
চলতি বছরের গোড়াতেই আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। ঘটনার জল গড়ায় বহুদূর। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে দেবলীনা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ আনেন। এই ঘটনার পরই স্বামী প্রবাহ নন্দী ও দেবলীনা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এর মাঝে বেশ কয়েকটা মাসই কেটে গিয়েছে। এবার পাকাপাকিভাবে আইনি বিচ্ছেদের পথে হাঁটছেন বলে জানিয়েছেন দেবলীনা। দুই আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বারুইপুর আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলন করে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ দায়ের করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দেবলীনা নন্দীর আইনজীবী জানিয়েছন যে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গায়িকা দেবলীনার সঙ্গে বিয়ে হয় পেশায় পাইলট প্রবাহ নন্দীর। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই দেবলীনার উপর তাঁর স্বামী অত্যাচার করতেন। প্রবাহ মদ্যপন ও অন্য নেশাও করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিমান চালানোর আগের দিন সকাল থেকেই মদ্যপান করা শুরু করে দিত। ২০২৫ সালের এপ্রিলে, থাইল্যান্ডে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েও দেবলীনাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। এছাড়া প্রায় নিত্যদিন তাঁর হাত মুচড়ে দেওয়া, কনুই দিয়ে ঠেলে দেওয়ার মতো অত্যাচার লেগেই থাকত।
দেবলীনার আইনজীবীরা এও অভিযোগ করেন যে নিউটাউনের ফ্ল্যাটের ছতলা থেকে গায়িকাকে ধাক্কা মেরে ঠেলে ফেলে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। দেবলীনার শরীরে প্রায়ই মারের দাগ দেখা যেত। সে কারণে লোকসমক্ষে যেতে হলে মেকআপ দিয়ে সেই দাগ ঢাকা দিতে হত বলেই দাবি তাঁদের। সে সংক্রান্ত অডিও এবং ভিডিও ক্লিপ প্রমাণ হিসাবে আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানান আইনজীবীরা। দেবলীনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধেও খারাপ আচরণ করার অভিযোগ করা হয়।
দেবলীনার মাকে নিয়েও যে প্রবাহ ও তাঁর বাড়ির লোকেদের তীব্র আপত্তি ছিল, তা দেবলীনা বহুবার বলেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে। বাপের বাড়ির লোকজনের থেকে দেবলীনার বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা করতেন বলেই দাবি সঙ্গীতশিল্পীর। রীতিমতো তাঁকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেই দাবি। এরপর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন দেবলীনা। আর সেই কারণে গায়িকা আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। এবার বাধ্য হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে সঙ্গীতশিল্পী। প্রবাহ যাতে কোনওভাবে বিদেশে গিয়ে গা ঢাকা দিতে না পারেন, তাই তাঁর পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করার আর্জি জানানো হয়েছে। এই মুহূর্তে স্বামীর থেকে আলাদাই থাকছেন। বড়পর্দাতেও ডেবিউ করবেন গায়িকা।