
বাংলা ধারাবাহিকের শ্য়ুটিং করতে গিয়ে দিঘার তালসারির জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু একাধিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে। এভাবে যে চলে যাবেন রাহুল, তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। তবে ২০১৮ সালে লেখা অভিনেতার একটি গল্প এবং সম্প্রতি তাঁর একটি ছবি ভীষণভাবে ভাইরাল হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই দুই ক্ষেত্রেই এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা দেখার পর মনে হতে পারে অভিনেতা তাঁর মৃত্যুর কথা যেন আগাম বলে গিয়েছেন।
২০১৮ সালে আর্টিস্ট ফোরামের পত্রিকায় লেখা রাহুলের একটি গল্প নাম বান্ধবী। যেখানে রাহুল তাঁর মৃত্যুর কথা লিখেছেন। যা হুবহু মিলে যাচ্ছে বর্তমানে অভিনেতার মৃত্যুর সঙ্গে। কী লেখা ছিল সেই গল্পে? রাহুল অরুণোদয় সেই গল্পের প্রথমে লিখেছেন, মৃত্যুর পর নিজেকে বেশ রাজকীয় লাগছে আমার। এমনিতেই মৃত্যুটা বেমক্কা হয়েছে। পাড়ার দুর্গাপুজোর ভাসান ছিলো। শেষ সিঁড়িটা মিস করেছি। বিয়াল্লিশ তো যাবার বয়সও না। বেরিয়ে এলাম জল থেকে। শরীর তুলেছে অবশ্য অন্যরা। এখন ক্লাবঘরে রাখা। বৌদি থম মেরে এক কোণে বসে আছে। সত্যিই কষ্ট পেয়েছে, জানি।
এই গল্পের নায়ককে রাহুল জলে ডুবে মৃত্য দিয়েছে। ঠিক যেভাবে রবিবার মারা গিয়েছেন অভিনেতা। ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ে রাহুল সহ গোটা টিম হইহই করে গিয়েছিল দিঘার তালসারিতে। সেখানেই দুদিনের শ্যুটিং ছিল। রবিবার জলে নেমে শ্যুটিং করার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একঘণ্টারও বেশি সময় জলে ছিল বলে, অনুমান করা হচ্ছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। যে কারণে রাহুলের ফুসফুসে বালি ও নোনা জল ঢুকে যায়। রাহুলকে উদ্ধার করার পরও বেঁচে ছিলেন অভিনেতা। তবে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। তাম্রলিপ্ত হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর দেহ তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে।