
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব মানেই দেশ-বিদেশের নানান সিনেমা আর সঙ্গে বিশেষ অতিথিদের সমাগম। প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বলিউড তারকাদের ভিড় দেখা যেত। সেই তালিকায় শাহরুখ, সলমন, অমিতাভ বচ্চ, জয়া বচ্চন, কাজল, রানি মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মঞ্চ আলো করে থাকতেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকার রাজ্যের হাল ধরেছেন। আর এই সরকারের আমলে এটাই প্রথম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব। এবারের উদ্বোধনে থাকছেন কঙ্গনা রানাওয়াত, দক্ষিণী তারকা রজনীকান্ত। মঙ্গলবার কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনে গঠিত সরকারি কমিটির বৈঠকের পরে জানা যাচ্ছে এমনই।
আগামী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর ৩২তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার নন্দনে এই নিয়ে বৈঠক হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, সন্দীপ রায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়-সহ তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন যে চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরে কলকাতা শহরকে কীভাবে সাজিয়ে তোলা যায় তার প্ল্যানিং করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিক্টোরিয়ায় করার পরিকল্পনা রয়েছে নতুন কমিটির।
জানা গিয়েছে, ভিক্টোরিয়ায় রেড কার্পেট হবে। এবং তার চারপাশে বিখ্যাত অভিনেতাদের কাটআউট থাকবে। রজনীকান্ত, প্রভাস উপস্থিত থাকবেন। কোনও হলিউড তারকাও উপস্থিত থাকতে পারেন। বিগত বছরগুলোতে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম কিংবা ধনধান্য অডিটোরিয়ামে হয়ে এসেছে। প্রথমবারে অনুষ্ঠানে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না বিজেপি সরকার। জোরকদমে চলছে তার প্রস্তুতি। একের পর এক বৈঠক, প্ল্যানিংয়ে ব্যস্ত সকলে।
রাজ্যে পালা বদলের পর অনেক কিছু পরিবর্তনের মধ্যে চলচ্চিত্র উৎসবের রংও গেরুয়া হয়েছে। কলকাতা আনন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগোর রং নীল থেকে গেরুয়া করা হয়েছে। প্রতিবার নভেম্বর মাসে সিনেউৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এবার ডিসেম্বরে শীতের শহরে দেশ-বিদেশের সিনেমার উদযাপন করবেন তিলোত্তমার সিনেপ্রেমীরা। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের ভিনভাষী আন্তর্জাতিক সিনেমা জমা পড়েছে। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নির্বাচনের জন্য যেসব ছবি পর্যালোচনা করছেন কমিটির সদস্যরা। ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম চমক উত্তম পুরস্কার। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।