
রিয়্যালিটি শো মানেই সেখানে অংশগ্রহণকারীদের সমস্যা, আপদ-বিপদের কথা তুলে ধরা হয়। গত এক-দেড় বছর ধরে ভীষণভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ শোটি। এখানে অংশ নেওয়া মহিলা প্রতিযোগীরা নিজেদের সমস্যার কথা সঞ্চালিকা সুদীপ্তা চক্রবর্তীর কাছে তুলে ধরেন। সেরকমই এক মহিলা নিজের স্বামী হারানোর যন্ত্রণা এবং সরকারি কাগজের দাবিতে যে হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন তা লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভে বলতেই সাহায্য করার আশ্বাস পেলেন দেবের থেকে।
ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চন্দ্রকোণা অন্তর্গত চন্দ্রকোণার বিধবা রীতা আরির তাঁর সংঘর্ষের কথা জানান সুদীপ্তাকে। সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রশাসনের কাছে গিয়েও হয়রানির সম্মুখীন হন, সেটাই বিধবা রীতা আরির সকলের কাছে বর্ণনা করেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ১১ মার্চ, ২০২৬-এ মৃত্যু হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার রাঙামাটি গ্রামের বাসিন্দা, আলু চাষী রাখাল আরি। ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে কীটনাশক খেয়েই জীবন শেষ করেন স্বামী। কিন্তু একটা সরকারি কাগজ না মেলায় মাসে ৭ হাজার টাকা করে লোন দিয়ে হচ্ছে বিধবা রীতা আরিকে।
সরকারি নিয়মানুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য গত কয়েক মাস ধরে সরকারি দফতরের অফিসে চক্কর কাটছেন বিধবা রীতা। সম্প্রতি রিয়্যালিটি শো লাখ টাকার লক্ষ্মী লাভের মঞ্চে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তীর সামনে নিজের এই অসহায়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। রীতার আকুল আর্তি—'পায়ের চটি ছিঁড়ে গেলেও স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পাচ্ছি না।' মৃত স্বামীর ছবি হাতে লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ-এর মঞ্চেই কেঁদে ফেলেন তিনি।
অসুস্থ শাশুড়ি, দুই নাবালক পুত্র সন্তানের দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। অথচ নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে ঋণের বোঝা কমছে না। বাড়ির গৃহপালিত পশুদের বিক্রি করে গত তিন মাস ধরে ঋণশোধ করছেন রীতা। আসলে স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র না পাওয়ায় বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়াও আটকে। একজন কৃষক পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী ও মা। তারওপর প্রশাসনিক হয়রানি তাঁদের জীবন সংগ্রামকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ঘটনার কথা জানতে পেরে রীতার পাশে দাঁড়ান অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তিনি লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ মঞ্চ থেকেই এই বিষয়ে কোনও সরকারি আধিকারিককে পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানান।
নিজের কেন্দ্রের ঘটনা হওয়ার সুবাদে দেবের নজর এড়ায়নি বিষয়টি। দেব ওই ভিডিও শেয়ার করে সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে রীতা আরির প্রশাসনিক জটিলতা কেটে ডেথ সার্টিফিকেট মেলার আশা উজ্জ্বল হচ্ছে। এর আগেও লাখ টাকার লক্ষ্মীলাভ-এ এসে কোয়েলও সাহায্য করেছিলেন এক মহিলাকে।