
লক্ষ্য করে দেখবেন যত সফল ব্যক্তি, তাঁদের জীবনে সমস্যা-মানসিক চাপও তত বেশি। কেউ কেউ এই মানসিক চাপ বা ক্রমাগত চলা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের পথ অবলম্বন করে থাকেন তাঁরা। কেউ কেউ তীর্থস্থানে চলে যান আবার কেউ কেউ কোনও গুরু বা বাবার শরণাপন্ন হন। আবার অনেক তারকাই জ্যোতিষীদের থেকে নানান ধরনের প্রতিকার নিয়ে থাকেন। যার মধ্যে ভীষণভাবে জনপ্রিয় নিউমেরোলজি বা সংখ্যাতত্ত্ব। যার মাধ্যমে যে কোনও ব্যক্তি তাঁর নামের বানানে একটু অদল-বদল করলেই, ভাগ্যকে সহায় করতে পারবেন। বলিউডে এই সংখ্যাতত্ত্বের চর্চা করতে বহু তারকাদেরই দেখা গিয়েছে। অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী এই নিউমেরোলজি প্রয়োগ করে নিজের নামে একটু বদল ঘটিয়ে ভাগ্যের বিরাট পরিবর্তন করেছেন। টলিপাড়ার অনেকেই এই রাস্তায় হেঁটেছেন। এবার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী সেরকমই কিছু একটা করলেন।
২০২৬-এর গোড়া থেকেই সায়কের জীবনে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে গিয়েছে। পার্কস্ট্রীটের গোমাংস বিতর্ক হোক কিংবা তাঁর দাদার ডিভোর্স, সবেতেই বারংবার নাম উঠে এসেছে সায়কের। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা-ট্রোলড-কটাক্ষ কিছুই বাদ পড়েনি। এইসব কিছু মিলিয়ে সায়কের ব্যক্তিগত জীবনে যেমন প্রভাব পড়েছিল তেমনি তাঁর পেশাগত জীবনেও গভীর ছাপ ফেলেছিল এই ঘটনাগুলি। কিন্তু কথায় আছে সব খারাপেরই একটি ভাল দিক রয়েছে। সায়কও এইসব ট্রোলিডকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো করে জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর তাই নিজের নামে নিয়ে এলেন এক বড় বদল।
সম্প্রতি সায়ক তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁর অনুরাগীদের জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর নাম বদলেছেন। ইউটিউবার লেখেন, আমার ফেসবুকের নাম ‘Sayak’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এখন ‘Sayakk’ হয়েছে। সার্চ বা ট্যাগ করার সময় দয়া করে এই নতুন বানানটি ব্যবহার করবেন। অনেক ভালোবাসা সবাইকে! অর্থাৎ সায়ক তাঁর ইংরাজি নামের বানানে একটা K-র বদলে KK ব্যবহার করছেন। এটা বুঝতে কোনও অসুবিধা নেই যে সায়ক এটা কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী করেছেন।
এক সংবাদমাধ্যমকে সায়ক এ বিষয়ে বলেন যে গত কয়েক মাস ধরে তিনি এক কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। খুবই খারাপ সময় চলছিল তাঁর। আর সেই সময় সায়কের মাথায় চিন্তা আসে যে কী করলে ভাল সময় আসবে। সেই জন্যই এক নিউমেরোলজিস্টের পরামর্শে সায়ক তাঁর নামের বানান বদলায়। সায়ক এও জানিয়েছেন যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য অ্যাকাউন্টের নামের বানান বদলে নিয়েছেন তিনি শুধু ফেসবুকটাই বাকি ছিল, সেটাও করে দিয়েছেন। সায়ক আরও যোগ করেন যে, নামের বানান বদলানোর পর থেকেই তিনি অনুভব করছেন যে তাঁর খারাপ কেটে যাওয়া দিনগুলো আস্তে আস্তে ভালোর দিকে মোড় নিচ্ছে। সংখ্যা জ্যোতিষের নিয়ম মেনে সায়ক কেবল নিজের নামের বানানই বদলাননি, পরিবর্তন এনেছেন নিজের মোবাইল নম্বরেও। তিনি জানান, তাঁর আগের ফোন নম্বরটির সংখ্যাতাত্ত্বিক যোগফল তাঁর জীবনে অশুভ প্রভাব ফেলছিল। তাই এমনভাবে নতুন ফোন নম্বরটি বেছে নিয়েছেন, যার যোগফল তাঁর জীবনে শুভ সময় বয়ে আনে। শোনা যাচ্ছে, বাংলা বিগ বসে প্রতিযোগী হিসাবে দেখা যেতে পারে সায়ককে।