
অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি অজানা কারোর নয়। গত বছর কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবেই পরমের ভোল বদলের চিত্র সামনে এসেছিল। সরকারি সমস্ত অনুষ্ঠানেই পরমব্রতর উপস্থিতি নজর এড়ায়নি। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে অভিনেতা-পরিচালককে। পরমের পাশাপাশি এবার পিয়াও ভোট দিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন। তবে নজর আটকেছে পিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।
ভোট দিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী, সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তী। আর হাতের আঙুলে নীল কালি লাগানো ছবি পোস্টও করলেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা তাঁর পোস্ট কারোপ নজর এড়ায়নি। পরপর পোস্ট করে পিয়া নিজেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পিয়া তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে 'সহজ পাঠের' কবিতার লাইন উল্লেখ করে লেখেন, 'বাংলা পর্ব। আজ বুধবার। বাংলায় বিজেপি সাফ করার দিন। It's Wednesday. The day to claen out BJP from Bengal.'
২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। প্রথম দফার পর এই দ্বিতীয় দফা নিয়ে সকলেরই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ছাব্বিশের বিধানসভায় বাংলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে কোমর বেঁধে উঠেপড়ে লেগে পড়েছিল বিজেপি। SIR থেকে শুরু করে বঙ্গে ঘন ঘন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বদের আগমন, সিআরপিএফ সহ একাধিক কড়াকড়ি দেখা গিয়েছে এই নির্বাচন ঘিরে। সেই আবহে পরমব্রতর তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হয়ে যাওয়া কারোরই নজর এড়ায়নি। এর আগেও পিয়া লিখেছিলেন, ‘এবারের ভোট তাদের জন্য যাদের এবার ভোট নেই!’ বুঝতে সমস্যা হয় না তাঁর নিশানা এসআইআর-এর দিকে। প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে এবারে।
বরাবরই সামাজিক ইস্যু নিয়ে সরব পিয়া। তা সে বাংলার শাসক দল তৃণমূল হোক বা কেন্দ্রে থাকা বিজেপি, নির্যাতন থেকে দুর্নিতী নানা প্রশ্নে সরব হতে দেখা গিয়েছে। নিজের চিন্তাভাবনা তুলে ধরতে পিছু পা হননি কখনোই। যদিও একটা সময়ে পরমব্রত ও পিয়ার রাজনৈতিক মতাদর্শ একই ছিল। সেই দলের কাজ করতে গিয়েই একে-অপরের কাছাকাছি আসেন তাঁরা। কিন্তু সময় বদলেছে তাই নিজেদের অবস্থানও বদলে ফেলেছেন পরমব্রত ও পিয়া। প্রসঙ্গত, পিয়া-পরমব্রত পুত্র নিষাদের মুখেভাতের অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যপাধ্যায়কে। সব মিলিয়ে ঘাসফুল দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পিয়া-পরমব্রত দুজনেই। আর তাই অভিনেতা পত্নীর এই পোস্ট যেন, বিজেপি বিরোধিতাকেই উস্কে দিল ফের।