Advertisement

Bengali Movie In Puja 2026: পুজোয় দেব-শুভশ্রী VS সৃজিত VS শিবপ্রসাদ VS একেনবাবু, কী কী বাংলা ছবি?

এই বছর দুর্গাপুজোতেও কিছু ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে পুজোর সময় হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে যেতে পছন্দ করছেন দর্শকেরা। পুজো দেখার পাশাপাশি সিনেমা দেখার ঝোঁকও বাড়ছে বাঙালি দর্শকের মধ্যে।

পুজোর একাধিক বাংলা ছবির মুক্তিপুজোর একাধিক বাংলা ছবির মুক্তি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 13 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:05 PM IST
  • এই বছর দুর্গাপুজোতেও কিছু ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

দেখতে দেখতে চলতি বছরের ৬ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু বাংলা ছবিও মুক্তি পেয়েছে এর মধ্য়ে। কিছু ছবি দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে আবার কিছু ছবির দিকে ফিরেও তাকাননি দর্শকেরা। এই বছর দুর্গাপুজোতেও কিছু ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে পুজোর সময় হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে যেতে পছন্দ করছেন দর্শকেরা। পুজো দেখার পাশাপাশি সিনেমা দেখার ঝোঁকও বাড়ছে বাঙালি দর্শকের মধ্যে। ছাব্বিশের পুজোতে টক্কর হতে চলেছে দেব বনাম সৃজিত বনাম শিবপ্রসাদ-নন্দিতার। এই বছর দেবের পরিচালনায় ডেবিউ। তাই দুই দুঁদে পরিচালকদের সঙ্গে দেবের মারকাটারি লড়াই হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। 

এ বছরের পুজোয় একেবারে হাড্ডাহাড্ডি টক্কর যাকে বলে। দেব-শুভশ্রীর দেশু৭, সঙ্গে একেনবাবু, বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু আর অবশ্যই সৃজিতের এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র। চার-চারটে জোরদার বাংলা ছবি ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা-উত্তেজনা যে তুঙ্গে থাকবে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশু৭ দিয়ে দেবের পরিচালনায় হাতেখড়িও বটে। তাই এই তিন পরিচালকের সঙ্গে দেবের টক্কর যে জোরদার হবে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

দেশু৭
বছরের শুরুতেই দেব দেশু৭-এর ঘোষণা করে দর্শকদের নিজের দিকে টানতে কিছুটা হলেও সফল হয়েছেন। গত বছর দেব-শুভশ্রীর ধূমকেতু বক্স অফিসে ঝড় তোলার পর দর্শক ও ভক্ত-অনুরাগীরা চেয়েছিলেন যে বড়পর্দায় আবার দেব-শুভশ্রী ফিরুক। তাঁদের ইচ্ছে যে এত তাড়াতাড়ি পূরণ হবে তা ভাবতে পারেননি কেউ। ২০২৬-এর গোড়াতেই শুভশ্রীকে সঙ্গে নিয়ে দেব ঘোষণা করলেন তাঁরা আবার একসঙ্গে বড়পর্দায় জুটি বাঁধতে চলেছেন। দেশু৭-এ একাধিক চমক রয়েছে। এই ছবি দিয়ে দেব যেমন পরিচালনায় হাত পাকাচ্ছেন, তেমনি দেশু৭-এ ফিরছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। যিনি বিশ্বাস ব্রাদার্স-এর আমলে ব্যান ছিলেন। প্রথম থেকেই দেশু৭ একের পর এক চমক ও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। শ্যুটিংও শুরু হয়ে গেছে। আপাতত জোরদকমে চলছে ছবির শ্যুটিং। ছবির শ্যুটিং শুরু হওয়ার আগে থেকেই দেশু৭-এর টিকিট বুকিং হয়ে গিয়েছে। ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো-এর টিকিট বুক হয়ে গেছে। অর্থাৎ দেশু৭-এর ফার্স্ট শো হাউসফুল বলা যেতে পারে। আগামী ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাবে দেশু৭। এই ছবি ঘিরে উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যে তুঙ্গে। 

Advertisement
ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

একেনবাবু ফিরছে পুজোতে
এই বছরের পুজোতে দেব-শুভশ্রীর সঙ্গে টক্কর দিতে আসছেন একেনবাবু। পুজোয় বড়পর্দায় মুক্তি পাবে ‘দ্য একেন: কেরালায় কুরুক্ষেত্র’। একেনবাবু অর্থাৎ অনির্বাণ চক্রবর্তীর এই চরিত্রকে পছন্দ করে আট থেকে আশি সকলে। তাই বাচ্চা থেকে বুড়ো, পরিবার সকলে মিলে এই একেনবাবু দেখতে ভিড় জমাতে পারেন, তেমনটাই মনে করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই ‘একেন’ রূপে তিনি বড়পর্দা কাঁপাতেই আসেন। এ বার আবার এই ছবিতে কেরলে রহস্য সন্ধানে যাবেন তিনি। একেনবাবু যে ভাল রকম বেগ দিতে পারেন, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এসভিএফ প্রযোজিত এই ছবি পুজোর সময় মুক্তি পাবে। 

