
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কখন কী ঘটে, তা বলা বড় মুশকিল। যদিও সিনেমার স্বার্থে সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতেই ভালোবাসেন। সেখানে থাকে না কোনও রাজনীতির রং, কোনও তর্ক-বিতর্ক। তখন সবাই বন্ধু। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদযাপন। আর এই মহাযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন টলিপাড়ার সব তারকারাই। আর সেখানেই যিশু সেনগুপ্ত ও রুদ্রনীলকে দেখা গেল একেবারে হালকা মেজাজে। সকলের সামনেই বিধায়ক রুদ্রকে চকাস করে চুমু খেয়ে নিলেন যিশু। তারপরই সেই ভিডিও ভাইরাল।
গতকাল নন্দনে মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান শেষে সব তারকারাই ক্লান্ত হয়ে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছিলেন। আর সেখানেই প্রসেনজিতের সামনেই এই মজার কাণ্ড ঘটিয়ে ফেললেন যিশু। তাও বিধায়ক-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে। রুদ্রনীল নিজেও কিছু বুঝতে পারছিলেন না, ঠিক কী ঘটে গেল। সেই সময় গাড়িতে উঠে গেছেন বুম্বাদা। আর ঠিক তখনই রুদ্রের গাল ধরে তাঁকে চুমু খেয়ে নিলেন যিশু। রুদ্রের মুখে স্মিত হাসি। হাসি চেপে রাখতে পারলেন না প্রসেনজিৎও। এরপরই সকলকে বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে নিজেও বাড়ির পথে রওনা দিলেন। আর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই যিশুকে নিয়ে নেটপাড়ায় শুরু হয়ে যায় মজা-মস্করা।
এই ভিডিওর নীচে কেউ লিখলেন, চুম্মি প্রো. যিশু। আবার কেউ লিখেছেন, যিশু যাকে পায় তাকেই চুমু খায়। চুমু কুমার। ৪ দিন ধরে গোটা রাজ্যে চলবে উত্তকুমারকে নিয়ে এই এলাহি আয়োজন। যেখানে একাধিক অনুষ্ঠান যেমন রয়েছে তেমনি নতুন কিছু পরিকল্পনার সূচনাও করা হয়েছে। দেখানো হবে উত্তমকুমারের কালজয়ী কিছু সিনেমাও। মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে রয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা। কমিটির সভাপতি সন্দীপ রায়, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দেব, জিৎ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত প্রমুখ।
মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী যাতে আজীবন সকলের মনে গেঁথে থাকে, তার জন্য কোনও ত্রুটি রাখছেন না ইন্ডস্ট্রির অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। প্রসেনজিৎ-যিশু-রুদ্ররা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন, যাতে বাকি দুদিনের অনুষ্ঠানও সুন্দর করে উপস্থাপনা করা হয়। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আগেই বৈঠক করেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কমিটির কাজ শুধু অনুষ্ঠান পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উত্তমকুমারের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে প্রদর্শনী, স্মারক প্রকাশনা, সংগ্রহশালা সংরক্ষণ, গবেষণা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির রূপরেখা তৈরির দায়িত্বও থাকবে এই কমিটির উপরে।