
'দাদার কীর্তি', 'সাহেব', 'গুরুদক্ষিণা', 'অবোধ', 'ভালোবাসা ভালোবাসা', 'পারবত প্রিয়া' সহ একাধিক বাংলা ছবিতে একসময় যাঁর অভিনয়ের প্রশংসা হত, তিনি হলেন তাপস পাল। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিনোদন জগতে নক্ষত্রপতন। প্রয়াত হন কিংবদন্তী অভিনেতা তাপস পাল। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে ছিল শোকের ছায়া। তবে অভিনেতার মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি যাঁদের হয়েছে, তাঁরা হলেন স্ত্রী নন্দিনী ও মেয়ে সোহিনী। প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর তাপস পালের জন্মদিনে স্ত্রী নন্দিনী তাঁকে স্মরণ করেন। এই বছরও ব্যতিক্রম হল না। প্রয়াত স্বামীকে নিয়ে আবেগপ্রবণ হলেন স্ত্রী নন্দিনী।
অভিনেতা-স্বামীর জন্মদিনে নন্দিনী দুটি ছবি শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, তাপস পালের ছবির সামনে বার্থডে কেক কাটা হচ্ছে, দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মেয়ে সোহিনীকে খাইয়ে দিচ্ছেন বাবা তাপস। এই দুটি ছবি শেয়ার করে নন্দিনী খোলা চিঠি লেখেন প্রয়াত স্বামীর উদ্দেশ্যে। শুভেচ্ছাবার্তার শুরুতেই লাল হৃদয়ের ইমোজি দিয়ে লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, আমার স্বামী’। এরপর প্রতি পংক্তিতেই যেন ফুটে উঠেছে মানসিকযন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি। আজ তিনি নেই, কিন্তু প্রতি নিঃশ্বাসে তাপস পালকে অনুভব করেন স্ত্রী নন্দিনী। আবেগঘন পোস্টে মনের কথা ব্যক্ত করে লিখেছেন, ‘আজ তোমার জন্মদিনে তোমার শারীরিক অনুপস্থিতি এমন এক যন্ত্রণা নিয়ে আমাকে ছুঁয়ে যায় যা কোনও শব্দ দিয়ে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অথচ একইসঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে আমি তোমাকে আমার পাশে অনুভব করি।’
বাবার জন্মদিনের আগেই বিগ বস ছেড়েছেন কন্যা সোহিনী। সেটার কথা উল্লেখ করে নন্দিনী লেখেন, ‘আজকের দিনটি আরও বিশেষ। কারণ আজ আমাদের মেয়ে বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। আর আমার মনের কোথাও যেন এক গভীর বিশ্বাস আছে তুমি পুরো সময়টুকু তোমার ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে ছিলে। ওকে দেখেছ, আগলে রেখেছ, নিজের মতো করে তাকে রক্ষা করেছ। মেয়ের জন্মের সময়ের কথাও এদিন মনে পড়ছে নন্দিনীর। বাবা হিসেবে তাপস পালকে একেবারে একশোতে একশো। স্বামী হিসেবেও তাপস পালকে ফুল মার্কস নন্দিনীর।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে লেখা চিঠিতে নন্দিনীর সংযোজন, ‘তুমি নিখুঁত মানুষ ছিলে না। আর তুমি কোনও ল্যাবে তৈরি হিরেও ছিলে না। তুমি ছিলে মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক হিরে। কোথাও খানিকটা অমসৃণ, কোথাও অসাধারণ দীপ্তিমান। জীবন, ভালোবাসা, ভুল, অনুতাপ এবং অভিজ্ঞতা তোমাকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছিল। আমি তোমার ভালো দিকগুলো দেখেছি, তোমার ত্রুটিগুলোও দেখেছি। দেখেছি তোমার নিঃস্বার্থতা আর দেখেছি সেই অনুতাপ যা নিজের করা ভুলগুলোর জন্য বয়ে বেড়িয়েছিলে।’ আকাশের কোনও এক কোণে থাকা প্রিয় মানুষটার উদ্দেশে মনের আরও অনেক জমা কথা লিখেছেন তাপস-ঘরনি নন্দিনী পাল।
তরুণ মজুমদারের হাত ধরেই তাপস পালের উত্থান। কিন্তু জীবনের একটা পর্যায়ে এসে ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে চরম মাশুল দিতে হয়েছিল তাঁকে। আক্ষেপের সুরে নন্দিনী লেখেন, তুমি সরল ছিলে। ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে চরম মূল্য চোকাতে হয়েছে। আমি জানি, তরুণ মজুমদার এবং যাঁরা তোমায় ভালোবাসতেন, তাঁদের হতাশ করার জন্য তুমি নিজের মনে কতটা অনুতাপ করতে। নিজেকে নিজে শাস্তি দিয়ে সমাজ থেকে গুটিয়ে নিয়েছিলে।