
অভিনেত্রী হিসাবে যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছেন অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি দিদি নম্বর ১-এর দায়িত্ব নিয়েও নিজেকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। অভিনয় পেশাতে থাকাকালীনও রচনা জড়িয়েছেন বিতর্কে। ২০২৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে নাম লিখিয়ে হুগলির সাংসদ পদের জন্য টিকিট পান অভিনেত্রী। প্রথমবার রাজনীতির ময়দানে নেমে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন একাধিক মন্তব্য করেছেন যা কখনও বিতর্ক তৈরি করেছেন, কখনও হাসি মজার উদ্রেক ঘটিয়েছে। কখনও তাঁর মন্তব্যের মধ্যে ফুটে উঠেছে নিটোল বোকামো, কখনও বা প্রকাশ পেয়েছে চরম নাকউঁচু ঔদ্ধত্য এবং দম্ভ। সম্প্রতি আরবানাতে থাকা নিয়েও সাংসদের মন্তব্য ঘিরে সমালোচিত হচ্ছেন নায়িকা। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক রচনা আর কোন কোন বিতর্কে জড়ালেন?
রচনার কি দুটো বিয়ে?
শোনা যায়, ২০০৪ সালে ওড়িশার বিখ্যাত অভিনেতা সিদ্ধান্ত মহাপাত্রকে বিয়ে করেছিলেন রচনা। সেই বিয়েটা নাকি টেকেনি। ভেঙে যায় অল্প সময়ের মধ্যেই। যদিও রচনা ও সিদ্ধান্ত কেউই এই বিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ওড়িয়া হিরোর সঙ্গে রচনার বিয়ের খবর কিন্তু টলিউড ও ওড়িয়া ইন্ডাস্ট্রির ওপেন সিক্রেট বলা চলে।
প্রবাল বসুর সঙ্গে বিয়ে এবং আলাদা থাকা
২০০৭ সালে নাকি তিনি বিয়ে করেছিলেন প্রবাল বসুকে। টানা ৯ বছর নাকি সংসার করেছিলেন প্রবাল এবং রচনা। তাঁদের এক সন্তানও রয়েছে। তবে ২০১৬ সাল থেকে আলাদা থাকছেন রচনা-প্রবাল। অভিনেত্রীর এই বিয়ে নিয়েও জলঘোলা কম হয়নি। যদিও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা কথা বলতে ভালোবাসেন না রচনা। তবে চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে প্রবাল ও রচনা কাছাকাছি আসেন এবং এখন তাঁরা একই ছাদের নীচে থাকছেন।
ধোঁয়া, ধোঁয়া মন্তব্য রচনার
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে টিকিট পাওয়ার পর পরই বিতর্ক শুরু হয় রচনার মন্তব্য ঘিরে। ভিনেত্রী-নেত্রী রচনাকে হুগলির বন্ধ কারখানা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি যখন এলাম তখন তো দেখলাম অনেক কারখানা হয়েছে। চিমনি থেকে শুধু ধোঁয়াই ধোঁয়া। অন্ধকার রাস্তাঘাট। শুধু ধোঁয়াই বেরোচ্ছে। এত কারখানা হয়েছে। তা হলে কী করে বলছেন যে, কারখানা হয়নি। কারখানা তো হচ্ছে।’’ আরও কারখানা হবে এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। এই মন্তব্যের পরেই সমাজমাধ্যমে তাঁর ‘মিম’ ছড়িয়ে পড়ে। কটাক্ষ ধেয়ে আসে তাঁর ‘ধোঁয়া ধোঁয়া’ মন্তব্য ঘিরে।
আরজি কর সংক্রান্ত আইনি জট
আরজি কর কাণ্ডে মৃতা চিকিৎসকের নাম প্রকাশ! শুধু আলপটকা মন্তব্যই নয়, এবার সরাসরি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী। আরজি কর আন্দোলনের সময়ে সমাজমাধ্যমে একাধিকবার মৃতা তরুণী চিকিৎসকের নাম প্রকাশ্যে আনার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা লঙ্ঘন করার অপরাধে গত মঙ্গলবার চারু মার্কেট থানায় রচনার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক আইনজীবী। এই প্রসঙ্গে রচনা অবশ্য সাফাই দিয়ে বলেছেন, “নারকীয় ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। ফলে, ভুলবশতঃ নাম নিয়ে ফেলেছি। যা আমার করা উচিত হয়নি।”
কুইন্টাল কুইন্টাল জল
২০২৪ সালের বন্যাবিধ্বস্ত বলাগড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ডিভিসি-কেদায়ী করতে গিয়ে মারাত্মক ভুল করেন রচনা। ক্যামেরার সামনে গম্ভীর মুখে তিনি বলেন, “কুইন্টাল কুইন্টাল জল বেরিয়ে আসছে। মানুষের বাড়িঘর কিচ্ছু নেই!” জলের একক ‘কিউসেক’-এর জায়গায় ‘কুইন্টাল’ বলায় বিজেপি কটাক্ষ করে বলেছিল, “ওঁকে মিউজিয়ামে রাখা উচিত।” এই নিয়েও হাসির রোল ওঠে নেট পাড়ায়।
সিঙ্গুরের ‘হৃষ্টপুষ্ট’ গরু ও দই তত্ত্ব
লোকসভা ভোটের প্রচারে সিঙ্গুরে গিয়ে দই খেয়ে গরুর দুধের গুণাগুণ বিচার করতে বসেন রচনা। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরের জমি সবুজ, গাছপালায় ভর্তি। সেগুলি খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে গরু আর ভাল ভাল দুধ দিচ্ছে। সেই দুধের দইও তাই ভাল।” বিরোধীরা একে ‘গরুর রচনা’ বলে কটাক্ষ শুরু করেন।
আরবানাতে থাকা নিয়ে মন্তব্য
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের আবাসন ‘আরবানা’ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রচনা দাবি করেন, “আরবানায় থাকতে গেলে একটা আলাদা যোগ্যতা লাগে।” সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদের সুপ্ত অভিজাততন্ত্র এবং ‘নাকউঁচু’ মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।