিত্রে ছিলেন রাজেশ শর্মা।