
রাজ্যে প্রত্যাবর্তন হতেই বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে পালা বদলের ঘোষণা। টলিপাড়া রীতিমতো উত্তাল। এরই মাঝে শুক্রবারের ডাকা ইমপার বৈঠক ঘিরে নতুন করে সরগরম বাংলা ইন্ডাস্ট্রি। গত ৬ বছর ধরে EIMPA-র সভাপতির চেয়ারে পিয়া সেনগুপ্ত। কিন্তু বিজেপি সরকার আসার পর প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশ পিয়াকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করলেও, চেয়ার আঁকড়ে বসেছিলেন তিনি। তবে এবার সেই চেয়ার টলানো গেল। বিক্ষুব্ধ প্রযোজক-পরিবেশকদের অন্যতম মুখ শতদীপ সাহা bangla.aajtak.in-কে জানালেন যে সভাপতি পদে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে প্রযোজক রতন সাহাকে।
বৈঠকে হয়েছিল কী?
শতদীপ সাহা এ প্রসঙ্গে সরাসরি বলেন, 'অনেকেই মানতে চায়নি যে পিয়া সেনগুপ্তের পদ চলে গেছে। সেই পথে পিয়াদিও হাঁটছেন। উনিও মানতে পারছেন না। কিন্তু যেটা হয়েছে তা হল বৈঠক চলাকালীন উনি বারবার উঠে যাচ্ছিলেন। বৈঠকে কেউ ওঁনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে উনি উত্তর দিতে পারছিলেন না। আসলে পিয়া সেনগুপ্ত চাইছিলেন না মিটিংটা হোক। কারণ ওখানে এত সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন, আর উনি বুঝতে পারছিলেন যে কেউ ওনাকে সমর্থন করছেন না। উনি তো এত বছর এই বিষয়টা দেখেননি, একচেটিয়া রাজ করে গেছেন। শতদীপ আরও বলেন, সকলের মনেই ভয় ছিল, কেউ চাইলেও প্রতিবাদ করতে পারছিলেন না। কিন্তু এখন তো প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে চারিদিকে। নিজেরা বলতে পারছেন, আগে তো কারোর সেই সাহসই ছিল না।'
সরানো হল পিয়াকে
শতদীপ আরও বলেন, 'বৈঠক শুরু হওয়ার পর উনি দু'বার উঠে চলে গেছেন, যেহেতু উনি উঠে যান এবং চেয়ার করার কিছু নেই, সেক্রেটারি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিছু করছেন না, তখন তো একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হত। মিটিং তো বন্ধ হয়নি। তখন সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, আমরা সব সদস্যদের জিজ্ঞাসা করে নিলাম, ধ্বনিভোটেও রতন সাহার নাম উঠে আসে এবং আর পিয়া সেনগুপ্তর জায়গায় বেছে নেওয়া হয় প্রযোজক রতন সাহাকে। তবে রতন সাহা স্থায়ী সভাপতি নন ইমপার, তিনি কিছুদিনের জন্য চেয়ার সামলাবেন, যতদিন না ইমপার নির্বাচন হচ্ছে।'
বৈঠকে যোগ দেয় একাধিক সদস্য
শতীপের কথায়, 'এই বৈঠক ভেস্তে দিতে চেয়েছিলেন ইমপা সভাপতি। কিন্তু সেটা শেষপর্যন্ত হয়নি। বৈঠকে ৩০০-র বেশি সদস্য যোগ দিয়েছিলেন। যা ইমপা সভাপতি নিজেও ভাবতে পারেননি।' প্রসঙ্গত, প্রথম থেকেই এই মিটিংয়ে পুলিশ ছিল। এই বিষয়ে শতদীপ বলেন, 'পিয়া সেনগুপ্ত চেয়েছিলেন বৈঠকে পুলিশ থাকুক, যাতে উনি কোনও অস্বস্তিতে না পড়েন, তাই পুলিশ মোতায়েন হয়েছিল বৈঠকে। উনি দু'বার যে বৈঠক ছেড়ে উঠে যান তখনও পুলিশ ছিল, যখন নো কনফিডেন্স মোশন হয়, তখনও পুলিশ উপস্থিত। গোটা ঘটনাটাই পুলিশের সামনেই ঘটেছে। যখন ফাইল চুরি করতে আসছিলেন তখনও পুলিশ ছিল।'
পিয়ার মেয়াদ কতদিন?
এখানে উল্লেখ্য, হাইকোর্ট ২০২৫ সালে ইমপার নির্বাচন পরিচালনা করে। পিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত সভাপতি। নিয়ম অনুযায়ী, EIMPA-র সভাপতি এখনও পিয়া। তবে শুক্রবার সভাপতি হিসেবে রতন সাহার নাম ঘোষণা করার পরেই শতদীপ বলেন, 'শীঘ্রই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সভাপতি নির্বাচন হবে। তার আগে পর্যন্ত অস্থায়ী সভাপতি রতনবাবু।' বৈঠক চলাকালীন পিয়া সেনগুপ্ত শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনেন। এ প্রসঙ্গে শতদীপ জানিয়েছেন যে তাঁর কলার যেভাবে টেনে ধরেছিলেন পিয়াদি, সেটাও তো ঠিক নয়। মহিলা সেন্টিমেন্ট দিয়ে সব কাজ করা যায় না। তিনি বলেন, 'উল্টে তো আমিও বলতে পারি আমার কলারে হাত দিয়েছে, আমার গায়ে হাত দিয়েছে।' শতদীপ জানিয়েছেন, বর্তমানে অস্থায়ী যে কমিটি এখন তৈরি হবে, তারাই ইমপা চালাবে। ইতিমধ্যেই শতদীপও শুক্রবার রাতে বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখবে। এই নিয়ে আজতক বাংলার পক্ষ থেকে পিয়া সেনগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তিনি ফোন ধরেননি।