
ছাব্বিশের নির্বাচন এ রাজ্যের চিত্রটা অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বঙ্গে পদ্মফুল ফোটার পর টলিউডের দৃশ্যটাও একেবারে বদলে গিয়েছে। যে সব তারকাদের একটা সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে দেখা যেত, পালা বদলাতেই তাঁদের গলার সুরও পাল্টে যেতে শুরু করল। সেই তালিকায় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। রোজই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এই ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে প্রত্যাবর্তন হতে না হতেই সুর বদলে ফেলেছিল দেবও। এবার আরও একধাপ এগিয়ে নতুন সরকারের কাছে নিজের দাবি রাখলেন অভিনেতা।
শুক্রবার এক মাল্টিপ্লেক্সে এক ছবির প্রিমিয়ারে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব বলেন, 'সরকারের প্রতি বাংলার মানুষের বিশ্বাস আছে, আমারও বিশ্বাস আছে। এইটুকু বলবো সকলকে একটু ধৈর্য্য ধরুন। সরকার চালানো এত সোজা নয় যে, একমাসে মধ্যে আমরা সমস্ত ফলাফল পাবো। আমার মনে হয় এই সরকারকে এক বছর সময় দেওয়া উচিত। যে কোনও সরকারের নানা সিদ্ধান্তও তা বাস্তবায়ন করতে, তার ফল পেতে এক বছর সময় লাগে। আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমি যে ভাবে সাফার করেছি, সেটা আর হবে না বলেই আমার বিশ্বাস।'
এর পাশাপাশি দেবকে স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিনেতা বলেন, ‘আমার মনে হয় এই বিষয়টা আমি এখনই কিছু বলতে পারবো না। কারণ সত্যি আমি এই বিষয়টা এখনও জানি না। আগের সরকারের ক্ষেত্রে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডটা নিয়ে আমি জানতাম। নতুন সরকার হয়েছে এখনও একমাসও হয়নি। এই সরকারকে সুযোগ দেওয়া উচিত। এই সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। সব কিছুর সিস্টেমটাও নতুন। আমার বিশ্বাস যে এই সরকার নিশ্চয়ই ভালো কাজ করবে। কাজের সুযোগও বাড়বে। আমার শুভেচ্ছা।
প্রসঙ্গত, গত সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়েই দেবের সঙ্গে তৎকালীন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের মতভেদ দেখা গিয়েছিল। টেকনিশিয়ানদের জন্য দেব স্বাস্থ্যসাথী কার্ড বানানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন দেব। কিন্তু এই উদ্যোগকে সাধুবাদ না জানিয়ে বেঁকে বসেছিলেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি। নানান বাধা পেরিয়ে দেব বহু টেকনিশিয়ানকে ‘স্বাস্থ্যসাথী’র আওতায় আনেন। তবে নতুন সরকার রাজ্যে আসীর পর অনেকের মনেই সংশয় ছিল এই সরকারি প্রকল্পটি আদৌও থাকবে কিনা। যদিও পরে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে আপাতত নকল্যানমূলক প্রকল্প চালু থাকছে। ফলে চালু থাকছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ও।