
বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক চেনা মুখ রয়েছে, যাঁরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। বড় এবং ছোটপর্দার ভীষণ চেনা মুখ এই অভিনেত্রী। অত্যন্ত প্রাণখোলা এবং ভীষণই প্রাণবন্ত এই অভিনেত্রীকে দর্শকেরা প্রায়ই দেখে থাকেন টেলিভিশনের চেনা মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রেরণা ভট্টাচার্যের বিভিন্ন ভ্লগে। অভিনেত্রী এষা ভট্টাচার্যের মেয়ে প্রেরণা। আর বিনোদন দুনিয়ায় এষা খুবই পরিচিত মুখ। তবে এই মুহূর্তে একেবারেই ভাল নেই এই অভিনেত্রী। ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছেন তিনি। এখন কেমন আছেন ছোটপর্দার এই চেনা মুখ?
এই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৮ সালে অভিনেত্রী এষার প্রথম স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। অভিনেত্রীর কন্যা প্রেরণা তাঁর এক ভ্লগে জানিয়েছেন যে সেই সময় টিউমার অস্ত্রোপচারের পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তাঁর মা। এরপর পাঁচ বছর একেবারে সুস্থ ছিলেন এষা। কিন্তু আবারও সেই মারণ রোগ ফিরে এসেছে অভিনেত্রীর শরীরে। প্রেরণা জানিয়েছেন যে এই বছরের মে মাসে তাঁর মা বুঝতে পারেন যে প্রথমে যে স্তনে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেখানেই আবার যন্ত্রণা শুরু হচ্ছে। সব পরীক্ষা করে জানা যায় আবার ক্যান্সার হয়েছে।
এবারের ক্যান্সারটি আরও জটিল। ট্রিপল নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়ে অভিনেত্রীর। এরপরে জেনেটিক পরীক্ষা করে জানা যায়, মায়ের জিনে ক্যান্সার সেল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন যে অভিনেত্রীর দুটি স্তনই অস্ত্রোপচার করে বাদ দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়ে সম্মতি দেন অভিনেত্রী এষা নিজে। ঠিক হয়েছিল কেমোথেরাপির পরে অস্ত্রোপচার হবে। কিন্তু প্রথম কেমো নেওয়ার পরে শরীরে জটিলতা ধরা পড়ে এষার। প্রেরণা তাঁর ভিডিওতে জানান যে প্রথম কেমোর চার ঘণ্টা পরেই মায়ের এত বাড়াবাড়ি হয়ে যায় যে, আইসিইউ-তে ভর্তি করতে হয়। টানা ২২দিন হাসপাতালে ছিলেন অভিনেত্রী এষা।
সম্প্রতি বাড়ি ফিরে এসেছেন তিনি। তবে কেমো থেরাপির কারণে মাথার সব চুল উঠে গিয়েছে। কিন্তু মনের জোর একটুও কমেনি অভিনেত্রীর। এখনও নিজের অসুস্থতার সঙ্গে হাসিমুখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে পেয়েছেন তাঁর কন্যা প্রেরণাকে। মায়ের অসুস্থতার কারণে সেভাবে কাজও করতে পারেননি অভিনেত্রী। মাকে নিয়েই কাটছে তাঁর দিন। এষার শরীর বেশ দুর্বল। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। অতীতে প্রেরণার ভ্লগেই দেখা গিয়েছিল সাজতে কতটা ভালোবাসেন এষা। মেয়ের অনুপ্রেরণায় সেই সাজগোজ এখনও বজায় রেখেছেন।