
মন্তব্য পুরনো হলেও তার রেশ আজও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে প্রয়াত সাংসদ-অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায় ও তাঁর মেয়ে সোহিনীকে। নদিয়ার নাকাশিপাড়ার জনসভায় তাপস পালের বলা ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেব মন্তব্যের জন্য অভিনেতা জেল থেকে বেরিয়ে ক্ষমা চাইলেও, আজও স্ত্রী-কন্যাকে সেই মন্তব্যের দায়ভার নিয়ে চলতে হয়। নন্দিনী বা সোহিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় যখনই কোনও পোস্ট বা ছবি শেয়ার করেন, তখনই তাপস পালের বলা সেই পুরনো মন্তব্য টেনে নিয়ে তাঁদের ট্রোল-কটাক্ষ করা হয়। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। বিগ বস বাংলা থেকে এলিমিনেট হওয়ার পর তাপস পালের জন্মদিনে সোহিনী বাবাকে নিয়ে পোস্ট শেয়ার করেছিলেন আর সেখানেই তাপস-কন্যাকে পুরনো প্রসঙ্গ টেনে ক্রমাগত ট্রোল-কটাক্ষ করা হয়। এবার সেই নোংরা মন্তব্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ছিল প্রয়াত অভিনেতা-সাংসদ তাপস পালের জন্মদিন। সেদিন সোহিনী তাঁর বাবার ছবি ও সঙ্গে জন্মদিনের কেকের ছবি পোস্ট করেন। আর সেখানেই একের পর এক নোংরা কমেন্ট করা হয়। তাপস পালের সেই পুরনো মন্তব্যকে টেনে কেউ লেখেন, ওহ আপনিই তাহলে বাড়িতে ছেলে ঢোকানো নায়কে মেয়ে। আবার কেউ লিখলেন, কেক খাওয়ার কারণে ছেলে পাঠিয়ে দিন কেউ। কেউ লিখলেন, এই সেই রোজভ্যালির টাকা মেরেছিল না। আবার কেউ লিখেছে, এটা তো সেই ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেওয়া কাকু। একের পর এক এই ধরনের নোংরা ও খারাপ মন্তব্যে ভরে গিয়েছে সোহিনীর কমেন্ট বক্স। এবার মেয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন তাপস-পত্নী নন্দিনী।
এইসব কমেন্ট দেখার পর রীতিমতো বিরক্ত তাপস পালের স্ত্রী। সেই সব নোংরা কমেন্টের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নন্দিনী লেখেন, আমি এখানে মাত্র তিন-চারটি মন্তব্য তুলে ধরেছি। এমন শত শত মন্তব্য রয়েছে, যেগুলি আমি ইচ্ছা করেই প্রকাশ করিনি, কারণ সেগুলির ভাষা এতটাই অশ্লীল, কুরুচিকর ও অশালীন যে সেগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরার রুচি আমার নেই। আমি যা প্রকাশ করেছি, তা আমার মেয়ে সোহিনী যে লাগাতার আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তার সামান্য একটি ঝলক মাত্র। নন্দিনী জানান যে তাঁর মেয়ে বিগ বস বাংলা ৩-এ অংশগ্রহণের পর সোহিনী লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় হেনস্থা হচ্ছে, তাই আজ মা হিসাবে তিনি রুখে দাঁড়াচ্ছেন।
তাপস-পত্নী তাঁর পোস্টের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে এইসব কমেন্ট আসছে পরিচয়হীন প্রোফাইল, অপর্যাপ্ত তথ্যযুক্ত অ্যাকাউন্ট এবং অন্য প্রতিযোগীদের অনুরাগী বলে পরিচয় দেওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। নন্দিনী প্রশ্ন করেছেন, এরা কারা? তাপস পালের স্ত্রী এরপর বলেন, সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক হলো আমার প্রয়াত স্বামী তাপস পালকে টেনে এনে আমার মেয়েকে আক্রমণ করা। যে ঘটনা নিয়ে এত কথা, তা ঘটেছিল ২০১৪ সালে। তিনি অনুতপ্ত হয়েছিলেন এবং ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরিবার হিসেবেও আমরাও ক্ষমা চেয়েছি। আজ তিনি আর বেঁচে নেই। নন্দিনী দৃঢ়ভাবে বলেন যে তাঁর মেয়ে তাঁর বাবার কাজের জন্য দায়ী নয়। সে নিজের জন্মপরিচয় বেছে নেয়নি আর ২০১৪ সালে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার জন্য সোহিনীকে সারাজীবন শাস্তি পেতে হবে, তা একেবারেই কাম্য নয়, বলে জানান নন্দিনী।
নন্দিনী তাঁর পোস্টে এও বলেন যে তাপস পালের বলা মন্তব্যের জন্য কেন তাঁর মেয়েকে সেটা ভুগতে হবে। নন্দিনীর কথায়, পর্দার আড়ালে ঘটছে বলেই অনলাইন হেনস্থাকে নিরীহ ট্রোলিং বলে উড়িয়ে দেওয়া চলতে পারে না। দীর্ঘ পোস্টের প্রতিটি পরতে পরতে তাপস-পত্নী জানিয়েছেন মা হিসাবে তিনি আর কত সহ্য করবেন? মেয়ে সোহিনীকে ক্রমাগত ভার্চুয়ালি আক্রমণ করা এবার বন্ধ হোক বলেও জানান। একাধিক সাক্ষাৎকারে নন্দিনী নিজে জানিয়েছিলেন যে তাপস পালের সেই বেফাঁস মন্তব্যের জন্য তিনি নিজে অনুতপ্ত ছিলেন এবং স্ত্রী নন্দিনীও সেটাকে সমর্থন করেননি কোনওদিন। এই পোস্টের সঙ্গে তাপস পালের স্ত্রী কলকাতা পুলিশকে ট্যাগ করেন।