
নানান কারণে তাঁকে প্রায়শই ট্রোলড হতে হয়েছে। তৃণমূল সরকারের একাধিক অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখে চটিচাটা তকমাও জুটেছে। ট্রোলড-কটাক্ষ এইসবকে জীবনে পাত্তা না দিয়ে একেবারে নিজের ছন্দে চলতেই অভ্যস্ত ইমন। গানের মাধ্যমেই সব সময় নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা করেন শিল্পী। প্লেব্যাক, লাইভ কনসার্ট, মাচা এইসবের পাশাপাশি গায়িকা কিন্তু লিলুয়াতে নিজের গানের স্কুলেও গান শেখান। সেখানে ইমনের রয়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রী। সম্প্রতি ইমনের গানের স্কুল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। যেখানে এক অভিনব পদ্ধতিতে গান শেখানে দেখা গেল গায়িকাকে।
ইমন সঙ্গীত অ্যাকাডেমিতে গায়িকা নিজেই গানের তালিম দেন তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের। আর সম্প্রতি সেই গানের স্কুলের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন গায়িকা। যেখানে তাঁর এক ছাত্রীকে প্ল্যাংক করা অবস্থায় গান গাইতে বলছেন গায়িকা। এমনিতে এটা সকলেই জানেন যে গত কয়েক বছরে ইমন যোগাসনের মাধ্যমে তাঁর ওজন কমিয়েছেন। কিন্তু এই প্ল্যাংক বা যোগাসন কী সত্যিই কন্ঠের ওপর প্রভাব ফেলে?
এই ভিডিওতে ইমন যোগাভ্যাস করতে করতে গলার রেওয়াজ করার পরামর্শ দিয়েছে। কুম্ভকাসনা (যাকে জিম-এর ভাষায় প্ল্যাংক বলা হয়) করতে করতে সরগম-এর সাতটি স্বর গাইতে হবে। এভাবেই ছাত্রছাত্রীদের গান শেখাচ্ছেন গায়িকা। ভারতীয় সঙ্গীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রশিক্ষণ ছোট থেকেই তাঁর নেওয়া। কিন্তু নিজের গানের পরিধিকে আরও বিস্তার করতে তিনি পাশ্চাত্য বা ওয়েস্টার্ন সঙ্গীতের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন। আর সেখান থেকেই কন্ঠকে সতেজ ও ভাল রাখার একাধিক পদ্ধতি শিখছেন গায়িকা। এক সংবাদমাধ্যমকে ইমন বলেন, শরীরে ‘কোর মাসল’ অর্থাৎ দেহের কেন্দ্রস্থলের পেশি যদি দুর্বল হয়, তা হলে তার প্রভাব গানের উপর পড়ে। পণ্ডিতেরা বলেন, নাভি থেকে শব্দের উৎপত্তি হয়। আমি এটা শুনে অবাক হতাম। এখন বুঝতে পারি, শরীরের কেন্দ্রের পেশি যত শক্তিশালী হবে, গান গাওয়া তত ভাল হবে।
ভিডিওতে গায়িকা তাঁর ছাত্রীকে এই উপদেশই দিচ্ছিলেন। ‘প্ল্যাংক’ অবস্থায় থেকে একটি স্বর কতক্ষণ ধরে রাখতে পারবে সঙ্গীতশিল্পী, তার উপর গান গাওয়া অনেকটাই নির্ভর করে। ইমনের কথায়, গান গাওয়ার ক্ষেত্রে দম রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা এখন কেউ বসে গান গাই না। মঞ্চে লাফালাফি করেই গাইতে হয়। ফুসফুসের সঙ্গে ‘কোর মাসল’-এর সহযোগিতাও সেখানেও প্রয়োজন। তাই যোগাভ্যাস আমার জীবনে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রাক্তন গায়িকা জানিয়েছেন যে গান গাওয়ার সময়ে মসৃণ শ্বাসপ্রশ্বাস রাখার জন্য যোগাভ্যাস, শরীরচর্চা, প্রাণায়াম করতেই হবে।
গান গাওয়ার ক্ষেত্রে ইমন বেশ কিছু নিয়মও মেনে চলেন। গায়িকা জানিয়েছেন তিনি দিনে একটা বা দুটোর বেশি ফোনে কথা বলেন না। রেগে গিয়ে চিৎকার করে কথা একদম বলেন না গায়িকা। এতে কন্ঠানালির উপরে চাপ পড়ে। খাওয়াদাওয়ার ওপরও রয়েছে একাধিক নিয়ম। পছন্দের আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয়, ফুচকার টক জল, টক দই সমস্ত বাদ দিয়েছেন।