
'বিগ বস' এর ঘরে ঝগড়া-অশান্তি, মতভেদ, তর্ক-বিতর্কের মাঝেও লাভ অ্যাঙ্গেল থাকবে না তা কী করে হয়। প্রত্যেক সিজনের মতো এই সিজনেও বিগ বস বাংলার হাউজে শুরু হয়েছে প্রেমের মরশুম। প্রথমে তাঁদের মধ্যে ঝগড়া-অশান্তি দেখা গেলেও, পরবর্তীতে সেই সমীকরণ উল্টে যায়। রাজবীর ও নন্দিনীর রোম্যান্সের কথা অজানা কারোর নয়। তাঁরা একে-অপরকে যে পছন্দ করেন, সেটা তাঁদের হাবে-ভাবেই স্পষ্ট। তবে রবিবারের পর্বে তাঁরা দুজনেই এই ভালো লাগার বিষয় থেকে নিজেদেরকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। ক্যামেরার সামনেই নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করে ফেললেন রাজবীর ও নন্দিনী।
বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের অন্য ধরনের রসায়ন সকলেরই চোখে পড়ছিল। যতই একে-অপরের সঙ্গে ঝগড়া করুক না কেন, দিনের শেষে সেই ঝগড়া মিটিয়ে একে-অপরের কাছে আসতে ভোলেন না তাঁরা। রবিবারের পর্বে দেখা গেল রাজবীর ও নন্দিনী দুজনেই স্বীকার করলেন, তাঁরা একে-অপরকে ভালোবাসেন। রবিবার দাদার দরবার-এর পর বাড়ির বাইরের কাউচে বসে থাকতে দেখা যায় রাজবীর ও নন্দিনীকে। রাজবীরের কোলে পা তুলে বসেছিলেন নন্দিনী।
আচমকাই নন্দিনী রাজবীরকে জিজ্ঞেস করে বসেন, “আর ইউ ইন লাভ উইথ মি? তুমি আমায় পছন্দ করো?” এই প্রশ্নের উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলতে গিয়েও একটু থমকে যান রাজবীর। কারণ, আজ উত্তর দিলেই ব্যাপারটা সরাসরি প্রপোজ করার মতো হয়ে যাবে, যা তিনি এখনই চাইছেন না। কিন্তু নন্দিনীও সহজে ছাড়ার পাত্রী নন। তিনি পরপর প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, “আমি তোমায় ভরসা করতে পারি? তুমি লয়েল তো? অপশন খুঁজছ না তো? তোমার জীবনে অন্য কেউ আছে?” রাজবীরও মুচকি হেসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “১০০% রিয়েল।”
রাজবীর তাঁকে সত্যিই পছন্দ করেন শুনে নন্দিনী বলেন, তোমার আমার প্রচুর ঝগড়া হবে। নোংরা ঝগড়া হবে। তুমিও টক্সিক, আমিও টক্সিক।” কথার মাঝেই রাজবীর তাঁকে আলতো করে মারলে নন্দিনী ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, “বিগ বস কি এগুলো দেখতে পারছে না? আমায় মারছে।” এই কথা শুনে রাজবীরের মুখে শোনা যায় এক রসালো মন্তব্য, “লেপের তলায়…”। বোঝাই যাচ্ছে, দু’জনের এই খুনসুটি এখন বেশ জমে গিয়েছে। এমনকী দাদার দরবারে প্রকাশ্যে নন্দিনীকে সশব্দে চুমু খান রাজবীর।
রবিবার এই সদ্য শুরু হওয়া প্রেমের মাঝেই কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রবেশ করেন বিগ বস হাউজের নতুন ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি অনুষ্কা ঘোষ। আর এসেই রাজবীরকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, রাজবীর ভালো খেলছ। তুমি কারওর পাল্লায় পড়ে নিজের গেমটা খারাপ করো না প্লিজ। দর্শকমহলে জল্পনা, অনুষ্কার এই তির আসলে নন্দিনীর দিকেই। এদিন তাপস-কন্যা সোহিনী বাড়ি থেকে এলিমিনেট হন। তাঁর ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তনুশ্রী, থম মেরে যান ঝিলম-নিরঞ্জনরা। তবে নতুন ওয়াইল্ড কার্ডের এন্টিতে বাড়ির মনমরা পরিবেশ কিছুটা হলেও হালকা হয়।