
সম্পর্ক অনেকদিনের এবং তা নিয়ে কোনও লুকোছাপাও কোনওদিন করেননি অভিনেতা অনুভব কাঞ্জিলাল এবং অনুষ্কা চক্রবর্তী। কিছুদিন আগেই এক ছবির প্রিমিয়ারে এসে এই জুটি জানিয়েছিলেন খুব শীঘ্রই তাঁরা বিয়ে করছেন। এবার সেই পরিণতি হওয়ার একধাপ এগোনোর কাজ সারলেন অনুভব ও অনুষ্কা। একেবারে ঘরোয়াভাবে বাগদানপর্ব সেরে নিলেন তাঁরা। দুই পরিবার ও কাছের বন্ধুদের নিয়েই শুভ কাজ করলেন এই জুটি। এবার পালা কবে এঁদের বিয়ের।
সম্পর্কের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর। এই সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেম যেমন বেড়েছে তেমনি মান-অভিমান, রাগ-অনুরাগও হয়েছে যথেষ্ট। তবে একে-অপরের হাত ছাড়েননি তাঁরা। এনগেজমেন্টের দিন অনুভব পরেছিলেন ক্রিমরঙা পাঞ্জাবি এবং আকাশি পাড়ের সাদা ধুতি। অনুষ্কার পরনে ছিল রানি রঙের চওড়া পাড় সিল্কের শাড়ি, বেগুনি ডিজাইনার ব্লাউজ, গলায় সীতাহার, সঙ্গে মানানসই কানের দুল, হাতে বালা, আংটি আর মাথায় টিকলি। হালকা মেকআপ, কপালে ছোট্ট টিপ, চোখে কাজল। ‘হীরালাল’ ছবিটির মুক্তির সময় প্রথম দেখা দু’জনের। তার পরে সম্পর্কের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে দু’জনে একসঙ্গে।
ঘরোয়া আয়োজন হলেও খাওয়া-দাওয়া ছিল জম্পেশ। অতিথিদের আপ্যায়নে রাখা হয়েছিল মুখরোচক সব খাঁটি বাঙালি পদ। ভোজের শুরুতেই আড্ডার সঙ্গ দিতে গরম গরম মুচমুচে ফিশফ্রাই পরিবেশন করা হয়। এরপর মূল ভোজের থালিতে ছিল ধোঁয়া ওঠা গরম সাদা ভাত, সুগন্ধি পোলাও আর ফুলকো গরম লুচি। পদের বৈচিত্র্যে ছিল ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে বানানো ঐতিহ্যবাহী কচুশাক, মুখে জল আনা কচুপাতা চিংড়ি, মালাইয়ের স্বাদে ভরা দই কাতলা এবং জম্পেশ মশলাদার খাসির মাংস। আর ভোজ শেষে মিষ্টিমুখের জন্য রাখা হয়েছিল মুচমুচে পাঁপড়, চাটনি, গাঢ় ক্ষীরের সুস্বাদু পায়েস এবং নানাবিধ ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি।
কবে বিয়ে করছেন অনুভব-অনুষ্কা? আংটি বদল এই বছর সারলেও, বিয়ে চলতি বছরে করছেন না। ২০২৭ সালে জাঁকজমক করে বিয়ে করার ইচ্ছে রয়েছে অনুভবের। যেখানে পরিবার-বন্ধুবান্ধবদের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সবাই উপস্থিত থাকবেন। এখন অনুভব কাঞ্জিলাল ‘কম্পাস’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। অনুষ্কাও ‘আমাদের দাদামণি’ ধারবাহিকের পরে সদ্য একটি শর্ট ফিল্মের কাজ করলেন। অনুষ্কা ও অনুভব দুজনেই ইন্ডাস্ট্রির ভীষণ চেনা মুখ। সম্পর্কের পাশাপাশি দুজনেই কেরিয়ার নিয়ে বেশ সিরিয়াস।