
চর্চায় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলছে বিক্ষোভ-আন্দোলন। আর দিল্লিতে সেই আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। দিল্লিতে যন্তর-মন্তরে CJP-এর বিক্ষোভে যোগ দিতেই এই ইউটিউবারকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়। ধ্রুবের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসাবে নয়, এক জন সাধারণ নাগরিক হিসাবেই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন তিনি। সিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনও সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। দলের কোনও পদেও তিনি নেই। কিন্তু আজকের এই ধ্রুব রাঠি কীভাবে হয়ে উঠলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার?
ধ্রুবের প্রথম ভিডিওটি ছিল একটি ট্র্যাভেল ভ্লগের। বিভিন্ন স্থানের ছবি তোলা ও নতুন নতুন জায়গাতে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার প্রতি তাঁর এই আসক্তি ধীরে ধীরে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির দিকে যায়। কিন্তু জানেন কি এই ইউটিউবারের কাছে রয়েছে একাধিক ডিগ্রি। একাধারে ধ্রুব ইঞ্জিনিয়ার, জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন এবং তাঁর ডিজিটাল স্টোরি টেলিংয়ের প্রতি এই ভালোবাসা কীভাবে জন্মালো তাও সামিল রয়েছে।
ধ্রুব রাঠি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক। এরপর তিনি জার্মানির কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (কেআইটি) থেকে নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান। এখানেই শেষ নয়, তাঁর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং ও রিনিউয়েবল এনার্জির মতো প্রযুক্তি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পর রাজনীতি, ইতিহাস ও সামাজিক ইস্যুর ওপর ভিডিও তৈরি করা, তাঁর কেরিয়ারের এক আলাদাই মোড়। ধ্রুব রাঠি তাঁর ভিডিওতে যে কোনও বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রশ্ন ও ঘটনাগুলোকে খুব সহজ করে বোঝানোর ওপর জোর দেন।
জার্মানিতে পড়াশোনা করার সময়ই ২০২৪ সালে তিনি ইউটিউবে ট্র্যাভেল সংক্রান্ত ভিডিও শেয়ার করতে শুরু করেন। তাঁর প্রথম ভিডিও একটি ট্র্যাভেল ভ্লগ ছিল, যেটা তিনি আইফোন ৫এস দিয়ে শ্যুট করেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধ্রুব বলেন যে এই ভিডিও এডিট করতে তাঁর দুমাসের বেশি সময় লেগেছিল। প্রথমদিকে ট্র্যাভেল ভিডিও তৈরি করা সেই রাঠি পরে রাজনীতির ওপর ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন। ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ধ্রুব তাঁর প্রথম রাজনৈতিক ভাষ্য ভিডিও আপলোড করেন। এরপর থেকে রাজনীতি ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তার ভিডিওগুলো তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুরুতে তিনি তার ভিডিও সম্পর্কিত সমস্ত কাজ, যেমন গবেষণা, লেখা এবং সম্পাদনা নিজেই করতেন। আল জাজিরার মতে, তিনি ২০২০ সাল পর্যন্ত একাই কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন, এরপর চ্যানেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে তিনি একটি টিম গঠন করে। তবে, ধীরে ধীরে ধ্রুব রাঠির ভিডিওগুলো আর শুধু ভ্রমণ ভিডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি এবং তার দর্শক সংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। ২০২৩ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে তাদের নেক্সট জেনারেশন লিডারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ম্যাগাজিনটি তার হিন্দি ভিডিওগুলোকে বিশেষভাবে তুলে ধরে, যেগুলোতে তিনি জনপ্রিয় বিভিন্ন বিষয় ও দাবির সত্যতা যাচাই করেন।