
শীতকাল মানেই নন্দন চত্বরে দেশ-বিদেশের নানান ছবির সম্ভার নিয়ে হাজির হয় কলকাতা আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর থেকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একাধিক বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে তারা। এবার ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ঘিরেও বিজেপি সরকারের উৎসাহ কম নেই। সম্প্রতি নন্দনে এই উৎসবের সংস্করণ ও লোগো নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এই বৈঠকে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের দিনক্ষণ ঘোষণার পাশাপাশি এই উৎসবের প্রথমদিন অতিথি হিসাবে কাদের কাদের দেখা যাবে, সেই নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়।
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে অতিথি কারা কারা হবেন, সেদিকে নজর সকলেরই থাকে। অতীতে প্রাক্তন সরকারের আমলে এই উৎসবে অতিথি হিসাবে দেখা গিয়েছে শাহরুখ খান, সলমন খান, অমিতাভ বচ্চন এবং গোটা বচ্চন পরিবার, রানি মুখোপাধ্যায় সহ বলিউডের একাধিক তারকাদের। প্রতি বছরই দর্শকের মনে প্রশ্ন থাকে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে দেখা যাবে কাদের? বেশ কিছু বছর ধরে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে শাহরুখ খানের উপস্থিতি দর্শকদের বাড়তি আগ্রহ বাড়িয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই অভ্যাসেই ছেদ পড়েছে। শাহরুখকে আর KIFF-এর মঞ্চে দেখা যায়নি। এই বছর অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা। তাহলে ৩২তম কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাদের দেখা যাবে প্রধান অতিথি হিসাবে?
সম্প্রতি এই চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে নন্দনে প্রথম পর্যায়ের বৈঠক হয়। যেখানে অন্যান্য বিষয় আলোচনার পাশাপাশি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারা কারা আসবেন বা নিয়ে আসা যেতে পারে, সেই নিয়েও কথাবার্তা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই বছর বলিউডি ছোঁয়া না রেখে দক্ষিণী টাচ রাখতে চাইছে KIFF-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। টলিউড অন্দেরর খবর, বৈঠকে ৩২তম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মুখ্য উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী প্রস্তাব রেখেছেন যে এই বছর কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে অতিথি হিসাবে রজনীকান্ত, প্রভাস ও অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে আসা হতে পারে। যদিও এই নিয়ে চূড়ান্ত কোনও আলোচনা এখনও হয়নি। মিঠুন চক্রবর্তী শুধু প্রস্তাব রেখেছেন সকলের কাছে, অন্য সদস্যের সেটা পছন্দ হয়েছে। আর কাদের কাদের অতিথি হিসাবে আনা যেতে পারে, সেই নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এদিন মিঠুন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে বৈঠক হয়। ৩২তম ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্য উপদেষ্টা পদে থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী। তবে এই বছরের চলচ্চিত্র উৎসবের লোগোতে বড় চমক। রণ এবার নীল থেকে লোগোর রং পরিবর্তন করে গেরুয়া করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশের ভিনভাষী আন্তর্জাতিক সিনেমা জমা পড়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর সিনে উৎসবের শুভসূচনা হতে চলেছে। আট দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত।