
নিট পেপার ফাঁস কাণ্ডে উত্তাল গোটা দেশ। দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের আঁচে এখন জ্বলছে গোটা দেশ। কলকাতাতেও ধুন্ধুমার কাণ্ড হয়ে গিয়েছে শুক্রবার। বলিউডের পাশাপাশি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিও ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সরব হয়েছেন। টলিউডের অনেক তারকাই সরব হয়েছেন। এবার আবেগধন বক্তব্যে দেশের ছাত্রছাত্রীদের সাহস, সংবিধানের প্রতি আস্থা এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন।
পরিচালক দিল্লির রাজপথে পড়ুয়াদের আন্দোলনেই খুঁজে পেলেন জীবনদর্শনের নতুন পাঠ। দেশের ‘অকুতোভয়’ ছাত্রসমাজকে স্যালুট জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় এক ভিডিও বার্তা ভাগ করে নিয়েছেন অপর্ণা সেন। অপর্ণা সেন ভিডিও বার্তার শুরুতেই ‘নমস্কার, আদাব, জয় হিন্দ’ দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন। তাঁর মন্তব্য, “আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, গতরাতে আমি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ‘গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের’ প্রকৃত অর্থ শিখেছি। আমি শিখেছি, কীভাবে সংবিধানের উপর আস্থা রাখতে হয় এবং সেইমতো কাজ করতে হয়। বহু মানুষের মতো আমিও একসময় অত্যন্ত হতাশ, বিষণ্ণ এবং উদ্যমহীন হয়ে পড়েছিলাম। মনে হত, প্রতিবাদ করে বা গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করেও কোনও লাভ নেই! কারণ, প্রতিবাদ করলেই ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে— এমন আশঙ্কাই কাজ করত।” তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকেই জীবনদর্শনের নতুন পাঠ পেয়েছেন অপর্ণা।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক বলেন, এই ছাত্রছাত্রীরাই আমাকে দেখিয়েছে যে, এও সম্ভব। কারণ ওঁরা গণতান্ত্রিক উপায়ের উপর বিশ্বাস রেখেছিল। সম্পূর্ণ সংবিধান মেনে, অহিংস ও শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিল এবং বিশ্বাস করেছিল যে, তাঁদের কথা শোনা হবে।” আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অপর্ণার সংযোজন, “বিষয়টা এতই মর্মস্পর্শী যে, গতরাতে আমি শুধু কেঁদে গিয়েছি। ভাবছিলাম, এই ছেলেমেয়েরা কতটা সাহসী, কতটা অদম্য এবং কতটা দৃঢ়চেতা। ওঁদের কাছ থেকে কত বড় শিক্ষাই না পেতে পারি আমরা! মন থেকে ওদের শুধু আশীর্বাদ করে বলছিলাম- শাবাশ! শাবাশ! আমরা সকলে তোমাদের কাছ থেকে শিখছি। আমাদের পথ দেখানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
অপর্ণা সেনের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণ, অহিংস এবং সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে কেবল সমর্থনই করেননি, বরং তাঁদের কাছ থেকেই নতুন করে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ও আশার শক্তি উপলব্ধি করেছেন।