
বাংলা ফিল্ম দুনিয়াতেও ঘটুক প্রত্যাবর্তন, এই দাবি নিয়েই প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু চলছে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে। শুক্রবার EIMPA অফিসে ধুন্ধুমার কাণ্ড হওয়ার পর শনিবার ফের টেকনিশিয়ান স্টুডিও তোলপাড়। এদিন শনিবার টেকনিশিয়ানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরর্সরা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ দেখালেন। তাঁদের দাবি, গিল্ডের সদস্যপদ থেকে সরানো হোক স্বরূপ বিশ্বাসের নাম।
শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরর্সরা একাধিক বেনিয়ম নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন। সেখানেই নানান অভিযোগ উঠে আসে। গিল্ডের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, এই গিল্ডের মাথায় রয়েছেন যুগ্ম সম্পাদক অমিত কুমার সামন্ত। তিনি নিজের পরিচিত সদস্যদের ছাড়া কাউকে কাজ দেন না বলে জানিয়েছেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর্সরা। ডিরেক্টর গিল্ডের আরও দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম এবং স্বজন-পোষণ চলছে। ফেডারেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছর ৩১শে ডিসেম্বর। তা সত্ত্বেও গত ফেব্রুয়ারি মাসে অবৈধভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডে নির্বাচন হয়েছে। পুরোটাই স্বরূপ বিশ্বাসের কারণে হয়েছে বলে অভিযোগ।
গিল্ডের পক্ষ থেকে এও জানানো হয় যে স্বরূপ বিশ্বাস নিজেও অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের সদস্য। এই সহকারী পরিচালকেরা জানতে চান যে স্বরূপ বিশ্বাস কী করে এই গিল্ডের সদস্যপদ পেলেন এবং তিনি তাঁর জীবনে কোন ছবিতে সহকারী পরিচালকের ভূমিকায় কাজ করেছেন? আর যদি তিনি করেও থাকেন, সেটার প্রমাণ দিক গিল্ডকে, দাবি সহকারী পরিচালকদের। প্রসঙ্গত, বিশ্বাস ব্রাদার্সদের আমল থেকে বহু সহকারী পরিচালকের হাতেই কাজ নেই। শতবার কাজ চেয়েও কোনও সুরাহা করতে পারেননি অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসেরা।
সহকারী পরিচালকেরা ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটি টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে রিজেন্ট পার্ক থানায় তারা অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রত্যেকে একটা স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে চাইছেন। শুক্রবারই সভাপতি পদ থেকে পিয়া সেনগুপ্তকে হটানোর দাবিতে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। যে বৈঠক ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ইমপা অফিসে। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের পদত্যাগের দাবিতে অনড় বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। বৌবাজার থানাতেও এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। শেষমেষ অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুল্যান্সে ইম্পার অফিস ছাড়েন টলিউড অভিনেতা বনি সেনগুপ্তর মা পিয়া সেনগুপ্ত। আপাতত ইমপার সভাপতির চেয়ারে বসেছেন প্রযোজক রতন সাহা। পরবর্তীতে ইমপার নির্বাচনে ঠিক হবে কে হবেন সভাপতি।