
অনুমতি ছাড়া আলিয়া ভাটের ছবি AI দিয়ে বানিয়ে বিকৃত করার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের এক পোশাক সংস্থার বিরুদ্ধে। নায়িকার ছবি AI দিয়ে তৈরি করে ওই পোশাক সংস্থা নিজেদের প্রচার চালাচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হতেই পাকিস্তানি পোশাক সংস্থার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নেটিজেনরা।
সম্প্রতি কিছু ছবি সোশ্যল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে সেই ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের পোশাকে আলিয়াকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভাল করে দেখলেই বোঝা যায়, ছবিগুলি আসল নয়। এআই-এর সাহায্যে তৈরি করে সেগুলিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যেন তিনি ওই ব্র্যান্ডের সঙ্গেই যুক্ত। এই নিয়েই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। এই ছবিগুলো শেয়ার করে ক্য়াপশনে লেখা, আলিয়া ভাটও আমাদের সুন্দর সিসা সিল্কের কালেকশন পছন্দ হয়েছে।
পাকিস্তানি পোশাক সংস্থার প্রচারে আলিয়ার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি দেখে রীতিমতো বিরক্ত নায়িকার ভক্ত-অনুরাগীরা। অনুরাগীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—এভাবে কোনও তারকার ছবি ব্যবহার করা কি ঠিক? এই এআই-তৈরি ছবিগুলির মধ্যে বেশকিছুতে আলিয়ার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের লুকের কপিও দেখা গেছে। যেমন মিলন ফ্যাশন উইক (Milan Fashion Week)-এ তাঁর উপস্থিতি বা লরিয়াল প্যারিস (L'Oréal Paris)-এর মঞ্চে হাঁটার মুহূর্তের আদল মিলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
গত কয়েক মাসে বলিউডের বহু তারকা নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ‘পারসোনালিটি রাইটস’ সংরক্ষণ করেছেন আইনের দ্বারস্থ হয়ে। অবাধে যাতে তাঁদের ছবি, ভিডিও, নাম ও কণ্ঠ বাণিজ্যিক বা অন্য কারণে ব্যবহার করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিয়েছেন তাঁরা। ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, কার্তিক আরিয়ান সহ অনেকেই এই পদক্ষেপ করেছেন। আলিয়া ভাটও এরকম ব্যবস্থা নেবেন কিনা এখন সেই দিকেই তাকিয়ে সবাই।
প্রসঙ্গত, আলিয়ার জনপ্রিয়তা শুধু ভারতেই নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে রয়েছে। একটি পাকিস্তানি ব্র্যান্ডের সঙ্গে আলিয়া ভাটের নাম যুক্ত করাটা লাভজনক হলেও, অভিনেত্রীর ভুয়া ছবি তৈরি করা একটি লজ্জাজনক কাজ। এর থেকে এটাও বোঝা যায় যে, পাকিস্তানি ব্র্যান্ডগুলো তাদের নিজেদের নায়িকাদের জনপ্রিয়তার ওপর ভরসা করে না। তাই, তারা পাকিস্তানি অভিনেত্রীদের ব্যবহার না করে পোশাকের বিক্রি বাড়াতে আলিয়া ভাটের নাম ও মুখ ব্যবহার করছে।