ছবি সৌজন্যে: সংগৃহীত

‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’
নন্দিতা রায় আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বহু আগেই চেনা ছন্দ থেকে বেরিয়ে অন্য ধরনের ছবি তৈরিতে মন দিয়েছে। ২০২৪ সালে বহুরূপীর অভাবনীয় সাফল্যের পর এই পরিচালক দ্বয় নিয়ে এসেছে ‘বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকু’। নববর্ষের দিন থেকে শুরু হয়েছে শ্যুটিং। এই সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কথা দুর্গাপুজোর সময়। ছবিতে রয়েছেন যিশু সেনগুপ্ত, কৌশানী মুখোপাধ্যায়। চব্বিশ সালের পুজোর বক্স অফিসে ‘গেমচেঞ্জার’ হিসেবে নাম লিখিয়েছিল নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বহুরূপী’। বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, এমনকী আন্তর্জাতিকস্তরের স্ক্রিনিংয়েও দর্শককুলের প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছিল ছ্যাঁচড়াপুরের ‘ছিঁচকে’ নয়, বরং ভালোবেসে ডাকাতি করা ‘বিক্রম’। দু’বছর পর আবারও পুজোর পর্দায় সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে ‘বহুরূপী’রা। তবে এবার যে ডাকাতি আরও বড় পরিসরে হবে, সেই ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন নন্দিতা-শিবপ্রসাদ। যিশু বনাম শিবপ্রসাদের ডাকাতিযুদ্ধে এবার খেলা জমে আরও ক্ষীর হবে, তেমনটা আন্দাজ করাই যায়। সেখান থেকেই ক্ল্যাপস্টিক হাতে পুজোর বক্স অফিস ‘লুটে’র আগাম আভাস দিয়েছে উইন্ডোজ। 

ছবি সৌজন্যে: ফেসবুক

সৃজিতও রয়েছেন পুজোতে
এই পুজোতে অবশ্যই রয়েছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। নন্দী মুভিজ় প্রযোজিত ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ এ বার পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। টোটা রায়চৌধুরী ও আবির চট্টোপাধ্যায়ের দ্বৈরথ বাকি ছবিগুলির ক্ষেত্রে মাথা ব্যথার কারণ হলেও হতে পারে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লুকে টোটার লুক ইতিমধ্যেই ভাইরাল। চিরকাল রোমান্টিক ট্র্যাজেডির আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া শরৎচন্দ্রের সেই বিপ্লবী, নির্ভীক রূপটিকে পর্দায় ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন টলিউডের ‘ফার্স্ট বয়’ সৃজিত। ৫৯ মিনিটের প্রি-টিজারেও বেশ চমক রয়েছে, যা দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট। প্রদীপ কুমার নন্দী প্রযোজিত এই ছবির মূল অনুপ্রেরণা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উপন্যাস ‘পথের দাবী’। ১৯২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হওয়া এই বইটি তৎকালীন ব্রিটিশ শাসককে এতটাই কাঁপিয়ে দিয়েছিল যে, ১৯২৭ সালের জানুয়ারি মাসেই ইংরেজ সরকার এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালে ‘পথের দাবী’ উপন্যাস প্রকাশের ১০০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তার ঠিক আগের বছর, অর্থাৎ চলতি বছর ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোতেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’।

কার দখলে থাকতে পারে বক্স অফিস?
দেশু৭-এ গল্প রোম্যান্স ও অ্যাকশনধর্মী, তা আগেই শোনা গিয়েছিল। অপরদিকে বাকি তিন ছবির কাহিনীও যথেষ্ট জোরদার। যদিও প্রচারের দিক থেকে দেশু৭ অনেকটাই এগিয়ে বাকি ৩ সিনেমার চেয়ে। কারণ বাকি ৩টে ছবি শুধুমাত্র ঘোষণা ও প্রি-টিজার লঞ্চ করেছে। তার ওপর বড়পর্দায় দেব-শুভশ্রীর কামব্যাক, ৩ তাবড় তাবড় পরিচালকদের কপালেও চিন্তার ভাঁজ যে ফেলেনি, তা নিশ্চিত করে বলাটা ঠিক নয়। যদিও শেষ খেলা দেখাবেন সেই দর্শক জনার্দনই। তাঁদের হাতেই রয়েছে ছবি হিট নাকি ফ্লপ করার গুরু দায়িত্ব। তবে বক্স অফিসে এই চার ছবি যে বড়সড় টক্কর দেবে একে-অপরকে, তা বেশ ভালই বোঝা যাচ্ছে। 
 

Advertisement

Read more!
Advertisement
Advertisement