
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে তো বটেই অভিনেতা হিসাবেও বেশ পরিচিত মুখ সায়ক চক্রবর্তী। চলতি বছরের গোড়াতেই পার্কস্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন এই ইউটিউবার। তার রেশ কাটার আগেই গায়িকা দেবলীনা নন্দীর আত্মহত্যার চেষ্টা ও তাঁর দাম্পত্য় জীবনের সমস্যার ক্ষেত্রেও নাম উঠে আসে সায়কের। নতুন বছরের শুরু থেকে বেশ কয়েকটা মাস তাঁকে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। পাশে বন্ধু হিসাবে কাউকেই পাননি সায়ক। সেই কষ্টের কথাই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরলেন অভিনেতা।
সায়ক তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন তিনি নাকি নিজেকে শেষ করে দেওয়ার কথাও চিন্তা ভাবনা করেছিলেন। আসলে বছরের শুরুতেই ভুল করে গোমাংস পরিবেশন করা নিয়ে পার্কস্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁর কর্মীর সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়ান সায়ক। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানা-পুলিশ যেমন হয় তেমনি নানান কটাক্ষ-ট্রোলের মুখেও তাঁকে পড়তে হয়েছিল। সেই সময় একপ্রকার ঘরবন্দি হয়েই ছিলেন তিনি। বন্ধ ছিল তাঁর ডেইলি ভ্লগও। সায়ক লেখেন, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এই ৩ মাসে নিজেকে অনেক বার শেষ করে দেওয়ার কথা ভেবেছি, ভেবেছি আমি আমি না থাকলেই হয়তো ভাল। আমি আগে নিজের কথা ভাবতাম না, বন্ধুর বিপদে ঠিক পাশে থাকতাম,কাছের বন্ধুর সব সমস্যায় পাশে থেকেছি আর আমি যেই সমস্যায় পড়লাম সবাই লাথি মারতে থাকলো……। এখন ভাবি আমি যদি না থাকতাম তাহলে কারোর কিচ্ছু আসতো না, কিন্তু আমার পরিবার ভাল থাকতো না।
এরপর সায়ক জানান যে গত ৩ মাসে তিনি সবার আসল মুখ দেখে নিয়েছেন। সায়ক আক্ষেপের সুরে জানান, এই কঠিন সময়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে তিনি না থাকলে বাকি তথাকথিত বন্ধুদের কিচ্ছু যেত আসত না। তারা বড়জোর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিয়ে দুটো লাইনের সান্ত্বনা বাক্য লিখত। কিন্তু আসল ক্ষতি হতো তাঁর পরিবারের। এরপর অভিনেতা তথা ইউটিউবার লেখেন, এখনও খারাপ মোমেন্ট আসে, লোক বলে বন্ধুর ঘর ভেঙেছি, আবার এও বলে আমি Gay! গরু খেকো বলে, ছেঁড়া নাকি আমার, হিজড়ে, ছক্কা আরও কত কী। তবে এত আঘাত, অপমান আর নোংরামি সামলে সায়ক এখন মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্ত ও পরিণত। ট্রোলারদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সায়ক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যা সামলে তিনি এখনও বেঁচে আছেন, তারপর আর কোনো কিছুতেই তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি: ‘সো করতে থাকো খারাপ মোমেন্ট আর আমি আমার জীবনে এগোতে থাকি।
গত কয়েক মাস জুড়ে সায়ককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল হয়ে ছিল। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ, যৌন হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। এমনকী দাদা সব্যসাচী ও সুস্মিতার ডিভোর্সের পিছনে সায়কের ভূমিকা রয়েছে, এটাও অনেকে অভিযোগ তোলেন। প্রাক্তন বৌদি সুস্মিতাও কিছুমাস আসে একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন। এইসবের পরও সায়ক ঘুরে দাঁড়িয়েছেন নতুন করে। মা ও দাদাকে নিয়ে ভালই আছেন নিজের ব্যক্তিগত জীবনে। বরাবরই ট্রোল-কটাক্ষ এগুলো স্পর্শ করেনি সায়ককে। নিজের কাজ নিয়েই সর্বদা ব্যস্ত থেকেছেন এই ইনফ্লুয়েন্সার। এই মুহূর্তে মা ও দাদাকে নিয়ে মালেশিয়াতে সময় কাটাচ্ছেন সায়ক।